পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা আজ সোমবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, তামিলনাড়ু, কেরালা এবং পুদুচেরির নির্বাচনী ফলাফল একযোগে প্রকাশিত হচ্ছে। এই ফলাফল রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একাধিক রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।
সবচেয়ে বেশি নজর রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। এখানে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভারতীয় জনতা পার্টির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। বুথফেরত জরিপে বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হলেও ভোটগণনা শুরুর পর থেকেই চিত্র পাল্টাতে শুরু করেছে। সর্বশেষ প্রবণতায় কখনো তৃণমূল, কখনো বিজেপি এগিয়ে থাকায় পরিস্থিতি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের এই লড়াই মূলত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের ধারাবাহিকতা বনাম বিজেপির পরিবর্তনের দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ। দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ এবং প্রশাসনিক ইস্যু নির্বাচনী প্রচারে বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে ফলাফল এখনো চূড়ান্ত নয়, কারণ গণনা চলমান রয়েছে।
একই সময়ে তামিলনাড়ুতে দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগম নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে রয়েছে বলে প্রাথমিক প্রবণতায় জানা গেছে। এখানে অভিনেতা বিজয়ের নতুন রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম ভোটের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কেরালায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট প্রাথমিকভাবে এগিয়ে আছে। অন্যদিকে কেরালার বামফ্রন্ট সরকারকে নিয়ে এটি কার্যত জনমত যাচাই হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফল অনুকূলে না গেলে দীর্ঘদিন পর রাজ্যে বাম শাসনের অবসান ঘটতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
আসামে ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখানে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বের ওপরও এই নির্বাচনের ফল বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুদুচেরিতে এন রঙ্গাসামির নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে রয়েছে প্রাথমিক প্রবণতায়। তবে এখানে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে চূড়ান্ত ফল বদলে যেতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন।
একই দিনে দেশের সাতটি বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলও ঘোষণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে গুজরাট, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, নাগাল্যান্ড এবং ত্রিপুরার বিভিন্ন আসন রয়েছে।
সব মিলিয়ে আজকের ভোটগণনা ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। দুপুরের পর থেকেই চূড়ান্ত প্রবণতা স্পষ্ট হতে শুরু করবে বলে মনে করা হচ্ছে। তথ্যসূত্র : এনডিটিভির









