আজ রাজধানীর প্রবেশপথে অবস্থান নেবে বিএনপি মহাসমাবেশ হলো জনসমুদ্র

ছবি সংগ্রহ
ছবি সংগ্রহ
মুক্তিবাণী অনলাইন ডেক্স :

রাজধানী ঢাকা হয়ে উঠেছিল উত্তাল। এক দফার আন্দোলনের ঢেউ যেন আছড়ে পড়ছিল আকাশে-বাতাসে। ভোটের অধিকার হারানো লাখো মানুষের গগণ বিদারী ম্লোগান; সে এক অন্যরকম দৃশ্য, অন্যরকম ঢাকা। ভোটের অধিকার আদায়ে রাজপথে মানুষের দৃঢ় অবস্থান জানান দিচ্ছে যেন জনগণের ভোটের অধিকার আদায়ের নতুন সূর্য্য উঠতে আর বেশি দেরি নেই। সকাল থেকেই সূর্যের খরতাপ, প্রচ- রোদ আর গরম। রাজধানীর সড়কগুলোতে অন্যদিনের তুলনায় ছিল গাড়ীর সংখ্যা কম। এরই মধ্যে নানা মাধ্যমে মানুষ ছুটছিলেন নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশের দিকে। সমাবেশের নিরাপত্তার জন্য শান্তিনগর, কাকরাইল মসজিদের সামনে, পুরানা পল্টন, মতিঝিলে সড়ক বন্ধ রাখে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। 

এসব পয়েন্টে জড়ো হয়ে খ- খ- মিছিল নিয়ে সমাবেশের মঞ্চের দিকে এগুতে থাকেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। যেন ছোট ছোট মানুষের ঢেউ গিয়ে মিলিত হচ্ছিল কোন সমুদ্রে। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বেলা ২টা থেকে মহাসমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকেই নেতাকর্মীরা নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে জড়ো হতে থাকেন। সকাল ১০টার আগেই একদিকে নাইটিঙ্গেল মোড় অন্যদিকে ফকিরাপুল সড়কের দুইপাশেই লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। বেলা ২টায় সমাবেশ শুরুর আগেই একদিকে শান্তিনগর, কাকরাইল মসজিদ, পুরানা পল্টন, অন্যদিকে মতিঝিল, দৈনিক বাংলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে মহাসমাবেশ। মূল সড়কে জায়গা না পেয়ে আশপাশের সকল অলি-গলিতেও ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। তখনও ঢাকা ও ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো থেকে নেতাকর্মীরা খ- খ- মিছিল নিয়ে ছুটছিলেন নয়াপল্টনে। পুরো এই এলাকায় ছিল না তিল ধারণের ঠাঁই। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে নয়াপল্টনের মহাসমাবেশ পরিণত হয়েছিল জনসমুদ্রে। তখনো মিছিলের ঢেউ আঁছড়ে পড়ছিল সেই জনসমুদ্রে। দলটির এই মহাসমাবেশ দেখে অনেকেই বলছিলেন এটি স্মরণকালের সর্ববৃহৎ সমাবেশ। যদিও সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের খরতাপ, প্রচ- গরম, এর পর কয়েক দফায় বৃষ্টি; ঘেমে-নেয়ে-ভিজে একাকার। কিন্তু তারপরও রাজপথেই ছিলেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। কোনকিছুতেই যেন দমবেন নন তারা। রোদ, বৃষ্টি, কাদা, পানি উপেক্ষা করেই অংশ নিয়েছিলেন বিএনপির মহাসমাবেশে। তাদের মুষ্টিবদ্ধ হাত আর কণ্ঠে বজ্রধ্বনিতে স্লোগান। ‘এক দফা এক দাবি, হাসিনা তুই কবে যাবি’, ‘দেশ যাবে কোন পথে, ফয়সালা হবে রাজপথে’ ‘দফা এক দাবি এক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ’, ইত্যাদি শ্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত করে তুলেন নয়াপল্টন থেকে মতিঝিল, কাকরাইলসহ আশপাশের এলাকা।

নয়াপল্টনের এই মহাসমাবেশ থেকে অবিলম্বে বর্তমান সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের এক দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শনিবার ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ পথে অবস্থান নেবে দলটির নেতাকর্মীরা।

কর্মসূচি ঘোষণার আগে মির্জা ফখরুল বলেন, অবিলম্বে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারকে পদত্যাগ ও সংসদ বিলুপ্ত করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের দ্বারা নির্বাচন দিতে হবে। অন্যথায় কোনো নির্বাচন দেশের মানুষ মেনে নেবেনা। শুধু বাংলাদেশের জনগণ নয়, গোটা বিশ্ব বলছে বাংলাদেশে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর ধরে কারাগারে অন্তরীণ রাখা হয়েছে। কারণ তিনি গণতন্ত্রের পক্ষে হ্যামিলনের বংশীবাদক। তারই সুযোগ্য বড় ছেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে বিদেশে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। সুদূর বিদেশে থেকে তিনি একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রাষ্ট্রের সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বিচার বিভাগ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন দলীয় করণ করেছে। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির জন্য সরকারকে দায়ী করে তিনি বলেন, আজকে মানুষ দু’বেলা দু’মুঠো খেতে পারে না। সরকার বলেছিল ১০ টাকা কেজি চাল দিবে, ঘরে ঘরে চাকরি দেবে। দিতে পেরেছে? বরং দ্রব্যমূল্য এমন বেড়েছে যে, মানুষের জীবন এখন আর চলে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার বিদ্যুৎ নিয়ে অনেক বড় বড় কথা বলেছিল। কিন্তু এখন দেখায় যায় ঢাকার বাইরে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। অথচ এই বিদ্যুতের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে। গত ১৪ বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে বাংলাদেশ থেকে। আবার বিদেশ থেকে পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনতে ইনসেনটিভ দিয়ে রেমিটেন্স বাড়াচ্ছে। আসলে তারা দেশের অর্থনীতি, রাষ্ট্র ব্যবস্থা সব ধ্বংস করেছে। নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। মানুষ আর ভোট দিতে যায় না। কারণ নির্বাচনে ও নির্বাচন কমিশনে জনগণ আর আস্থা পায়না।

তিনি বলেন, আমরা রাজপথে লড়াইয়ে নেমেছি। একটি মাত্র লক্ষ্য আমরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চাই, ভোটের অধিকার চাই। আমরা পরিষ্কার করে বলেছি, এই সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে তরুণ প্রজন্মকে বেশি ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। আমাদের নেতা তারেক রহমান যে ডাক দিয়েছেন একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কথা সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে। যেখানে তরুণ যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, বেকাররা ভাতা পাবে, একটি ন্যায় বিচার বিভাগ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি আরো বলেন, চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আমাদের ৬ শত নেতাকর্মী গুম, হাজার হাজার নেতাকর্মী হত্যা ও চল্লিশ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে। এসব করে আমাদেরকে থামানো যাবে না।

বিএনপির অন্যতম এই শীর্ষ নেতা পুলিশ-প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, অবৈধ সরকারের কোনো বেআইনি আদেশ-নির্দেশে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না। আইনের শাসন মেনে চলুন, অন্যায়ভাবে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, হয়রানি বন্ধ করুন, কারাবন্দী নেতাকর্মীদের মুক্তি দিন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করুন।

সরকারের উদ্দেশ্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভালো চাইলে এখনো সময় আছে এক দফা মেনে পদত্যাগ করুন। এসময় তিনি দুদিন ধরে কষ্ট করে যেসব নেতাকর্মী মহাসমাবেশে উপস্থিত ছিলেন তাদের সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। মহাসমাবেশে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

অবিলম্বে বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দীদের মুক্তির এক দফা দাবিতে এই মহাসমাবেশের আয়োজন করে বিএনপি। সকাল নয়টার মধ্যেই নয়াপল্টনের চারপাশ লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। বেলা গড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোকসমাগমের পরিধি আরামবাগ, ফকিরাপুল, কাকরাইল, শান্তিনগর, মতিঝিল, দৈনিক বাংলা, পুরানা পল্টন মোড়, সেগুনবাগিচা সহ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। দিনভর কয়েকবার ঝুম বৃষ্টিতে ভিজেই নেতাকর্মীরা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। সারাদেশ থেকেই হাজার হাজার নেতাকর্মী ঢাকার মহাসমাবেশে যোগদান করেন। বিএনপির অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী মহাসমাবেশে সংহতি জানিয়ে যোগদান করেন। মহাসমাবেশে আগত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক জরুরি চিকিৎসাসেবা সহায়তা দিয়েছে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)।

মহাসমাবেশ থেকে বিএনপি নেতারা বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু, লুৎফুজ্জামান বাবর, কাজী সলিমুন হক কামাল, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, রফিকুল আলম মজনু, সাইফুল ইসলাম নিরব, শেখ রবিউল আলম রবি, আব্দুল মোনায়েম মুন্না, ইউসুফ বিন জলিল কালু, এসএম জাহাঙ্গীর, মিয়া নূরুদ্দিন অপু, গোলাম মাওলা শাহীনসহ কারাবন্দী সকল নেতাকর্মীর মুক্তি দাবি করেন।

সভাপতির বক্তব্যে মির্জা আব্বাস বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ ঢাকায় এসেছে। কিন্তু তাদেরকে ভালোমতো থাকতে দেয়নি অবৈধ সরকারের অনুগত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিরপরাধ লোকগুলোকে বিভিন্ন হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করেছেন। এক হাজার লোককে গ্রেফতার করে কি করলেন? একটা সমুদ্র থেকে এক ফোঁটা পানি নিয়েছেন। কিন্তু জনগণের সমাবেশ আটকাতে পারেন নি।

তিনি বলেন, আমরা কিন্তু কখনো অনুমতি চাইবোনা। কারণ জনগণ ফুঁসে উঠেছে। তাদেরকে থামাতে হলে ভোটাধিকার ফেরত দিন। অবিলম্বে পদত্যাগ করেন। জনগণ আপনাদের পাশে নেই। কদিন আগে উপনির্বাচনে ৯৫ ভাগ লোক আপনাদের ভোট দেয়নি। আজকে এই সরকারের পতনের সময় ঘনিয়ে আসছে। ইনশাআল্লাহ আপনাদের পতন ঘটাবো। উল্টাপাল্টা কথা বলা বন্ধ করুন তাহলে জনগণ আপনাদের ক্ষমা করলে করতে পারে।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, অবিলম্বে জনগণের দাবি মেনে নেন। পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। গণতন্ত্রের পথে যাবেন না গণতন্ত্রের পথের বাইরে যাবেন?

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক বিশ্ব হাসিনার প্রতি বিরক্ত। তারা বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন চায়, কিন্তু হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। অন্যদিকে ভারত, চীন, রাশিয়া হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে চায়। বড় বড় ব্যবসায়ী, ভূমিদস্যু, লুটেরা, মানবপাচারকারী যারা গত ১৫ বছর ধরে দেশের অর্থ-সম্পদ লুট করছে তারা সভা করে বলেছে শেখ হাসিনাকে সারাজীবন ক্ষমতায় চান। পুলিশের কয়েকজনের মনোভাবও সেরকম তারাও তাদের জন্য ক্ষমতায় রাখতে চান। আদালতও তাকে ক্ষমতায় রাখতে মরিয়া। কারণ এসবগুলোই তার হাতের মুঠোয়। এজন্য ফয়সালা করতে হবে রাজপথে।

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ঢাকায় থাকবেন। এই সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবেন না। গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, শেখ হাসিনা কোথায় যাবেন, দেশে না বিদেশে ভাবতে পারছে না। তার দলের নেতারা বলছেন ক্ষমতা ছাড়লে এক লাখ লোক মারা যাবে। কিন্তু কি এমন পাপ করেছেন যে, ক্ষমতা ছেড়ে দিলে জীবন নাশের হুমকি আছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করে থাকলে রাজকোষে জমা দিন, জনগণের কাছে ক্ষমা চান। এরপর টুঙ্গিপাড়া কিংবা ধানম-িতে শান্তিতে থাকেন। কেউ কিছু বলবে না। অন্যরা যারা অর্থ-সম্পদ লুট করেছেন, পাচার করেছেন তারা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিন। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন জনগণ যাকে ভোট দেবে তিনিই সরকার গঠন করবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আপনাকে চীন টাকা দেবে, ভারত মদদ দেবে কিন্তু ভোট দেবে জনগণ। দেশের মালিক ভারত, চীন বা রাশিয়া নয়, মালিক হচ্ছে জনগণ। তবে দেশের গণতন্ত্রের পক্ষে যারা কথা বলছেন তাদের স্বাগত জানান তিনি। এসময় গয়েশ্বর বলেন, দেশে হাসিনার চেয়ে খুনি ও বড় জঙ্গি কেউ নেই। সে চুরিতে এক্সপার্ট। ভোট ডাকাতিতে এক্সপার্ট। আর জন্মগত মিথ্যাবাদী।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যারা ইন্টারনেট বন্ধ করেছেন তারা বর্তমান ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে আরেকটি ভোট চুরি প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছেন। তারা অবৈধ সরকারের দালাল। মহাসমাবেশ ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় আমাদের অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা সবাই গণতান্ত্রিক পরিবেশ ব্যাহত করছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা তো নেই। ব্যাগ গুছিয়ে গণভবন ত্যাগ করা ছাড়া তার আর কিছুই করার নেই। অতএব আপনি প্রস্তুত হোন। গণভবন ত্যাগ করুন। ইতোমধ্যে ১৪ জন মার্কিন কংগ্রেসম্যান বিবৃতি দিয়ে বলেছেন শেখ হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। সুতরাং কার ওপর ভর করে ভোট চুরির প্রকল্প নিয়ে এগোচ্ছেন? আপনার আগে পিছে ডানে বামে কেউ নেই। সংবিধানের অধীনে নির্বাচন ভুলে যান। বাংলাদেশের সংবিধান তো আর সংবিধান নেই!

তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে বের হয়ে আসবেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সামনে এগিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা গোটা জাতির উপর দৈত্যের মতো বসে আছে। আজকের সমাবেশ ঘিরে আমাদের নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়া হয়েছে। তবুও পদ্মা মেঘনার প্রবল ঢেউয়ের মতো মানুষ আমাদের মহাসমাবেশে উপস্থিত আছেন। অন্যদিকে আরেকটি দলের সমাবেশে খালি চেয়ার। সেখানে বাবুই পাখি আর শালিক পাখি ছাড়া কিছুই দেখিনি। আজকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সারাবিশ্বে প্রতিবাদ হচ্ছে। ১৪ জন মার্কিন কংগ্রেসম্যান বিবৃতি দিয়েছেন। তারা জাতিসংঘের প্রতিনিধিকে শান্তি রক্ষী বাহিনীতে নিয়োগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলেছেন। আজকে আপনার বিরুদ্ধে গোটা বিশ্ব সোচ্চার।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের সভাপতিত্বে ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান ও দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবদুস সালামের যৌথ পরিচালনায় বক্তব্য দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, শাহজাহান ওমর, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, আহমেদ আযম খান, এডভোকেট জয়নাল আবেদীন, নিতাই রায় চৌধুরী। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মিজানুর রহমান মিনু, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জয়নুল আবদীন ফারুক, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের মধ্যে আসাদুল হাবিব দুলু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, এডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, মাহবুবের রহমান শামীম, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ঢাকা জেলা বিএনপির নিপুন রায় চৌধুরী, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, স্বেচ্ছাসেবক দলের এসএম জিলানী, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, ছাত্রদলের কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসাইন, তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, মৎস্যজীবী দলের রফিকুল ইসলাম মাহাতাব প্রমুখ।

---

পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে ইউনিভার্সিটি টিচার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, অধ্যাপক শামসুল আলম সেলিম, অধ্যাপক নূরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) মে. শহিদুল ইসলাম, খুরশিদ আলম, মো. রাশেদুল হক, এসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স এর প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু, মো. মোস্তাফা-ই জামান সেলিম, আসাদুজ্জামান চুন্নু, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশনের মো. এমএইচ পাটোয়ারী মিলন, যুবদলের সহ-সভাপতি মাহবুবুল হাসান ভূইয়া পিংকুসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা’র প্রবেশ মুখে অবস্থান কর্নসূচি: যুগপৎ ধারায় ঘোষিত ১ দফা শেখ হাসিনা›র পদত্যাগসহ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে আজ শনিবার সকাল ১১ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ঢাকার প্রবেশ পথগুলোতে অবস্থান করবে বিএনপি। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি উত্তরা বিএনএস সেন্টার উল্টো দিকে রাস্তার পূর্ব পাশে অবস্থান নেবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। গাবতলীতে গাবতলী এস এ খালেক বাস স্টেশন সামনে অবস্থান নেবে উত্তর বিএনপি। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি নয়াবাজার বিএনপি অফিসের সামনে অবস্থান নেবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। যাত্রা বাড়ি হানিফ ফ্লাই ওভার থেকে নেমে চট্টগ্রাম রোড দনিয়া কলেজ সংলগ্ন এলাকায়ও দক্ষিণ বিএনপি অবস্থান নেবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

এছাড়া গণতন্ত্র মঞ্চ মিরপুর মাজার রোডে, ১২ দলীয় জোট চট্টগ্রাম রোড দনিয়া কলেজ পার হয়ে, গণফোরাম ও পিপলস পার্টি মতিঝিল নটরডেম কলেজ উল্টো দিকে গণফোরাম চত্বর, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট চট্টগ্রাম রোড সাইনবোর্ড পার হবার আগে, এলডিপি উত্তর আজমপুর বাস স্টেশন সংলগ্ন, গাবতলী টেকনিক্যাল মোড়, যাত্রা বাড়ি মোড়, গণ অধিকার পরিষদ উত্তরা আজমপুর ওভার ব্রীজ সংলগ্ন ও চট্টগ্রাম রোড শনির আঁকড়া ওভার ব্রীজ সংলগ্ন এলাকা। এনডিএম চট্টগ্রাম রোড সাইনবোর্ড সংলগ্ন এলাকায়।

সর্বশেষ আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২৩, ০২:৩৬
মুক্তিবাণী

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

ভিডিও