জামায়াত কি ভারতীয় আধিপত্যবাদে নমনীয় হচ্ছে? উপেক্ষিত আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী! ব্যাথিত ভক্তরা

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
মুক্তিবাণী অনলাইন ডেক্সঃ

কুরআনের পাখি খ্যাত আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর (রহি) দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার। ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একজন স্পষ্টভাষী সমালোচক ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এই গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াত ‌নেতা। ভারতীয় গোলাম শাসকগোষ্ঠীর চরম আতঙ্ক ছিলেন তিনি। তাঁর রাজনৈতিক জীবন এবং বক্তৃতায় বিভিন্ন সময়ে তিনি ভারত-বিরোধী অবস্থান প্রকাশ করে ইসলাম প্রিয় ও দেশপ্রেমিক ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তাঁর সমর্থকরা মনে করেন, এই ভারত-বিরোধী অবস্থানের কারণেই তিনি রাজনৈতিকভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন।

১৪ আগস্ট আল্লামা সাঈদীর দ্বিতীয় শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে কেন্দ্রীয়ভাবে তেমন কোন কর্মসূচি ঘোষণা করতে দেখা যায়নি। যদিও দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির উদ্যোগে বিচ্ছিন্নভাবে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল, দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণসহ আরো বিস্তৃত পরিসরে কর্মসূচি গ্রহণ না করায় ব্যথিত হয়েছেন সাঈদী ভক্তরা।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ঘেটে দেখা যায়, দ্বিতীয় শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে দলটির বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বিভিন্ন অবদানের কথা স্মরণ করে এবং তার মৃত্যুকে ‘শহীদি মৃত্যু’ হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতি দিয়েছেন। এছাড়া আল্লামা সাঈদীকে স্মরণ করে ভিন্ন আরো দুটি ফটো কার্ড ও একটি কাভার ফটো শেয়ার করা হয়েছে। এর মধ্যে ফটো কার্ড দুটিতে তার জ্বালাময়ী দুটি ঐতিহাসিক বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মরহুম আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর অবদান ও গুরুত্ব বিবেচনায় তাঁর দল জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে সীমিত কর্মসূচি পালন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভক্তরা। কেন্দ্রীয়ভাবে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ না করায় ব্যথিত হয়েছেন তারা। অনেকে এও মন্তব্য করেছেন, আল্লামা সাঈদী ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ছিলেন। জামায়াতের বর্তমান নেতৃত্ব কি ভারতকে বিচলিত করতে চাইছেন না অথবা তারা কি ভারতীয় আধিপত্যবাদকে মেনে নিচ্ছেন? কেউ কেউ বলেছেন, শাহাদাত বার্ষিকীতে কেন্দ্রীয়ভাবে নানা ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করে তার ঐতিহাসিক বক্তব্য ও অবদানগুলিকে সকল মানুষের কাছে পুনরায় পৌঁছে দেওয়া যেত।

অথচ মরহুম আল্লামা সাঈদী শহুর থেকে গ্রাম সর্বত্র বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রচার-প্রসারে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছেন। জামায়াতের বাইরেও ইসলাম প্রিয় মানুষদের মাঝে দলমত নির্বিশেষে ব্যাপক জনপ্রিয়তা ভোগ করেন তিনি। আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার কারণে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মাহফিলের কথা শুনলেই সকল ধর্মের অগণিত মানুষ কুরআনের তাফসীর মাহফিলে জমায়েত হতেন। মাওলানা সাঈদীর হাতে হাত রেখে ছয় শতাধিক অমুসলিম ভাই-বোন ইসলামের সুমহান আদর্শে দিক্ষিত হয়েছেন বলে জানা যায়।

ভক্তরা স্মরণ করেছেন,‌ আল্লামা সাঈদীর বক্তৃতায় প্রায়শই ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে, যেমন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের নগ্ন হস্তক্ষেপের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং দেশব্যাপী সচেতনতা তৈরি করেছেন। তিনি ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ককে অসম বলে মনে করতেন এবং এর সমালোচনা করতেন। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সাথে ভারতের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে তিনি সবসময়ই ব্যাপক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও সতর্কতা বার্তা দিয়ে গেছেন দেশবাসীকে। তার জনপ্রিয় কয়েকটি আলোচনাই বলতে শোনা যায়, “এই পৃথিবীতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুশমন ভারত!” “ভারতের আধিপত্যবাদই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিপদ।” শুধু তাই নয় ইসলামের উপর আঘাত আসলে জীবন বাজি রেখে তিনি সিংহের মত বজ্র কন্ঠে গর্জে উঠতেন।

তাঁর অনুসারীরা বিশ্বাস করেন যে, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তার বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর তাকে জনগণের মধ্যে জনপ্রিয় করে তোলে। হাসিনার গোলামী এবং ভারতের আগ্রাসন নিয়ে তিনি যে সতর্কবার্তা ও আশঙ্কা প্রকাশ করে গেছেন পরবর্তীতে তা সত্যি হতে দেখা গেছে। এজন্য ভারতের নির্দেশে আল্লামা সাঈদীকে ভুল চিকিৎসা দিয়ে হত্যা করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমনকি পরিবারের পক্ষ থেকেও এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে।

জানা যায়, বিগত অর্ধশতাব্দী ধরে মহাগ্রন্থ আল কুরআনের তাফসীর, তথ্যনির্ভর বক্তব্য, ভিন্ন ধারায় চুলচেড়া বিশ্লেষণ, সুললিত কন্ঠ, প্রমিত উচ্চারণ ও বাচনভঙ্গি, ভাষার লালিত্য, যুক্তির সহজ প্রয়োগ, প্রাঞ্জল ও সাবলীল উপস্থাপনা, পান্ডিত্বপূর্ণ লেখনী, সমাজসেবা ও সমাজ সংস্কারে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও অবদানের জন্য তিনি নি স্বদেশ ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সমান জনপ্রিয় ছিলেন।

২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর পিজি হাসপাতালে তিনি ইন্তিকাল করেন। চিকিৎসার নামে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ইতোমধ্যে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি পিরোজপুর-১ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

অন্যদিকে, সাঈদীকে সম্পূর্ণ নির্দোষ উল্লেখ করে তাকে চিকিৎসার মাধ্যমে হত্যার অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এবং রাজশাহী-১ (তানোর- গোদাগাড়ী) আসনের সাবেক এমপি ও আগামী নির্বাচনে সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। হাসপাতালে সাঈদীর চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা সেই চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সকালে একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ দাবি জানিয়ে ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন জামায়াতের এই নেতা।

মুক্তিবাণী

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও