সমকালীন বাংলা কবিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর কবি পিয়াস মজিদকে নিয়ে বৃটেনের বার্মিংহামে সাহিত্য আড্ডা ও কবিতা পাঠের আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। আড্ডায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী নার্গিস আসার খানমের কবর খুঁজে বের করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান কবি পিয়াস মজিদ।
![]()
বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে স্মলহীথের এমটি ক্যাটারিং মিলনায়তনে মিডল্যান্ডস সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ, ইউকের উদ্যোগে আয়োজিত আড্ডায় সংগঠনের সভাপতি ছড়াকার ও সম্পাদক সৈয়দ নাসির আহমদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির সহকারী পরিচালক কবি পিয়াস মজিদ।
![]()
মিডল্যান্ডস সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ, ইউকের সাধারণ সম্পাদক কবি ও গবেষক সৈয়দ মাসুমের সঞ্চালনায় আড্ডায় অতিথি ছিলেন সাপ্তাহিক সুরমা–এর সাবেক সম্পাদক কবি আহমদ ময়েজ, চলচ্চিত্রকার মকবুল চৌধুরী এবং বাংলা ভয়েস–এর সম্পাদক মোহাম্মদ মারুফ।
![]()
এসময় কবি মাহবুব মোহাম্মদ, সাহিত্যিক নোমান আল মনসুর, কবির উদ্দিন, সাংবাদিক সোহেল আহমদ চৌধুরী, কবি এবাদুল ইসলাম, বার্মিংহাম মিডল্যান্ড প্রেসক্লাবের সভাপতি জিয়া তালুকদার, এটিএন বাংলার প্রতিনিধি বদরুল আলম, সাংবাদিক রিয়াদ রায়হান, কবি জামান কয়েস, কবি সৈয়দ ফরহাদ, শমসেদ চৌধুরী, মাজেদুল হক চৌধুরী মিন্টু, সৈয়দ শহিদ আলী, সৈয়দ জাবিরসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি বাংলা একাডেমির সহকারী পরিচালক কবি পিয়াস মজিদ নিজের কবিতা পাঠের পাশাপাশি সমকালীন বাংলা কবিতা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, কবিতার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব সময়কে ধারণ করা। প্রতিটি যুগের কবিতা সেই সময়ের সমাজ, মানুষ ও জীবনবোধের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। তিনি বাংলা কবিতার ধারাবাহিকতা ও ঐতিহ্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, কবি নজরুলের প্রথম স্ত্রী নার্গিস আসার খানমের কবর যুক্তরাজ্যে রয়েছে। বিষয়টি গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত করে কবরটি খুঁজে বের করা এবং যথাযথভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তাঁর ভাষায়, এটি শুধু নজরুল গবেষণার জন্য নয়, বাংলা সাহিত্য ও ইতিহাস সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সাপ্তাহিক সুরমা–এর সাবেক সম্পাদক কবি আহমদ ময়েজ তার বক্তব্যে বলেন, পিয়াস মজিদ সমকালীন বাংলা কবিতার এক স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর। তাঁর কবিতায় ভাষার নান্দনিকতা, চিন্তার গভীরতা এবং সময়ের স্পন্দন অনন্যভাবে ফুটে ওঠে। প্রবাসে তাঁকে নিয়ে এমন আয়োজন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
কবিতা পাঠ, সাহিত্য আলোচনা ও প্রাণবন্ত মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হওয়া আড্ডায় বক্তারা প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।










পাঠকের মন্তব্য