প্রধানমন্ত্রীর সফর মৌলভীবাজারের প্রত্যাশা, বঞ্চনা ও অপূর্ণ দাবির হিসাব

ছবি সংগৃহীত
ছবি সংগৃহীত
।। এস এম মেহেদী হাসান ।।

দীর্ঘ ১৩ বছর পর দেশের প্রধানমন্ত্রীর মৌলভীবাজার সফরকে ঘিরে জেলার মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছিল। চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল থেকে শুরু করে রাজনগর, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, বড়লেখা, জুড়ী ও সদর উপজেলা পর্যন্ত সর্বত্র ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। সরকারি উদ্যোগে সৌন্দর্যবর্ধন, সড়ক সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও ছিল ব্যাপক প্রস্তুতি।

কিন্তু সফর শেষ হওয়ার পর এখন একটি প্রশ্ন ক্রমেই উচ্চারিত হচ্ছে: এই সফর থেকে মৌলভীবাজারবাসী কী পেল?

২০২২ সালের জনশুমারি ও গ্রহগণনা অনুযায়ী, মৌলভীবাজার জেলার জনসংখ্যা ২১ লাখ ২৩ হাজার ৪৪৭ জন। চা শিল্প, পর্যটন, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ, গ্যাস সম্পদ ও কৃষি অর্থনীতির কারণে জাতীয় অর্থনীতিতে জেলার গুরুত্ব অনেক। অথচ জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক অবদান এবং সম্ভাবনার তুলনায় মৌলভীবাজারের বহু গুরুত্বপূর্ণ দাবি বছরের পর বছর ধরে অপূর্ণ রয়ে গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর তাই শুধু একটি রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কর্মসূচি ছিল না; এটি ছিল জেলার দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, উন্নয়ন বৈষম্য এবং অপূর্ণ প্রত্যাশার হিসাব-নিকাশেরও একটি উপলক্ষ।

মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিমানবন্দর: কেন এখনো অপেক্ষা?

মৌলভীবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।

জেলায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল থাকলেও চিকিৎসা ও চিকিৎসা শিক্ষার কোনো সুযোগ নেই। উন্নত চিকিৎসার জন্য এখনো অনেক রোগীকে সিলেট বা ঢাকায় ছুটতে হয়। একইভাবে জেলার শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।

প্রবাসী অধ্যুষিত এই জেলার হাজার হাজার শিক্ষার্থী প্রতিবছর উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে যেতে বাধ্য হয়। স্থানীয়ভাবে উচ্চশিক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি না হওয়ায় জেলার মেধা ও অর্থ উভয়ই বাইরে চলে যাচ্ছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঐতিহাসিক শমশেরনগর বিমানবন্দর।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর বিমানবন্দর মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪২ সালে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত এই বিমানবন্দর দীর্ঘদিন ধরেই অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। দেশভাগের পর ১৯৪৭ সালে এর নামকরণ করা হয়। কারিগরি ত্রæটির পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী ১৯৯৫ সালে অ্যারোবেঙ্গল এয়ার সার্ভিসেস (অবৎড় ইবহমধষ) সাময়িকভাবে কিছু ফ্লাইট চালু করলেও লাভজনক না হওয়ায় তা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে রানওয়ের সক্ষমতা ও অবকাঠামোর অভাবে এটি আর বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার উপযোগী থাকেনি। পর্যটনসমৃদ্ধ মৌলভীবাজারে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হলে শুধু পর্যটন শিল্প নয়, প্রবাসী ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ও ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলার মানুষ আশা করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে অন্তত এসব বিষয়ে কোনো নীতিগত ঘোষণা বা সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে। কিন্তু সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

চায়ের রাজধানীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনা

বাংলাদেশের চা শিল্পের প্রাণকেন্দ্র মৌলভীবাজার। দেশের ১৬৮টি চা বাগানের মধ্যে সিলেট বিভাগের ১৩৪টি, তারমধ্যে ৯০টি মূল চা বাগান এবং ফাঁড়ি বাগানসহ ১১৪টি চা বাগান এই জেলায় অবস্থিত।

দেশের সবচেয়ে বেশি চা উৎপাদন হয় এখানেই। অথচ চা শিল্পের প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কাঠামোর বড় অংশ এখনো জেলার বাইরে কেন্দ্রীভূত।

২০১২ সালে শ্রীমঙ্গলে দেশের দ্বিতীয় চা নিলাম কেন্দ্র চালু করা হয়েছিল। পরবর্তী এক বছরের মধ্যে চট্টগ্রামস্থ চা নিলাম কেন্দ্র বন্ধ করে, শ্রীমঙ্গলেই হবে একমাত্র চা নিলাম কেন্দ্র। মৌলভীবাজারবাসীর তখন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, ধীরে ধীরে দেশের চা নিলাম কার্যক্রম শ্রীমঙ্গলে কেন্দ্রীভূত হবে এবং চায়ের রাজধানী প্রকৃত অর্থেই জাতীয় চা বাণিজ্যের কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

কিন্তু এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

চা শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, উৎপাদনের কেন্দ্র যেখানে, নিলাম ব্যবস্থাও সেখানে থাকা উচিত। একইভাবে বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ও চা উৎপাদন অঞ্চলের কাছাকাছি স্থানান্তরের দাবি দীর্ঘদিনের।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, দেশের সবচেয়ে বড় চা উৎপাদন অঞ্চলের মানুষ কেন এখনো চা শিল্পের পূর্ণ অর্থনৈতিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকবে?

শ্রীহট্ট স্পেশাল ইকোনমিক জোন: সম্ভাবনা না অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি?

মৌলভীবাজারের অন্যতম সম্ভাবনাময় প্রকল্প শ্রীহট্ট স্পেশাল ইকোনমিক জোন।

ব্যবসায়ী মহলের মতে, প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি।

জেলার তরুণদের একটি বড় অংশ কর্মসংস্থানের অভাবে ঢাকামুখী অথবা বিদেশমুখী হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক অঞ্চল শুধু বিনিয়োগ নয়, স্থানীয় অর্থনীতির গতিশীলতার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর সফরে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা প্রত্যাশা করেছিলেন অনেকেই।

পর্যটনের জেলা, কিন্তু যোগাযোগে সংকট

মৌলভীবাজার দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন জেলা। শ্রীমঙ্গলের চা বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবকুÐ জলপ্রপাত, হামহাম জলপ্রপাত, হাকালুকি হাওর, বাইক্কা বিলসহ অসংখ্য পর্যটনকেন্দ্র প্রতিবছর লাখো পর্যটককে আকর্ষণ করে। তবুও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এখনো বড় সমস্যা।

শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট সংকট দীর্ঘদিনের অভিযোগ। পর্যটনের মৌসুমে অনেক যাত্রী কাক্সিক্ষত  ট্রেনের টিকিট পান না।

একইভাবে ঢাকা-সিলেট রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপনের দাবিও বহুদিনের। এবং মৌলভীবাজার ও রাজনগর দিয়ে রেল লাইন নিমার্ণ করা।

সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে মৌলভীবাজার হয়ে শেরপুর পর্যন্ত সড়ককে চার লেনে উন্নীত করার দাবি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজ বহুদিন ধরে জানিয়ে আসছে।

পরিত্যক্ত বাস টার্মিনাল ও নগর ব্যবস্থাপনার সংকট

মৌলভীবাজার শহরে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক বাস টার্মিনাল কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে আছে।

ফলে দূরপাল্লার ও আন্তঃজেলা বাসগুলো এখনো শহরের বিভিন্ন স্থানে যাত্রী ওঠানামা করায়। এতে যানজট বাড়ছে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে এবং নগর ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার স্থবিরতা নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে।

নাগরিকদের অভিযোগ, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশান সনদসহ বিভিন্ন সেবা পেতে সাধারণ মানুষকে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

রাজনগর ও প্রান্তিক জনপদের দীর্ঘ অপেক্ষা

রাজনগর উপজেলা দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বৈষম্যের অভিযোগ করে আসছে। গ্যাস সংযোগ, সুপেয় পানির স্থায়ী ব্যবস্থা, পৌরসভা ঘোষণা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখানকার মানুষের প্রধান দাবি।

একইভাবে কাজিরবাজার খেয়াঘাটে একটি সেতু বা নিরাপদ পারাপার ব্যবস্থার দাবিও বহু বছরের।

প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করেন। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

কুশিয়ারা নদীর ভাঙন রোধ, মনু নদীর ওপর দ্বিতীয় সেতু এবং বিভিন্ন হাওর ও খাল পুনঃখননের দাবিও নতুন নয়।

চা শ্রমিকদের জীবনমানের প্রশ্ন

চা শিল্প মৌলভীবাজারের অর্থনীতির ভিত্তি হলেও চা শ্রমিকদের জীবনমান এখনো জাতীয় আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

মজুরি, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং ভূমি অধিকারের প্রশ্নে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন শ্রমিকরা।

চা শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের আশা ছিল, প্রধানমন্ত্রীর সফরে অন্তত এই জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে নতুন কোনো দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে।

রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে আরেকটি প্রশ্ন স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছে।

জেলার সব সংসদ সদস্য এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য একই রাজনৈতিক দলের হওয়ায় এবং সংসদের বিরোধী দলীয় নেতার নিজ জেলা হিসেবে, সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের সুযোগও তুলনামূলক বেশি ছিল।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগেই জেলার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, ব্যবসায়ী সংগঠন, পেশাজীবী প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধিদলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক করা প্রয়োজন ছিল।

সেখানে জেলার অগ্রাধিকারভিত্তিক দাবিগুলো উপস্থাপন করে নীতিগত সিদ্ধান্ত বা প্রতিশ্রæতি আদায়ের চেষ্টা করা যেত।

কারণ সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর জেলা সফরের কর্মসূচি আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে। ফলে সফরের দিন নতুন কোনো বৃহৎ প্রকল্প ঘোষণা করার সুযোগ অনেক ক্ষেত্রে সীমিত থাকে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, সফরের আগে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, শমশেরনগর বিমানবন্দর, চা বোর্ড, পূর্ণাঙ্গ চা নিলাম কেন্দ্র, ইকোনমিক জোন কিংবা যোগাযোগ অবকাঠামোর মতো বিষয়গুলো আরও জোরালোভাবে সামনে আনা সম্ভব হতো।

প্রত্যাশার ভার কি আরও বাড়ল?

প্রধানমন্ত্রীর সফর নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধনসহ বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। কিন্তু মৌলভীবাজারবাসীর প্রত্যাশা ছিল আরও বড়।

তারা চেয়েছিল জেলার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ। তারা চেয়েছিল দীর্ঘদিনের অপূর্ণ দাবিগুলোর বিষয়ে বাস্তবসম্মত অগ্রগতির বার্তা। তারা চেয়েছিল চায়ের রাজধানী, পর্যটনের জেলা এবং প্রবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলের জন্য বিশেষ গুরুত্ব।

শেষ কথা : মৌলভীবাজার শুধু একটি জেলা নয়; এটি বাংলাদেশের চা শিল্পের কেন্দ্র, পর্যটনের অন্যতম প্রধান গন্তব্য, প্রবাসী আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস এবং প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল। তবুও জেলার মানুষ বছরের পর বছর ধরে কিছু মৌলিক দাবি নিয়ে অপেক্ষা করে যাচ্ছে। সরকারি মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, শমশেরনগর বিমানবন্দর, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন , পূর্ণাঙ্গ চা নিলাম কেন্দ্র, বাংলাদেশ চা বোর্ডের কার্যক্রমের বিকেন্দ্রীকরণ, শ্রীহট্ট স্পেশাল ইকোনমিক জোন, উন্নত সড়ক ও রেল যোগাযোগ, মৌলভীবাজারে একটি সার্ভে ইনস্টিটিউট, একটি প্যাথলজি ইনস্টিটিউট স্থাপন, কুশিয়ারা নদীর ভাঙন রোধে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ, রাজনগর-বালাগঞ্জ খেয়াঘাট সেতু ও সদর উপজেলার কাজিরবাজার খেয়াঘাটে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্থানীয় নাগরিক সেবার আধুনিকীকরণ শুধু উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এগুলো জেলার ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির পূর্বশর্ত। ১৩ বছর পর প্রধানমন্ত্রীর এই সফর নতুন আশার জন্ম দিয়েছে। এখন সেই আশাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার দায়িত্ব নীতিনির্ধারক, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের। অন্যথায় উৎসবের আবহ মিলিয়ে যাবে, কিন্তু মৌলভীবাজারের দীর্ঘদিনের প্রশ্নগুলো আবারও উত্তরহীন থেকে যাবে।

মুক্তিবাণী

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও