মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রেক্ষাপটে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির নিকটবর্তী এলাকাগুলো থেকে বেসামরিক নাগরিকদের দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। শুক্রবার এক কঠোর সতর্কবার্তায় সংস্থাটি জানায়, মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোতে যেকোনো সময় বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে।
ইরানের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ এখন কার্যত বন্ধ। আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর কোনো জাহাজকে এই জলপথ দিয়ে চলাচল করতে দেবে না। ইতোমধ্যে তিনটি আন্তর্জাতিক কন্টেইনার জাহাজকে সতর্কবার্তা দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন যে শান্তি আলোচনা “ভালোভাবেই এগোচ্ছে”, তবে ইরান এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির মতে, তেহরান যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালীতে তাদের সার্বভৌমত্বের পূর্ণ স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় কুয়েতের একটি বাণিজ্যিক বন্দরে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল লেবাননের বৈরুতে বিমান হামলা জোরদার করেছে এবং ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে রকেট হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে; বিরোধী দলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ সতর্ক করেছেন যে, এই দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ ইসরায়েলি বাহিনীকে খাদের কিনারে ঠেলে দিচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার তুর্ক এই যুদ্ধের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বিশেষ করে যুদ্ধের শুরুর দিকে ইরানি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনায় তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
এদিকে, হরমুজ প্রণালী সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জাপান ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি দ্রুত কোনো কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তবে এই সংঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের অর্থনীতি ও নিরাপত্তাকে এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেবে। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড।









