মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ০২নং মনুমুখ ইউনিয়নের সুজন নগর এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওই ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের বর্তমান মহিলা ইউপি সদস্য তানিয়া আক্তার মিনু (৪৪) এর বাড়িতে গত ১২ আগস্ট ২০২৬ তারিখ বিকাল ৫টার দিকে সাবেক চেয়ারম্যানের ছেলে আহাদ মিয়া (৫২) এর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী লাঠি, দা, লোহার রড ও জিআই পাইপসহ ঘাতক দল হিসেবে হামলা চালায়।
![]()
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, আহাদ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে মহিলা ইউপি সদস্য তানিয়া আক্তার মিনুকে তার বাড়িতে ডেকে ভুয়া কাগজপত্রে সিল মারতে বাধ্য করতেন। বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করায় তিনি তানিয়ার প্রতি শত্রুতা পোষণ করছিলেন। এরই জের ধরে গতকাল বিকেলে আহাদ মিয়া, তার সহযোগী খেসমতি বেগম (৪২), শিরিন বেগম (২৬), রাজু মিয়া (২৮) ও অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জন সন্ত্রাসী তানিয়ার বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিক নির্যাতন চালায়।
![]()
ভুক্তভোগী তানিয়া আক্তার মিনু জানান, তিনি প্রতিবাদ করলে আহাদ মিয়ার নির্দেশে তার সহযোগীরা তাকে পিটুনি দেয়। এ সময় তার দেবর ফজলু মিয়া (৪৫) ও ছেলে নাহিদ মিয়া (২২) এগিয়ে এলে আহাদ মিয়া দা দিয়ে ফজলু মিয়ার মাথায় কোপ মারে, যা হত্যার উদ্দেশ্যে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে রাজু মিয়া লোহার রড দিয়ে নাহিদ মিয়ার মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর জখম হন। এছাড়া খেসমতি বেগম ও শিরিন বেগম লাঠি দিয়ে তানিয়াকে পিটিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি করে।
![]()
অতিরিক্ত অপমান ও লোভের পরিচয় দিতে গিয়ে খেসমতি বেগম তানিয়ার গলায় থাকা ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন (মূল্য প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেয়। পাশাপাশি আহাদ মিয়া ও রাজু মিয়া তানিয়ার পরনের কাপড়চোপড় টেনে তার শ্লীলতাহানি করে, যা অত্যন্ত জঘন্য ও লজ্জাজনক ঘটনা।
![]()
স্থানীয় সাক্ষী সুরমা বেগম, আলেয়া বেগম, কদর মিয়া, হুমায়ুন মিয়াসহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তবে যাওয়ার সময় তারা আহাদ মিয়াসহ সকলেই তানিয়া, ফজলু ও নাহিদকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়ে বলে—মামলা করলে তাদের লাশ গুম করে ফেলা হবে। এই হুমকিতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
![]()
আহত ফজলু মিয়া ও নাহিদ মিয়াকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় তবে মানসিকভাবে তারা ভীত ও শঙ্কিত। এ ঘটনায় তানিয়া আক্তার মিনু বাদী হয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
“একজন নারী ইউপি সদস্যকে শ্লীলতাহানি, স্বর্ণ লুট, পরিবারের সদস্যদের উপর হত্যাচেষ্টা ও প্রকাশ্যে মৃত্যুমুখে ঠেলে দেওয়ার এই ঘটনা শুধু একটি পারিবারিক দ্বন্দ্ব নয়, বরং এটি এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতারই প্রতিচ্ছবি। সাবেক চেয়ারম্যানের ছেলে হয়েও আইনের চোখকে তুচ্ছ করে এই গুণ্ডামি প্রশাসনের নীরবতা ও আইনের দুর্বলতাকেই ইঙ্গিত করে। ভুক্তভোগী ও তার পরিবার এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে এই এলাকায় আরও অনেক নিরীহ মানুষ এমন সন্ত্রাসী চক্রের শিকার হবে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছেন এলাকাবাসী। প্রশাসনকে এখনই কঠোর হতে হবে, নাহলে এই হামলার সূত্রপাত আরও বড় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।”











পাঠকের মন্তব্য