থানায় নারীকে যৌন নির্যাতন: তদন্ত কমিটি গঠন

মুক্তিবাণী অনলাইন ডেস্ক :

বরিশালের উজিরপুর থানায় এক নারী আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তে ২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রেঞ্জ ডিআইজি মো. আক্তারুজ্জামান রোববার (০৪ জুলাই) এ কমিটি গঠন করে পরবর্তী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ওই আসামির শারীরিক পরীক্ষা শেষে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছেন।

প্রতিবেদনে তার বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। বরিশালের উজিরপুর থানায় দুইদিন রিমান্ড শেষে গত ২ জুলাই যখন ওই নারীকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উজিরপুর আমলী আদালতে হাজির করা হয় তখন খুঁড়িয়ে হাঁটছিলেন তিনি।

তাৎক্ষণিক আদালত একজন নারী কনস্টেবল দিয়ে একটি কক্ষে নিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের প্রথমিক প্রমাণ পান। আদালত তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদানের পাশাপাশি তার শরীরিক পরীক্ষার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালককে।

একই সঙ্গে আদালত নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করতে ওই নারীকে সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয় রেঞ্জ ডিআইজি এবং পুলিশ সুপারকে। কিন্তু ওই নারী নির্যাতনকারীর নাম উল্লেখ করেননি। এ কারণে নির্যাতনকারী শনাক্তে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে রোববার রেঞ্জ ডিআইজি মো. আক্তারুজ্জামান ২ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পুলিশ সুপার কাজী মো. সোয়াইব এবং বরিশাল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটিকে পরবর্তী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশালের অতিরিক্ত ডিআইজি একেএম এহসান উল্লাহ বলেন, নারী আসামিকে নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে আদালতের নির্দেশে গত শনিবারই ওই নারীর শারীরিক পরীক্ষার প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শের-ইবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতলের পরিচালক। প্রতিবেদনে উল্লেখিত বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি তিনি। শের-ই বাংলা মেডিকেলের গাইনি বিভাগের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মহসেনা আক্তার এই ইনজুরি প্রতিবেদন তৈরি করেন।

পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন বরিশাল মানবাধিকার জোটের যুগ্ম সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, রিমান্ডে নারী আসামিকে শারীরিক এবং যৌন নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হলে পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। এতে পুলিশের মধ্যে এই ধরনের অপরাধ প্রবণতা কমবে বলে জানান এই মানবাধিকার নেতা।

বর্তমানে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন মিনতি। গত ২৬ জুন বরিশালের উজিরপুরের জামবাড়ি এলাকায় এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি মিনতি বিশ্বাস। এই মামলার আসামি হিসেবে ওইদিনই মিনতিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। হত্যার ক্লু উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছিল উজিরপুর থানা পুলিশ।

সর্বশেষ আপডেট: ৪ জুলাই ২০২১, ২৩:৫৪
মুক্তিবাণী

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

ভিডিও