ভারতে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে মৌলভীবাজারে বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিবাদ মিছিল

ছবি মুক্তিবাণী
ছবি মুক্তিবাণী
শহর প্রতিনিধিঃ

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিম নাগরিকদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, গুলি, গণপিটুনি, বাড়িঘর ও দোকানপাট জ্বালিয়ে দেওয়া এবং মসজিদ-মাদরাসা ভাঙচুরের প্রতিবাদে শুক্রবার (২২ মে) জুমার নামাজের পর মৌলভীবাজারের চৌমুহনায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘সচেতন নাগরিক সমাজ, মৌলভীবাজার’ এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

বিকাল সোয়া ২টার দিকে জুমার নামাজ শেষে হাজারো মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দারা দেওয়ানী জামে মসজিদের সামনে জড়ো হন। হাতে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে নারী-পুরুষ-শিশু সব শ্রেণির মানুষ অংশ নেন। ফেস্টুনে লেখা ছিল—‘ভারতীয় মুসলিমদের গণহত্যা বন্ধ করো’, মুসলিম উম্মাহ জিন্দাবাদ ’, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চাই’, ‘কাশ্মীর থেকে আসাম, সর্বত্র ন্যায় চাই’। 

বক্তারা বলেন, ভারতের বিজেপি-শাসিত কেন্দ্রীয় সরকার ও কয়েকটি রাজ্যের হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইচ্ছাকৃতভাবে মুসলিম সংখ্যালঘুদের টার্গেট করছে। সংবাদমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট, রাজস্থান, বিহার ও আসামে কমপক্ষে ২৭ জন মুসলিম নিরাপত্তা বাহিনী ও উগ্রপন্থিদের হাতে নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন শতাধিক। জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান বক্তারা। তারা বলেন, সংবিধানের আড়ালে ভারতীয় মুসলিমদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক বানানো হচ্ছে।

সমাবেশে বক্তারা নিম্নলিখিত কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন:

১. ভারতীয় সরকারকে তাৎক্ষণিকভাবে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে।

২. নির্যাতনকারী পুলিশ ও উগ্রপন্থিদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

৩. জাতিসংঘ ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) হস্তক্ষেপ দাবি।

৪. বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়—সংকটে থাকা ভারতীয় মুসলিমদের জন্য সীমান্ত খুলে দেওয়া ও মানবিক সহায়তা দেওয়া।

৫. বিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির আহ্বান।

আয়োজক সংগঠন ‘সচেতন নাগরিক সমাজ, মৌলভীবাজার’-এর পক্ষ থেকে সিনিয়র সাংবাদিক আনহার আহমদ শামসাদ বলেন “ভারতে প্রতিদিন মুসলিম নারীদের হিজাব খোলানো হচ্ছে, শিশুরা স্কুলে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, মুসলিম যুবকদের আত্মগোপন করতে হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমে এসব খবর চাপা দেওয়া হয়। আমরা প্রতিবাদ করছি এবং সারা দুনিয়ার বিবেকবান মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

বিকাল ২টা ১৫ মিনিটে সমাবেশ শেষে একটি বর্ধিত বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি দেওয়ানী মসজিদ প্রাঙ্গন থেকে, প্রেসক্লাব মোড় হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পথে পথে প্রতিবাদী স্লোগান ও সুরক্ষা কামনায় দোয়া করা হয়। ফের মসজিদ প্রাঙ্গণে এসে সংক্ষিপ্ত সমাপনী বক্তব্যে আরও তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

আর আমরা এ মিছিল থেকে দাপটের সঙ্গে বলে দিচ্ছি—ভারতের নির্যাতিত নারী, বৃদ্ধ, শিশু ও যুবকরা একা নয়। আজ মৌলভীবাজারের রাস্তায় নামা এই বিশাল জনতা আগামীকাল ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেটসহ গোটা বাংলাদেশ ও বিশ্বের মুসলিমপ্রধান দেশগুলোতে আরও প্রবল আকার ধারণ করবে। সারা বিশ্বের বিবেকবান মানুষের কাছে আমাদের বার্তা: নীরবতা যেন জালেমদের পক্ষে যুদ্ধাস্ত্র না হয়। আমরা ঘোষণা করছি, ভারতের শাসক নরেন্দ্র মোদি ও তার মদদদাতাদের ফাঁসির দাগ ইতিহাসের পাতায় আমরা লিখে রাখছি। প্রতিটি শহিদের রক্ত আমাদের ধিক্কারকে আরও তীক্ষ্ণ করছে। সাবধান, ভারতীয় হিন্দুত্ববাদীরা—আপনাদের আজকের এই জুলুম আগামীকাল নিজেদের গলায় ফাঁস হয়ে ফিরবে। আমাদের দাবি স্পষ্ট, বিনা শর্তে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে, ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, দোষীদের ফাঁসি দিতে হবে। বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশে শেষ হুঁশিয়ারি: যদি আজ এই প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর আপনারা শুনতে না পান, তাহলে আগামী প্রজন্ম আপনাদের জিজ্ঞাসা করবে—মানুষ ছিলেন না পাথরের মূর্তি? আমরা আজ রাস্তায় নামছি, আগামীকাল যদি ন্যায় না মেলে, তাহলে মরুভূমির ঝড়ের মতো আছড়ে পড়ব ভারতের দিল্লি-মুম্বাইয়ে। জয়বাংলা, জয় উম্মাহ, জয় মুসলিম ন্যায়ের পথযাত্রা। বাংলার মাটি কাঁপিয়ে বলো—ভারতীয় মুসলিমের পাশে থাকব আজীবন, যতদিন না শেষ নিঃশ্বাস। ইনশাআল্লাহ, ন্যায়ের সূর্য ওদিকেই উদয় হবে।

মুক্তিবাণী

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও