নির্বাচনে ‘সাবোটাজ’ শঙ্কায় নেতাদের সতর্ক হওয়ার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত
মুক্তিবাণী অনলাইন ডেক্স :

আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা থাকছেন এবং এ কমিটির সদস্য সচিব দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের থাকছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সভা শেষে গণভবন গেটে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বৈঠকে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা এবারের নির্বাচনে ‘সাবোটাজ’ হতে পারে- এ আশঙ্কা থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সতর্ক করেছেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। নির্বাচন ভ-ুল করতে অপচেষ্টা হতে পারে বলেও বৈঠক আশঙ্কা করা হয়।

বৈঠক থেকে বেরিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি শেখ হাসিনা। কো-চেয়ারম্যান পদ পূরণ হয়নি। আমি সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবো। ১৪টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতবারও ১৪টি ছিলো। লোক হয়ত পরিবর্তন হবে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জানান, এবার মনোনয়ন ফরমের দাম বাড়ানো হয়েছে। গতবারের ৩০ হাজার টাকার পরিবর্তে এবার ৫০ হাজার টাকা ফরমের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা চাইলে অনলাইনেও ফরম তুলতে পারবেন বলেও জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

এসময় ওবায়দুল কাদের বলেন, নাশকতা, গাড়ি ভাংচুর ও নির্বাচন ভ-ুল করার অপচেষ্টা যতক্ষণ চলবে, ততক্ষণ সরকারের পাশাপাশি সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সতর্ক পাহারায় থাকবে।

দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে নিয়ে মন্তব্য করায় আওয়ামী লীগের চট্টগ্রামের বাঁশখালির চম্বল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এ সময় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল হক চৌধুরীর ওই বক্তব্যকে ‘শিষ্টাচার বহির্ভূত’ বলে উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে শিষ্টাচার বহির্ভূত, অশোভন যে বক্তব্য দিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার হচ্ছে, তা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। চট্টগ্রামের বাঁশখালির চম্বল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের ব্যবস্থা আমরা নেবো। এ ধরনের শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ করা মোটেও উচিত নয়’। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সম্মানিত ব্যক্তি। তিনি কূটনীতিক হোন, আর যেই হোন, তার বিরুদ্ধে কোনো শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্য হতে পারে না’।

ওবায়দুল কাদের জানান, ‘দলীয় প্রধানের পক্ষ থেকে এ ধরনের কর্মকা- থেকে বিরত থাকতে সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে’।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, আগামী নির্বাচনে ‘সাবোটাজ’ হতে পারে বলে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা দলের নেতাদের সতর্ক করে দিয়েছেন। এ সময় বৈঠকে সম্প্রতি লক্ষীপুরে উপ-নির্বাচন ৫৭ সেকেন্ডে ৪৩ ব্যালটে সীল দেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা দলের নেতাদের আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার নিদের্শনা দিয়ে বলেন, বিএনপি শেষ মুহূর্তে নির্বাচনে আসতে পারে। এ জন্য তিনি বলেন, আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি। ইতোমধ্যে অনেকগুলো জরিপ করা হয়েছে। যার ফলাফল হাতে এসে পৌঁছেছে। বৈঠকে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দলীয় কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ওবায়দুল কাদের জানান, নির্বাচন ভ-ুলের চক্রান্ত যে কোন মূল্যে প্রতিরোধ করতে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন ভ-ুল করার যে চক্রান্ত এখন চলছে এটা আমাদের যে কোনো মূল্যে প্রতিরোধ করতে হবে, প্রতিহত করতে হবে এবং এদের পরাজিত করতে হবে। এটা একটা নির্দেশনা আছে। তিনি বলেন, আমাদের সভাপতি একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন আজকে যে, বিএনপির নেতৃত্বে যে অগ্নিসংযোগ, অগ্নিসন্ত্রাস, বাস পরিবহণে আগুন এসব নাশকতা চলছে সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায়, প্রায় প্রতিদিনই বাস পোড়াচ্ছে, এসব নাশকতার জবাবে আমাদের নেতাকর্মীরা সারা বাংলাদেশে সতর্ক পাহারায় রয়েছে। তাদেরকে আরো সক্রিয় হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এবং এ ব্যাপারে আমাদের যে আটটি বিভাগীয় কমিটি আছে এসব কমিটি আরও সক্রিয় হয়ে প্রত্যেক বিভাগে, জেলায় গিয়ে তারা এই সতর্ক পাহারার বিষয়টা আরো জোরদার করার ব্যাপারে আমাদের জেলা সংগঠন, থানা সংগঠন, উপজেলা, ইউনিয়ন তারমানে আমাদের তৃণমূলকে আরো সুসংগঠিত করবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, যতক্ষণ নাশকতা চলবে, সন্ত্রাস চলবে, যতক্ষণ নির্বাচন বন্ধের পাঁয়তারা চলবে ততক্ষণ এসব সতর্ক পাহারা আরো জোরদার করা হবে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির বিজভী সরকার ‘গেস্টাপো বাহিনী’ তৈরির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গেস্টাপো কে বলছেন সেটা আমি বুঝি একটাই সহজ সরল আমরা ক্ষমতাসীন দল ও সরকার। আমাদের উচিত দেশের জনগণের জান মাল নিরাপত্তা বিধান করা। জানমাল রক্ষা করা। কাজেই সরকার হিসেবে সরকারি দল হিসেবে সে কারণে আমাদের যার যেখানে দায়িত্ব আমাদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার, আমরা জনস্বার্থেই সারাদেশে সতর্ক পাহারাই আছি ও থাকবো।

এর আগে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী পোশাক শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেছেন, আমি শ্রমিকদের বলবো, যে বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে সেটা নিয়ে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের অবস্থা অস্থিতিশীল করতে পোশাক শ্রমিকদের রাস্তায় নামানো হয়েছে বলে এ সময় উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যারা গার্মেন্টস শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে রাস্তায় নামিয়েছে তাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে।

পোশাক শ্রমিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কারখানায় যদি আগুন দেয় তাহলে তো কারখানা থাকবে না। কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে তাদেরকে তো গ্রামে ফিরে যেতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকারে বিশ্বাস করি। জনগণের ভোটের মাধ্যমেই বার বার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে। মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করেছে।

পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময়ে শ্রমিকদের মজুরি ছিল ১৬০০ টাকা। ধাপে ধাপে সেই মজুরি আওয়ামী লীগ সরকারি বৃদ্ধি করেছে। এখন আবার আমরা মজুরি বৃদ্ধি করে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা টাকা করেছি। তাদের এই মজুরি প্রতি বছর ৫% হারে ইনক্রিমেন্ট হয়। তাদের মাতৃত্ব¡কালীন ছুুটি, ডে কেয়ার সেন্টার, তাদের স্বাস্থ্য খারাপ হলে ছুটি ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি শিল্প কারখানায় আমরা অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা করে দিয়েছি। সভায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির নেতারা অংশ নেন।

সর্বশেষ আপডেট: ১০ নভেম্বর ২০২৩, ০২:০৭
মুক্তিবাণী

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

ভিডিও