জুলাই গণহত্যার বিচার, জ্বালানি সংকট নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে মৌলভীবাজারে গণমিছিল করেছে ১১ দলীয় ঐক্য জোট। নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে বর্তমান সরকারকেও আওয়ামী লীগ সরকারের মতো একই পরিণতি বরণ করতে হবে।
![]()
শনিবার (৪ জুলাই) বিকাল ৫টায় দেওয়ানী মসজিদের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে সেন্ট্রাল রোড প্রদক্ষিণ করে হামিদিয়া পয়েন্টে সমাবেশে মিলিত হয়। জামায়াতে ইসলামী জেলা সেক্রেটারি মো. ইয়ামির আলীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন এনসিপির এহসান জাকারিয়া, রুহুল আমিন, জামায়াতের আলা উদ্দীন শাহ, খেলাফত মজলিসের মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ ও হাফেজ মাওলানা তাজুল ইসলাম।
![]()
সভাপতি ইয়ামির আলী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষদের রুমে তালাবদ্ধ করে কার্যক্রম বন্ধের চেষ্টা চলছে, যা শান্তিপ্রিয় নাগরিকরা মেনে নেবে না। তিনি সকল জুলুম-চাঁদাবাজি বন্ধের আহ্বান জানান।
এহসান জাকারিয়া বলেন, রক্তের বিনিময়ে স্বৈরাচার পতন ঘটলেও ক্ষমতায় গিয়ে জুলাই সনদ ভুলে গেছেন তারা। ১৭ বছর আওয়ামী লীগ যেমন স্বৈরাচারী শাসনে ভারতে পালাতে বাধ্য হয়েছিল, তেমনই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে বর্তমান সরকারকেও একই পরিণতি বহন করতে হবে। তিনি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নত করার তাগিদ দেন।
মাওলানা আব্দুল আওয়াল স্পষ্ট ঘোষণা দেন, জুলাই আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে—যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে বর্তমান সরকারও বাংলাদেশে থাকতে পারবে না।
‘আবু সাঈদ মুগ্ধ শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘দালালি না রাজপথ’, ‘দিল্লি না ঢাকা’—স্লোগানে উত্তাল মিছিল শেষে সমাবেশ সফল করতে প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে অংশ নেওয়া সবাইকে ধন্যবাদ জানান আয়োজকেরা।
বক্তারা এককণ্ঠে ঘোষণা দেন, জুলাইয়ের রক্ত কখনো পানি হতে দেয়া হবে না। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন ও দ্রব্যমূল্য মানুষের আয়ত্তে আনার দাবি যদি অগ্রাহ্য করা হয়, তবে আবারও রাস্তায় নামবে গণআন্দোলন। সতর্ক করে দিয়ে তারা বলেন, ‘আমাদের দাবি অমূলক নয়—এটি জুলাই শহীদদের রক্তের দাবি। ক্ষমতাবানরা যদি বুঝতে না চান, তাহলে ইতিহাসের কঠিন বিচারের মুখে তাদের দাঁড়াতে হবে। মৌলভীবাজারের জনতা আজ ঘোষণা দিচ্ছে—অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই লড়াই শেষ হবে না, যতক্ষণ না ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।’ প্রচণ্ড দাবদাহ উপেক্ষা করে এই মিছিল প্রমাণ করেছে, সাধারণ মানুষ এখন আর নীরব নয়—বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস তারা লিখবে নিজেদের হাতে।










পাঠকের মন্তব্য