প্রায় এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বড়লেখা উপজেলার ১০ নং দক্ষিণ ভাগ ইউনিয়নের পূর্ব দক্ষিণ ভাগ গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবারের একমাত্র যাতায়াতের পথটি বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন স্থানীয় জৈনিক মনাই মিয়া ও তাঁর সঙ্গীরা। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির মাধ্যমে তারা শতবর্ষী এই সড়কটিকে বিলুপ্তির পথে ঠেলে দিতে তৎপর হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো প্রশাসনের দ্বারস্থ হন।
![]()
গত ১১ মে এলাকার ভুক্তভোগী প্রায় ৫০টি পরিবারের পক্ষ থেকে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে গত ২২ মে শুক্রবার বিকাল ৪টায় বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব আলম মাহবুবের নেতৃত্বে ও থানা অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান মিয়া সরেজমিনে জায়গাটি পরিদর্শন করেন। এ সময় উভয় পক্ষ ও স্থানীয় গ্রামবাসীর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় বসে সমস্যার টেকসই সমাধানে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালান।
![]()
পরিদর্শনকালে ১০ নং দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান এনামুর রহমান, বিএনপি নেতা ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব ইকবাল আহমদ, সাংবাদিক ও নিসচা জেলা সেক্রেটারি মো. মেরাজ চৌধুরীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
![]()
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য রুবেল আহমদ ও মাওলানা খলিলুর রহমান বলেন, “প্রায় দুই শত বছর ধরে আমাদের পূর্বপুরুষরা এই রাস্তাটি ব্যাবহার করে আসছেন। এটি আমাদের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু কিছুদিন ধরে মনাই মিয়া ও তার চক্র রাস্তাটি বন্ধের নানা অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে আমাদের প্রায় ৫০টি পরিবারের চলাচল অসহনীয় সংকটে পড়েছে। রাস্তাটি শুরুতে ১৩ ফুট প্রশস্ত ছিল। কিন্তু মধ্যখানে ভূমিদস্যু মনাই মিয়া গং টিনের বেড়া ও একটি পাকা ঘর নির্মাণ করে ফেলায় বর্তমানে তা ৩ ফুটে এসে দাঁড়িয়েছে। যা আমাদের চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী। জরুরি মুহূর্তে কোনো রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া তো দূরের কথা, কোনো ব্যক্তি মারা গেলে সেই রাস্তা দিয়ে লাশও বের করার সুযোগ নেই। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক ও অপমানজনক। আমরা শত বছরের পুরনো রাস্তাটি পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের জোরালো পদক্ষেপ দাবি করছি।”
![]()
অন্যদিকে মনাই মিয়া গংয়ের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা রাস্তাটি শত বছরের পুরনো বলে স্বীকার করে। তবে তাদের দাবি, রাস্তাটি তাদের নিজস্ব খতিয়ানভুক্ত জমির ওপর দিয়ে গেছে। তাদের কথায়, “জমির মালিক হিসেবে আমাদের অধিকার রয়েছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব আলম মাহবুব ও ওসি মনিরুজ্জামান মিয়া জানান, “জনসাধারণের স্বার্থ ও আইনগত দিক বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
![]()
ভুক্তভোগী পঞ্চাশ পরিবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও মনাই মিয়া গংয়ের তৎপরতায় এখনও শতবর্ষী এ সড়কটি অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে। এলাকাবাসীর চলাচলের মৌলিক অধিকার ও জরুরি সেবার প্রয়োজনে প্রশাসনকে এখন কঠোর আইনি পন্থা অবলম্বন করতে হবে। জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ‘পাবলিক প্রপার্টি’ আইন ও স্থানীয় সরকার বিধি অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে টিনের বেড়া ও পাকা নির্মাণ অপসারণে জেলা প্রশাসনকে পদক্ষেপ নিতে হবে। ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন এবং ভুক্তভোগীদের ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনে আশ্রয় দেওয়াই এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় এ রাস্তা বন্ধের ঘটনা অন্যত্র আরও বিশৃঙ্খলার উসকানি দেবে। প্রশাসনের কাছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি—এখনই সিদ্ধান্তমূলক অভিযান চালিয়ে শতবর্ষী পথের মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে, নইলে আরও কঠোর আন্দোলনের দিকে যেতে পারে ভুক্তভোগীরা।











পাঠকের মন্তব্য