মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ২ নংভূনবীর ইউনিয়নের ইলামপাড়া/শাসন কদমতলা এলাকায় জৈন্তা ছড়ায় শেভরন বাংলাদেশের একটি কনডেনসেট পাইপলাইনে দুর্বৃত্তদের অবৈধ ট্যাপিং এর কারণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে গত মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এই আগুনে স্থানীয় বাসিন্দা বশির মিয়া (৫০) ও তার পুত্র রেদোয়ান মিয়া (২০/২৪) গুরুতর দগ্ধ হন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেদোয়ান শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টায় এবং বশির মিয়া শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টায় রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মারা যান খবর অনুযায়ী, দগ্ধ হওয়া রেদোয়ানের মাও আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন।
![]()
ঘটনাক্রমের বিবরণ:
· অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত: গত ২৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকেলের দিকে দুর্বৃত্তরা পাইপলাইনে অবৈধভাবে ছিদ্র করলে কনডেনসেট তেল ছড়িয়ে পড়ে, সন্ধ্যার পর হঠাৎ সেখানে আগুন লেগে ব্যাপক এরিয়া ব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।
· দগ্ধ হওয়া: জানা গেছে, জৈন্তা ছড়ায় ছড়িয়ে পড়া তেলের কাছে মাছ ধরতে গেলে বশির মিয়া ও তার ছেলে রেদোয়ান হঠাৎ সৃষ্ট আগুনের কবলে পড়ে দগ্ধ হন।
· চিকিৎসা ও মৃত্যু: তাদের প্রথমে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল ও পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় সর্বশেষ রাজধানীর জাতীয় বার্ন ইউনিটে নেওয়া হলেও তাদের বাঁচানো যায়নি।
· অগ্নি নিয়ন্ত্রণ: আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার থেকে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করে।
প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত:
· ভূনবীর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়াজ ইকবাল মাসুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
· উপজেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি পেট্রো বাংলা ও শেভরন কোম্পানির বিশেষজ্ঞ দল যৌথভাবে ঘটনার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনুসন্ধান করছে।
· স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তেল চুরির একটি সিন্ডিকেটের সাথে এই ঘটনা জড়িত থাকতে পারে, যা বিগত কয়েক মাস ধরে চলছিল।
প্রাসঙ্গিক তথ্য:
· ভূনবীর ইউনিয়নটি শ্রীমঙ্গল উপজেলার অধীনে অবস্থিত।
· শেভরন বাংলাদেশ দেশের তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রে কাজ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানি।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারটির অন্যান্য সদস্য, বিশেষ করে রেদোয়ানের মা যিনি এই ঘটনায় আহত হয়েছেন, তাদের জন্য সহায়তা ও দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হচ্ছে। এই ধরনের দুর্ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।










পাঠকের মন্তব্য