“ঘাপটি মেরে বসা হাসিনার দোসররা: বিএনপি সরকারের জন্য কাল”

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

ভূমিকা: বিএনপি সরকারের সংকটময় ছয় মাস

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্তি হয়েছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই প্রশাসনের ভিতরে ও বাইরে নানা প্রতিবন্ধকতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো—সাবেক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার অনুগত একটি নেটওয়ার্ক এখনো প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় রয়েছে। তারা প্রকাশ্যে না থাকলেও গোপনে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে, গুজব ছড়াচ্ছে এবং সরকারের পদক্ষেপকে বানচাল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

প্রশাসনে অনুপ্রবেশ: কীভাবে কাজ করছে দোসররা?

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকার গঠনের পর দলকে গোছানো বা নিয়ন্ত্রণে রাখাই বিএনপি সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার কারণে তৃণমূলে নানা প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, যা সরকারের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে হাসিনার অনুগত মহল—

· গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে অবস্থান নিয়ে তথ্য ফাঁস ও বিভ্রান্তি তৈরি করছে

· আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল রাখতে কাজ করছে—গত ছয় মাসে ৮৩০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে

· অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে নাশকতা করে দ্রব্যমূল্য ও বিনিয়োগ সংকট গভীর করছে

প্রতিষ্ঠানিক সংকট: সংস্কার বাস্তবায়নে বাধা

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ—যার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও দুদক সংক্রান্ত অধ্যাদেশ—অনুমোদন না করার সিদ্ধান্তে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে বিএনপি সরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার রক্ষার অগ্রগতি পিছিয়ে যাচ্ছে। এই অচলাবস্থার সুযোগ নিচ্ছে হাসিনার দোসররা, যারা সংস্কারকে ব্যর্থ করে পুরনো কাঠামো ফিরিয়ে আনতে চায়।

বিএনপির প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ফারাক

বিএনপি ৩১ দফা রূপরেখায় ‘উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা’, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ফিরিয়ে আনা, এবং ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সংস্কার প্রক্রিয়ায় যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তা সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। জামায়াত-ই-ইসলামী ও এনসিপির মতো বিরোধী দলগুলি এই সুযোগে শক্তি সঞ্চয় করছে।

প্রতিরোধ না হলে পতন অনিবার্য

যদি এই ফ্যাসিস্ট দোসরদের দমন করা না যায়, তবে তারা সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপকে পঙ্গু করে দেবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে না পারলে জনগণ আবারও মাঠে নামতে পারে। সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া এই মুখোমুখি অবস্থান বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি করতে পারে।

“বিএনপি সরকার যদি আজ এই ঘাপটি মেরে থাকা হাসিনার দোসরদের বিরুদ্ধে কঠোর ও সময় উপযোগী পদক্ষেপ না নেয়, তবে আগামী দিনে তাদের পতন হবে ঐতিহাসিক অনিবার্যতা—এটা কোনো ভবিষ্যদ্বাণী নয়, বাস্তবের সরল গণিত। জনগণের প্রত্যাশা ছিল দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অবসান; সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যার্থ হলে আবারও তরুণরা রাজপথে নামবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার কমিশন ও দুদকের সংস্কারকে দুর্বল করার মধ্য দিয়ে যে বার্তা যাচ্ছে, তা সরকারের বিরুদ্ধেই কাজ করবে। প্রতিরোধের বীজ বপন করুন এখনই, নইলে অচিরেই আপনাদের ভাঙা আসনের পেছনে শুধুই থাকবে আফসোস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে রক্ষা করতে হলে ‘ভয় নয়, দমন’—হোক আজকের মূলমন্ত্র।”

মুক্তিবাণী

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও