বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সময় পিলখানায় লুটের টাকায় কোটিপতি। সামান্য সৈনিক পদে চাকরি করে বানিয়েছেন দুটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। আছে মাছ, মুরগি ও গরুর খামারসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক বিডি সদস্য আশরাফুল হক টিপুকে বিচারের হাত থেকে বাঁচাতে ভূমিকা রেখেছেন একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা।
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার ভরাপাড়া ইউনিয়নে এমন দৃষ্টিনন্দন বাড়ি দেখা পাওয়া মুশকিল। তবে কোটি টাকা খরচ করে এই বাড়ি নির্মাণ করেছেন সাবেক বিডিআর সদস্য আশরাফুল হক টিপু। স্ত্রীর নামে এই বাড়ি করেছেন তিনি। বাড়ির সামনে মুরগির ও গরুর খামার।
বেশ কয়েকটি পুকুরে করেছেন মাছ চাষ। পুরোনো বাড়িতে দোতলা ভবন সেটিও তার টাকায় তৈরি। কয়েক একর জমিও কিনেছেন। টিপুর বাল্যবন্ধু ও প্রতিবেশীরা হঠাৎ এমন বিত্তশালী হওয়ার কারণ বলতে পারেন না।
কেউ আবার টিপুর ভয়ে মুখ খোলে না।
প্রতিবেশীরা বলছেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কয়েকদিন পর কেন্দুয়ার বাসায় চলে আসে টিপু। এর কিছুদিন পর আবার ঢাকায় ফেরে এবং পিলখানার ঘটনায় আটক হয়। কিন্তু, তার কয়েক মাস পর তিনি একেবারে বাড়িতে চলে যান।
বিডিআর লুটের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার প্রশ্ন করা হলে কোনো উত্তর দেননি টিপু।
বিডিআর বিদ্রোহের পর কি করে কেন্দুয়াতে এলেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আমরা বড় গ্রামের একজন তদবির করে সেনাবাহিনী ছাড়াই দিয়েছে, তিনি আমেরিকা আছে।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান ও টিপুর বাড়ি পাশাপাশি মোস্তাফিজ তখন দাপুটে সেনা কর্মকর্তা টিপু আটক থাকা অবস্থায় পরিবারের লোকজন যোগাযোগ করে মোস্তাফিজের বাবার সাথে এর কয়েক মাস পর পেনশন সুবিধাসহ সকল দায় থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফেরেন টিপু, যা স্বীকার করলেন মোস্তাফিজের আপন চাচাতো ভাই। তিনি বলেন, পিলখানা বিদ্রোহটা হয়েছে, সেখানে লুটতরাজ হয়েছে, সে চারদিন পরে আমাদের গ্রামে আসছে। এর অনেক কিছু আমরা চিন্তা করেই গ্রামবাসীদের কাছে অনেক কিছু এরকম মানে, বিশেষ করে গয়নার কারণেই, আসলে গ্রামবাসীদের কাছে সন্দেহ হচ্ছে যে, সে এই বিডিআর বিদ্রোহের সময় সে লুটত রাজার জড়িত ছিল।
মুস্তাফিজ এখন আমেরিকার লং আইল্যান্ডের হিক্স ভ্যালিতে থাকেন। সেখানে তিনি বাড়ি কিনেছেন। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে মোস্তাফিজের এক আত্মীয় জানায়, সেই বাড়ি কিনতে তিনি খরচ করেছেন ১২ কোটি টাকা। ঢাকাতে আছে একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট। মোস্তাফিজ এখন সেনাবাহিনীসহ দেশের রাজনীতির নানা ইস্যুতে সামাজিক মাধ্যমে সরপ থাকেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে মইনুল রোডের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনায় যে কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা নেতৃত্ব দিয়েছেন, মোস্তাফিজ তাদের একজন। যদিও তিনি মাত্র দায়িত্ব পালন করেছেন বলেই দাবি করেন।









