নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের স্মারকলিপি প্রদান

প্রেম কুমার পাল

ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার হরণকারী মেয়াদোত্তীর্ণ ২০২৩ সালে ঘোষিত চা শ্রমিকদের মজুরি গেজেট বাতিল এবং অবিলম্বে চা শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে দৈনিক নগদ মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবিতে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটি নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছে। ১৬ই আগস্ট’২৬, রবিবার সকাল সাড়ে ন’টায় ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে স্মারকলিপি পেশ পূর্ববর্তী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিপ্লব মাদ্রাজি পাশী এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক দীপংকর ঘোষ। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চা শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা আবু জাফর, সহসভাপতি কাজল রায়, অর্থ সম্পাদক প্রেমকুমার পাল, করিমপুর চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি গণেশ বড়কুর্মী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে মিছিল সহকারে নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে গিয়ে নেতৃবৃন্দরা স্মারকলিপি প্রদান করেন।

নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের স্মারকলিপি প্রদান

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়,গত ০৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংশোধিত শ্রম আইনের ধারা ১৩৯ (৬) অনুসারে প্রতি তিন বছর পরপর মজুরি পুণঃনির্ধারণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। চা শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য গঠিত বোর্ড ২০২১ সালের জুনে খসড়া সুপারিশ প্রকাশ করলেও তা ১০ আগষ্ট ২০২৩ সালে চুড়ান্ত গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। সেক্ষেত্রে গত ৯ আগষ্ট ২০২৬ তারিখে ঘোষিত মজুরির মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে এবং ছয় মাস পূর্বেই নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের যৌক্তিক সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। ২০২৩ সালে ঘোষিত মজুরির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টিকে আড়াল করতে চা বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশীয় চা সংসদ ১০ আগষ্ট ২০২৬ তারিখে ৫% বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট যুক্ত করে নতুন মজুরির নোটিস জারি করেছে। চা বাগান মালিকদের এই ঘোষণা চা শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে, বিভিন্ন মাত্রায় মিছিল-সমাবেশের মাধ্যমে শ্রমিকরা তাদের ক্ষোভের প্রকাশ করেছে।

নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের স্মারকলিপি প্রদান

আরও উল্লেখ করা হয়, মজুরির নিম্নসীমা নির্ধারণ করা মজুরি বোর্ডের কাজের আওতা হলেও ২০২৩ সালের তৎকালিন মজুরি বোর্ড যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধির স্বাধীন ভাবে দরকষাকষির চর্চার সুযোগ কে বাধাগ্রস্থ করার মতো কিছু সিদ্ধান্ত মজুরি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করেছিল যা নিন্দনীয়। বাৎসরিক মজুরি বৃদ্ধিসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি বিষয়ে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধির স্বাধীন অধিকার চর্চার বিষয়ে সকল ধরণের বাধা দুর করা, মুনাফায় শ্রমিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বাধা দূর করা আহবান জানায়। শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে চায়ের সিন্ডিকেটেড নিলাম মূল্যের পরিবর্তে চায়ের বাজার মূল্য বিবেচনার পাশাপাশি ২০২৫ সালের ২২ মে বাংলাদেশের দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিকদের মজুরী ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ৮০০ টাকা, বিভাগীয় শহরে ৭৫০ টাকা, জেলা উপজেলায় ৭০০ টাকা নির্ধারণ করার বাস্তবতায় মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে চা শ্রমিকদের দৈনিক নগদ মজুরী কমপক্ষে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করার বিকল্প নেই।

নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের স্মারকলিপি প্রদান

এমতাবস্থায়, দ্রুততম সময়ে চা শ্রমিকদের মজুরি পূণঃনির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন এবং দৈনিক নগদ মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানায়।

নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের স্মারকলিপি প্রদান

নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের স্মারকলিপি প্রদান

নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের স্মারকলিপি প্রদান

মুক্তিবাণী

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও