২৮ জুলাই, সোমবার দুপুর ২টার দিকে (১:৪৫ মিনিটে) লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশনের নিকটবর্তী বিডিআর গেট এলাকার ওয়ার্কশেড সংলগ্ন রেললাইনে এই সংঘর্ষ ঘটে ।
![]()
২. ট্রেন দুটির পরিচয়:
- লালমনি এক্সপ্রেস (৩০১১ সিরিজ): ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ট্রেনটি যাত্রী নামানোর পর পরিষ্কারের জন্য ওয়ার্কশেডের দিকে যাচ্ছিল। এতে কোনো যাত্রী ছিল না ।
- বুড়িমারী কমিউটার (নং ৪৬১/৬৬): বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে পার্বতীপুরগামী এই ট্রেনটি লালমনিরহাট স্টেশনে প্রবেশকালে সংঘর্ষে জড়ায় ।
৩. সংঘর্ষের কারণ: প্রাথমিকভাবে সিগন্যাল বিভ্রাট বা ভুল সিগন্যালকে দায়ী করা হয়েছে। লালমনি এক্সপ্রেস ওয়ার্কশেড লাইনে প্রবেশ করার মুহূর্তে একই ট্র্যাক দিয়ে বুড়িমারী কমিউটার প্রবেশ করলে পেছন থেকে ধাক্কা লাগে ।
৪. ক্ষয়ক্ষতি: - লালমনি এক্সপ্রেসের ২টি বগি লাইনচ্যুত হয় এবং রেললাইন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় ।
- বুড়িমারী কমিউটারে থাকা ৮ জন যাত্রী আহত হন (কিছু প্রতিবেদনে ৫ জন উল্লেখ করা হয়েছে)। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নেন ।
- কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
পরবর্তী ব্যবস্থা ও প্রভাব:
১. রেল যোগাযোগ বিঘ্ন: ঘটনার পর লালমনিরহাট-বুড়িমারী রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রীবাহী কমিউটার ট্রেনটি ঘটনাস্থলেই আটকে থাকে, ফলে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন ।
২. উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার : - রেলওয়ে নিরাপত্তা বিভাগ, পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে অংশ নেয় ।
- ৫ ঘণ্টা পর (সন্ধ্যা ৭টার দিকে) লাইন মেরামত সম্পন্ন হলে রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয় ।
৩. তদন্ত কমিটি গঠন: রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তাদের আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। লালমনিরহাট রেলওয়ের ডিএমই সাজিদ হাসান উল্লেখ করেন, কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।
চাক্ষুষ বিবরণ ও প্রতিক্রিয়া : - আহত যাত্রী আকলিমা বেগম: “ট্রেনে ধাক্কা লাগতেই মেয়েসহ সিট থেকে পড়ে গেলাম। মাথা ও হাতে আঘাত পেয়েছি”।
- স্থানীয় দোকানদার রশিদুল ইসলাম: “লালমনি এক্সপ্রেস ওয়ার্কশেডে ঢোকার আগেই কমিউটারটি পেছন থেকে ধাক্কা দেয়”।
- রেলওয়ে কর্মকর্তা আবু মোস্তফা আলম: “ভুল সিগন্যালই সম্ভাব্য কারণ। তদন্তে স্পষ্ট হবে” ।










পাঠকের মন্তব্য