মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ফাটাবিল এলাকায় তুচ্ছ ঘটনায় ছোট ভাই তামিম মিয়া (১৮) কে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় বড় ভাই হানিফ মিয়া (৩৫) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল (১৫ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে কুমিল্লা সদর কোতোয়ালী থানাধীন সংরাইশ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে গত ১১ মার্চ বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ফাটাবিল এলাকায় সরকারি রাস্তার ব্রিজের উপর পারিবারিক বিরোধের জেরে ছোট ভাই তামিম মিয়াকে ধারালো চাকু দিয়ে হত্যা করে হানিফ মিয়া। নিহত তামিম ওই এলাকার শাহেদ আলীর ছেলে। ঘটনার পর থেকে হানিফ মিয়া পলাতক ছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বড় ভাই হানিফের ছেলে সাইদুল (১০) কে শাসন করায় তামিমের সাথে হানিফের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে হানিফ ধারালো চাকু দিয়ে তামিমের গলার নিচে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হত্যার পর হানিফ ঘটনাস্থল থেকে চাকুটি ব্রিজের নিচে ফেলে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় নিহতের বোন সাথী আক্তার (২৩) বাদী হয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২২/৬৩, তারিখ-১১/০৩/২০২৬ খ্রি., ধারা-৩০২ পেনাল কোড ১৮৬০)।
ঘটনার পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়েরের নেতৃত্বে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম, এসআই হীরণ কুমার বিশ্বাস, এসআই উৎপল কুমার সাহা, এসআই জয়ন্ত সরকার, এসআই আশরাফুল আলম চৌধুরী, এএসআই রানা মিয়া, এএসআই সাইদুর রহমান ও কনস্টেবল পিন্টু চন্দ্র শীলসহ একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অবশেষে আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামী হানিফ মিয়া ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্যে ঘটনাস্থলের ব্রিজের নিচ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু এবং ঘটনার সময় পরিহিত রক্তমাখা পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হীরণ কুমার বিশ্বাস জানান, আসামীকে আজ মৌলভীবাজার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে এবং হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, “স্বল্প সময়ের মধ্যে আসামীকে গ্রেফতার ও আলামত উদ্ধার করতে পেরে পুলিশি তৎপরতা সফল হয়েছে। এ ধরণের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত কেউই আইনের আওতার বাইরে থাকবে না।”










পাঠকের মন্তব্য