বরগুনায় অবাধে ঘুরছেন প্রবাস ফেরত ব্যক্তিরা!

রুদ্র রুহান, বরগুনাঃ বিশ্বব্যপি করোনা ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ায় আক্রান্ত দেশগুলোসহ মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ ও সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত ও বসবাসরত নাগরিকরা দেশে ফিরতে শুরু করে। এর অংশ হিশেবে বরগুনায়ও ফিরেছেন বেশ কিছু প্রবাসী। এদের মধ্যে ৩৮জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রেখেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্ত এর বাইরেও সম্প্রতি প্রবাস ফেরত কিছু ব্যক্তি হোম কোয়ারেন্টন বা কোনো ধরণের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ছাড়াই অবাধে লোকালয়ে ঘোরাফেরা করছেন এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বরগুনার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জরুরি কন্ট্রোল রুম থেকে জানা যায়, জেলায় ৩৮ জন বিদেশফেরত ব্যক্তিকে হোম কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশন ইউনিটে রাখা হয়। এর মধ্যে ১০ জনের ১৪ দিন অতিক্রম করেছে। বাকি ২৮ জনের মধ্যে ২৭ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে এবং একজন হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে প্রবাস থেকে ফিরে আসা বেশ কয়েকজন অবাধে ঘোরাফেরা করছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা সদরে অন্তত ২০জন ব্যক্তি সম্প্রতি প্রবাস থেকে ফিরেছেন। কিন্ত করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি এড়াতে এদের হোম কোয়ারেন্টন এড়িয়ে রীতিমত লোকালয়ে অবাধে ঘোরাফেরা করছেন। বিশেষ করে বরগুনা সদর উপজেলার ১০ নং নলটোনা, ৯নং এমবালিয়াতলীসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন থেকে প্রবাস ফেরত ব্যক্তিদের অবাধে চলাফেরার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও জেলার অন্যান্য উপজেলাগুলোতে বেশ কয়েকজন সম্প্রতি কুয়েত, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর ও সৌদী আরব থেকে ফেরা ব্যক্তিরাও লোকালয়ে অবাধে ঘুরছেন বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে নলটোনা ইউনিয়নের গর্জনবুনিয়া এলাকায় একজন নারী বুধবার সন্ধ্যায় জ্বর ও কাশি নিয়ে স্থানীয় চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে এব্যাপারে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি স্বাস্থ্য বিভাগ।

এ বিষয়ে বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ুন শাহীন খান বলেন, হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের নিয়মিত স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন খোঁজ খবর নিচ্ছেন। প্রবাসীদের ফিরে আসার ব্যাপারে আমরা প্রতিদিনই তথ্য সংগ্রহ করছি। প্রবাস ফেরত কেউ আমাদের নজর এড়িয়ে রয়েছেন এমন তথ্য আমাদের জানা নেই। আমরা সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যকর্মীদের কড়া নির্দেশনা দিয়েছি। এছাড়াও জেলা প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধি ও সিভিল সোসাইটির লোকজনের আমরা সহায়তা নিচ্ছি। এর বাইরেও কেউ যদি আমাদের নজর এড়িয়ে থাকে তবে সে বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিতে প্রস্তত।

জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, আমরা আমাদের যতগুলো অর্গান রয়েছে কাজে লাগিয়েছি। স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে জেলা প্রশাসন নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। আমরা জরুরি নিয়ন্ত্রন কক্ষ খুলে যোগাযোগের জন্য মুঠোফোন নম্বর উন্মুক্ত করে দিয়েছি। কেউ কোথাও প্রবাস থেকে ফিরলে আমরা খোঁজ নিয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছি। এর বাইরেও যদি কেউ নজর এড়িয়ে অবাধে চলাফেরা করে আমরা খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

সর্বশেষ আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২০, ২৩:০৬
মুক্তিবাণী

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

ভিডিও