চা শ্রমিকদের ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে মৌলভীবাজারে ঐক্যবদ্ধ মতবিনিময় ও মিছিল

শহর প্রতিনিধিঃ

২৩ আগস্ট: চা শ্রমিকদের দৈনিক নগদ মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, পৃথক মজুরি বোর্ড গঠন ও শ্রমিকবিরোধী গেজেট বাতিলের দাবিতে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে এক ঐক্যবদ্ধ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বেলা ১২টায় মৌলভীবাজার পৌরসভা মিলনায়তনে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিপ্লব মাদ্রাজি পাশী এবং সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক দীপংকর ঘোষ।

চা শ্রমিকদের ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে মৌলভীবাজারে ঐক্যবদ্ধ মতবিনিময় ও মিছিল

সভা শুরুর আগে পৌরসভার সামনে থেকে একটি বিশাল মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন। বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন—চা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কৃষ্ণ দাস অলমিক, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সংস্কার কমিটির জনক লাল দেশওয়ারা, ফেডারেশনের সহসভাপতি কাজল রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক কিরণ শুক্ল বৈদ্য, মুমিনছড়া বাগানের লিটন মৃধা, মাধবপুরের শিবনারায়ণ নুনিয়া, মাথিউরার আবুল কালাম আজাদ, লাক্কাতুরার হৃদয় লোহার, করিমপুরের মায়া কর, মাতিউড়ার ময়না রাজভর, রাজনগরের গাঙ্গাজলী নুনিয়া, মৌলভী বাগানের রনি আহমেদ, রাঙ্গিছড়ার বিশ্বজিৎ রাজভর, রশিদপুরের শিবলাল রবিদাস, ভুরভুরিয়ার আকাশ দোসাদ, সাবেক ইউপি সদস্য ময়না রবিদাস, ইউপি সদস্য কিরণ বৈদ্য, ফেডারেশনের উপদেষ্টা আবু জাফর, উজ্জ্বল রায়, অ্যাডভোকেট আবুল হাসান, প্রণব জ্যোতি পাল, সফিকুল ইসলাম ও সিপিবি নেতা জহর লাল দত্ত।

চা শ্রমিকদের ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে মৌলভীবাজারে ঐক্যবদ্ধ মতবিনিময় ও মিছিল

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন—বাসদ হবিগঞ্জের নুরুজ্জামান তরফদার, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের রাহাত আহমেদ, চা শ্রমিক ইউনিয়ন সংস্কার কমিটির বিশু প্রসাদ গোয়ালা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বিশ্বজিৎ নন্দী ও রাজিব সূত্রধর এবং ছাত্র ইউনিয়নের জ্যোতিষ মোহন্ত প্রমুখ।

চা শ্রমিকদের ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে মৌলভীবাজারে ঐক্যবদ্ধ মতবিনিময় ও মিছিল

বক্তারা বলেন, চা বাগান প্রতিষ্ঠার প্রায় ২০০ বছরেও শ্রমিকের মজুরি ২০০ টাকায় উন্নীত হয়নি। দ্রব্যমূল্যের চরম ঊর্ধ্বগতিতে মাত্র ১৮৭ টাকা মজুরি নিয়ে শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। তারা উল্লেখ করেন, ২০২২ সালে ৩০০ টাকার দাবিতে আন্দোলন করলেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের প্রতারণা করে মালিকদের সাথে মিটিং করে মাত্র ৫০ টাকা বাড়ান। ২০২৩ সালের ১০ আগস্ট ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের অগণতান্ত্রিক গেজেট প্রকাশ করা হয়, যার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও মালিকপক্ষ প্রতারণামূলকভাবে তা বহাল রেখে ১৯৬ টাকা মজুরি ঘোষণা করেছে, যা ফেডারেশন ও অন্যান্য শ্রমিক সংগঠন প্রত্যাখ্যান করেছে।

চা শ্রমিকদের ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে মৌলভীবাজারে ঐক্যবদ্ধ মতবিনিময় ও মিছিল

বক্তারা আরও বলেন, মালিকরা লাভের পাহাড় গড়ছেন, অথচ শ্রমিকদের ঘামের বিনিময়ে তাদের দিচ্ছে না তার যথাযোগ্য মূল্য। আজ যখন বাগানে বাগানে ৫০০ টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলন চলছে, তখনও মালিকপক্ষ ও শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে কোনো সদুত্তর আসেনি। তাঁরা ২০২৩ সালের গেজেট বাতিল, পৃথক মজুরি বোর্ড গঠন, ইউনিয়ন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং ভূমির অধিকার নিশ্চিতের দাবি জানান।

আজকের এই মতবিনিময় সভা কেবল একটি আলোচনাসভা ছিল না, এটি ছিল চা শ্রমিকদের শতবর্ষের শোষণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের শপথগ্রহণ। বক্তারা সুস্পষ্ট ঘোষণা দেন—আর কোনো প্রতারণা নয়, আর কোনো বিলম্ব নয়। এবারের লড়াই হবে চূড়ান্ত, লক্ষ্য একটাই: দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি আদায়। ফেডারেশন জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে আরও তীব্র কর্মসূচি দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে সর্বাত্মক অবরোধ ও শ্রমিক হরতাল ডাকা হবে। তাঁরা সকল চা শ্রমিক, ভিন্নমতাবলম্বী সংগঠন ও সমাজের গণতান্ত্রিক শক্তিকে এই আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। নেতারা বলেন, ‘এই লড়াই আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই, এই লড়াই আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন—আমরা পিছপা হব না, এই মাঠ থেকে বিজয় ছাড়া ফিরব না।’

মুক্তিবাণী

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও