গুমের ঘটনা তদন্তে নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের দাবি আসকের

মুক্তিবাণী অনলাইন ডেস্ক :

গুমের শিকার লোকজনকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াসহ এ সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তে নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের দাবি জানিয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

৩০ অগাস্ট গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

গুমের বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ অনুযায়ী গণমাধ্যম থেকে সংগ্রহ করা তথ্য উল্লেখ করে ২০০৭ থেকে ২০২১ সালের ২৫ অগাস্ট পর্যন্ত দেশে ৬১৪ জন গুমের শিকার হয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আসক।

এদের মধ্যে পরবর্তী সময়ে ৭৮ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে, ৯৪ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং ৫৭ জন ফেরত এসেছে। অন্যদের বিষয়ে সুর্নিদিষ্ট তথ্য গণমাধ্যমসূত্রে জানা যায়নি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কমিটির ৬৭তম অধিবেশনে নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক অথবা মর্যাদাহানিকর আচরণ বা শাস্তি বিরোধী সনদের আওতায় বাংলাদেশের অগ্রগতি পর্যালোচনা হয়।

আসকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এ পর্যালোচনায় অঘোষিত আটক, যাকে কমিটি অন্তর্ধান বা গুম হিসেবে বর্ণনা করেছে, সেই বিষয়টিতে কমিটি বলেছে, এভাবে আটককৃত ব্যক্তিকে যদি হত্যা করা হয় অথবা তিনি ফিরে আসেন- যাই ঘটুক না কেন, তাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে গুম হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

“কমিটি তাদের চুড়ান্ত পর্যবেক্ষণে, সকল আটক ও আটকাবস্থায় মৃত্যুর ঘটনার সাথে অভিযুক্ত বাহিনীর বাইরে একটি স্বাধীন তদন্ত সংস্থা দ্বারা দ্রুততার সাথে পরিপূর্ণ তদন্ত করা ও গুম সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আইনের মাধ্যমে ‘গুম’কে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সনদটি স্বাক্ষর করার সুপারিশ করে।”

৩০ অগাস্ট আন্তর্জাতিক গুম বা বলপূর্বক অন্তর্ধান প্রতিরোধ দিবসে আইন ও সালিশ কেন্দ্র সরকার ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে আলাদাভাবে কয়েকটি দাবি জানিয়েছে।

সরকারের কাছে যেসব দাবি জানানো হয় সেগুলো হচ্ছে।

গুমের শিকার সকল নিখোঁজ ব্যক্তিকে অনতিবিলম্বে খুঁজে বের করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া; এ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়েরের জন্য একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা এবং তা ব্যাপকভাবে প্রচার করা; গুমের ঘটনা প্রতিরোধে এবং ভুক্তভোগী ও প্রতিটি গুমের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন গঠন; দায়ীদের বিচারের সম্মুখীন করে বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গুমের শিকার ব্যক্তি ও তার পরিবারের যথাযথ পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা; গুম সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদ স্বাক্ষর করা; গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোকে অস্বীকার না করে এ ধরণের ঘটনার বিচার নিশ্চিতে বিদ্যমান আইন কাঠামোতে পরিবর্তন আনা। ‘অপহরণ’ হিসেবে নয়, ‘গুম’কে সুনির্দিষ্ট অপরাধ হিসেবে আইনে অন্তভূর্ক্ত করা।

এছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে করা দাবিগুলো হচ্ছে- এ সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর তথ্যানুসন্ধান করা। নিখোঁজদের খুঁজে বের করা এবং ভুক্তভোগিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০০৯-এ এক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা থাকলে তা দ্রুততার সাথে দূরীকরণে সরকারের সাথে জোর যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়া; ভুক্তভোগী বা তাদের পরিবারকে আইনি ও নৈতিক সহায়তার উদ্যোগ গ্রহণ করা; গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারসমূহের উত্থাপিত অভিযোগ নিয়ে একটি জাতীয় গুনানির আয়োজন করা।

সর্বশেষ আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২১, ১৫:৪২
মুক্তিবাণী

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

ভিডিও