শীত চলে গেলেও প্যানেল চেয়ারম্যানের অফিসে জমে আছে গরীবদের কম্বল!

ছবি মুক্তিবাণী
ছবি মুক্তিবাণী
বিশেষ প্রতিবেদকঃ

শীতকাল শেষ হলেও মৌলভীবাজার মনুরমুখ ইউনিয়নের হতদরিদ্র মানুষেরা এখনো পায়নি সরকারি কম্বল। অভিযোগ উঠেছে, ২ নং মনুরমুখ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সাজু বরাদ্দকৃত কম্বলগুলো তার ব্যক্তিগত অফিসে জমা রেখে দায়িত্বে অবহেলা করেছেন।  

ছবি মুক্তিবাণী

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার সদর উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে শীতার্তদের সহায়তায় কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়। সাধারণত ইউনিয়ন মেম্বাররা তাদের ওয়ার্ডের গরীব মানুষদের মধ্যে এসব কম্বল বিতরণ করেন। কিন্তু মনুরমুখ ইউনিয়নে প্যানেল চেয়ারম্যান সাজু কম্বলগুলো সঠিকভাবে বিতরণ না করে তার অফিসে স্টক করে রেখেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এক নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন,”শীত শেষ হওয়ার পরও কম্বলগুলো অফিসে পড়ে আছে। বারবার বলার পরও প্যানেল চেয়ারম্যান গরীবদের মধ্যে বিতরণ করেননি। এটা শুধু অবহেলা নয়, মানুষের সঙ্গে বিদ্রূপ!”

এ বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান সাজু দাবি করেন,”আমার অফিসে কে বা কারা কম্বল রেখেছে, আমি জানি না। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আমার নামে এই অভিযোগ তৈরি করতে পারে। রমজানের পর থেকে আমি এই অফিসে নিয়মিত আসি না।”

মনুরমুখ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সরুফা আক্তার বলেন, “প্যানেল চেয়ারম্যান সাজু নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন। যদি তিনি গরীবদের কম্বল না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন, তাহলে এটি একটি গুরুতর অনিয়ম। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাজ উদ্দিন বিষয়টিকে তুচ্ছ করে বলেন, “সাজুর বিরুদ্ধে এত বড় অভিযোগ থাকতে সামান্য কম্বল নিয়ে নিউজ করছেন কেন? তিনি চেয়ারম্যান এমদাতের মামলায় পলাতক থাকায় তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমার বিরুদ্ধেও যদি কেউ অনিয়মের খবর করে, তাহলে বড় কন্টেন্ট তৈরি করে দেব!”

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, সরকারি সহায়তা যাদের প্রয়োজন, তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রশাসনের এমন উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতা দুর্নীতিরই প্রতিচ্ছবি।

শীতবস্ত্র বিতরণে এই অনিয়ম গরীব মানুষের অধিকারের প্রতি চরম অবহেলা। প্রশাসনিক তদন্ত ও দ্রুত পদক্ষেপই এখন সবার প্রত্যাশা।

মুক্তিবাণী

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও