তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে নদীপারের শহস্রাধিক মানুষের অংশগ্রহণে রংপুরে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের গণপদযাত্রা পূর্ব উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, আমরা বকশিস চাই না, ভিক্ষা চাই না,পানির হিস্যা চাই। আমরা ভারতের কাছে পানি ছাড়া অন্য কিছু চাই না। আমরা হিসাবের পাওনা চাই। আমাদের হিসেবের পাওনা দিতে হবে আজকে না হলে কালকে। তিনি বলেন, পানি কখনও মারনাস্ত্র হতে পারে না। পানি কখনও যুদ্ধের অস্ত্র হতে পারে না। একমাত্র ভারত বিশ্বে দেখিয়ে দিলো, পানি তারা যুদ্ধের ও মারনাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, আমাদের কাছে ভারতের অনেক কিছু আছে। আমাদের কাছে ভারতের অনেক পোর্ট আছে। মংলা পোর্ট আছে, চট্রগ্রামে আছে। আমরা এগুলো হিসেব করবো। হিসেব করার সময় এসেছে। আমাদের তিস্তার পানি দিতে হবে। ফারাক্কার পানি চাই। দিতে হবে। যেখানে যেখানে পানি দরকার সেখানে সেখানে পানি দিতে হবে। শুধুমাত্র সরকারের অপেক্ষায় আছি। কিছুদিন আগে যে সরকার ছিলো, তারা সরকারে থাকার ইচ্ছে থেকে ভারতের সাথে এসব হিসেব করেন নাই। আমরা অনেক আগেই পানির ন্যায্য হিস্যা পেতাম। যদি হাসিনার মতো একটা সন্ত্রাস সরকার না আসতো। এই পানির জন্য তারা ভারতের কাছে কিছু বলতে পারে নাই।
এসময় তিনি আসাদুল হাবিব দুলুকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, দুলু উত্তরবঙ্গের একজন প্রতিবাদী মুখ। একজন কৃতি সন্তান। তাই দুলু তুমি সাবধানে থাকবে। কেননা ভারত কখনও এই ধরণের প্রতিবাদি মুখ সহ্য করতে পারে না। ইতিপূর্বে শুধুমাত্র সুরমা নদীর বাধের জন্য আমাদের ইলিয়াছ আলীকে গুম করা হয়েছে।
রবিবার (৪ মে) বিকেলে তিস্তা চুক্তি ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে গণপদযাত্রার পূর্বে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বরে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এ কথাগুলো বলেন।
গণপদযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ও বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলু’র সভাপতিত্বে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, রংপুর মহানগর বিএনপির আহবায়ক সামসুজ্জামান সামু, জেলা বিএনপির আহবায়ক সাইফুল ইসলাম, সদস্য সচিব আনিছুর রহমান লাকু, বিএনপি নেতা এমদাদুল হক ভরসা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের ব্যানারে সাড়ে পাঁচটার দিকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষক সংগঠন, শ্রমজীবী মানুষ, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পদযাত্রাটি শাপলা চত্বর থেকে শুরু হয়ে রংপুর জিলা স্কুল মাঠ পর্যন্ত ছাড়িয়ে গিয়ে এক গণআন্দোলনে রূপ নেয়। গণপদযাত্রায় নদীপারের মানুষ সহ তিস্তা বাঁচাও আন্দোলনের বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত প্লাকার্ড ও ব্যানার হাতে অংশ নেন শহস্রাধিক মানুষ।
বক্তারা এসময় তিস্তা নদী নিয়ে আন্দোলনের আয়োজনের প্রশংসা করেন এবং তিস্তা আন্দোলন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলনের সাথে থাকার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।
পাঠকের মন্তব্য