প্রবাসী কে হত্যা করে, প্রেমিকার বিরিয়ানি-পার্টি

ছবি সংগ্রহ
ছবি সংগ্রহ
মুক্তিবাণী অনলাইন ডেক্স

রাজধানীর মুগদার মান্ডা এলাকার আবদুল গনি রোডের ফাঁকা জায়গা থেকে মরাপচা গন্ধ পাওয়ার পর থমকে যায় সবাই। রোববার (১৭ মে) বিকেলে পুলিশ এসে উদ্ধার করে পলিথিনে মোড়ানো এক ব্যক্তির দেহের ৭ টুকরা। পাশের ময়লার স্তূপ থেকে উদ্ধার হয় মাথার অংশ। নিহতের নাম মোকাররম মিয়া (৪৫)। সৌদি প্রবাসী এই মোকাররমের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। এতটুকুই জানা ছিল প্রথমে; অথচ এর আড়ালে লুকিয়ে ছিল চাঞ্চল্যকর এক হত্যাকাণ্ডের নীলনকশা।

চাঞ্চল্য এড়াতে ছায়া তদন্তে নামে র্যাব। গ্রেফতার করা হয় হেলেনা বেগম (৪০) ও তার ১৩ বছর বয়সি মেয়েকে। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে অমানবিক এক কাহিনি। সোমবার (১৮ মে) সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, সৌদি প্রবাসী বন্ধু সুমনের স্ত্রীর সঙ্গেই পরকীয়ায় জড়ান মোকাররম। সেই সুবাদে প্রেমিকা তাসলিমা আক্তার ওরফে হাসনা (৩১) পান ৫ লাখ টাকা।

গত ১৩ মে হঠাৎ সৌদি থেকে দেশে ফিরে মোকাররম সরাসরি যান প্রেমিকা তাসলিমার কাছে। তাসলিমা তাঁকে নিয়ে ওঠেন বান্ধবী হেলেনার বাসায়। সেখানে গিয়ে মোকাররম বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু তাসলিমা রাজি না হওয়ায় তিনি ৫ লাখ টাকা ফেরত চান। পাশাপাশি অন্তরঙ্গ ছবি ভাইরাল করার হুমকি দেন। এই ক্ষোভ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা সাজান তাসলিমা ও হেলেনা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৪ মে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মোকাররমকে অচেতন করার পর বালিশ চাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টা চালান হেলেনা। মোকাররম জেগে উঠলে তাকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন তাসলিমা। তারপর বটি দিয়ে কোপ দেন হেলেনা। কিন্তু তখনও নিশ্চিত মৃত্যু হয়নি—এক পর্যায়ে হেলেনার ১৩ বছরের মেয়ে এসে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় বারবার আঘাত করে মোকাররমের প্রাণ নেয়। এরপর মরদেহ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেওয়া হয় ধামাচাপা দিতে।

তবে নৃশংসতার এখানেই শেষ নয়। হত্যার পর দিন অর্থাৎ ১৫ মে অভিযুক্ত হেলেনা বেগম, তাঁর মেয়ে ও পলাতক তাসলিমা একসঙ্গে একটি হোটেলে গিয়ে বিরিয়ানি খান। রাতে বাসায় ফিরে ছাদে পার্টি করেন তিনজন। দেহের খণ্ডিতাংশ উদ্ধারের পরই আত্মগোপনে চলে যান তাসলিমা। তিনি এখনও পলাতক, তাঁর গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে র্যাব।

মোকাররমের মরদেহের ৮ টুকরো যখন পলিথিন থেকে উদ্ধার হয়, তখনও আঙুলের ডগায় লেগেছিল কাপড়ের আঁচল, চুলে বন্দি ছিল হোটেলের বিরিয়ানির গন্ধ, ছাদের পার্টির ফুর্তি। হত্যার এতটুকু অনুতাপ নেই—বরং উদযাপন। পরকীয়ার টাকার লেনদেন, অস্ত্রের ঠাণ্ডা আঘাত, আর তারপর নিষ্ঠুরতার মিছিল—এই নারীরা যেন দিনের আলোয় বিষে ভেজা দানব। তাসলিমা যেখানেই লুকাক, আইনের চোখ তাকে খুঁজে বের করবেই। কারণ রাজপথের পচা গন্ধ থেমে থেমে এখনও বলে যাচ্ছে—মানুষ হত্যা করে বিরিয়ানি খাওয়ার অভ্যাস কাউকে যেন ক্ষমা না করে।

মুক্তিবাণী

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও