ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের ভিড়, ব্যবস্থাপনা সঙ্কটে জ্বালানিতে অস্থিরতা

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
মুক্তিবাণী অনলাইন ডেক্স

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা চলছে। দাম বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। এর মধ্যেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি সরকার। টানা দ্বিতীয় মাসের মতো জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকছে। তাই এপ্রিলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে পেট্রল, অকটেন, ডিজেল, কেরোসিন। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত মজুদ ও কোন ধরণের জ্বালানি সমস্যা হবে না, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলেও দেশে জ্বালানি সংকটের বহুমুখী প্রভাব পড়েছে। দেশে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার ১৩৭ টন জ্বালানি বিক্রি হলেও; গত মার্চ মাসেও গড়ে বিক্রি হয়েছে এক হাজার ২২২ টন। জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে অকটেনের মজুত রয়েছে প্রায় নয় হাজার টন। আজ সিঙ্গাপুর থেকে ২৫ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পাশাপাশি আরো একাধিক জাহাজ পাইপলাইনে রয়েছে। কিন্তু তারপরও সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়ছে অনিশ্চয়তা ও চাপ। ক্রমেই এটি জাতীয় সমস্যায় রূপ নিচ্ছে। ভোগান্তি বাড়ছে। তবে এর মূল কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং জ্বালানি ব্যবহারকারীদের মানসিক সমস্যাকে দায়ী করছেন। বিশেষ করে মন্ত্রণালয়ের সরবরাহ কার্যক্রম ও তদারকিতে সমস্যা দেখছেন তারা। যদিও সড়কে গাড়ী ও মোটরসাইকেল সংখ্যা অন্যান্য সময়ের তুলনায় কম। তারপরও সঙ্কট কমছে না।

এছাড়া অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। যে কারণে দেশে সঙ্কট দিনে দিনে বাড়ছে। এদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দাম বাড়ায় অধিকাংশ দেশ ইতোমধ্যে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে তবে সংকটের মধ্যেও ব্যতিক্রম বাংলাদেশ, এখনও ভোক্তা পর্যায়ে দাম সমন্বয় করা হয়নি। ফলে জ্বালানি আমদানির বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে সরকারকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আসন্ন জাতীয় বাজেটে জ্বালানি খাতে ভর্তুকির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে, যা সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করবে। দাম না বাড়ানোর ফলে শুধু এক মাসেই সরকারকে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। তাই বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে দাম সমন্বয়ের কথা বলছেন। তাদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে দাম কমলে আবার সমন্বয় করে দাম কমানো হবে। বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারের উপর এটি ছেড়ে দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু) সংসদে বলেছেন, গত এক মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম প্রায় ৯৮ শতাংশ বেড়েছে। ফলে আমদানি ব্যয় দ্রুত বাড়ছে এবং তা বাজেটের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। গবেষণা বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০ ডলার বাড়লেই বাংলাদেশের বছরে অতিরিক্ত প্রায় এক বিলিয়ন ডলার ব্যয় বেড়ে যায়। আর যদি দীর্ঘ সময় ধরে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের বেশি থাকে- তাহলে বছরে অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াতে পারে চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে হিসাব করলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬১ হাজার কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকার সামনে দুটি কঠিন বিকল্পের মুখে পড়তে পারে- একদিকে জ্বালানির দাম বাড়ানো, অপরদিকে বাজেট থেকে বিপুল পরিমাণ ভর্র্তুকি দেওয়া। উভয় ক্ষেত্রেই অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ ধরনের প্রাক্কলন তুলে ধরেছে। সংস্থাটির প্রধান গবেষক এম জাকির হোসেন খান বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ৯৫ শতাংশ জ্বালানির জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সামান্য মূল্যবৃদ্ধিও দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় ও বাজেটের ওপর বড় প্রভাব ফেলে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশকে জ্বালানি তেল আমদানিতে বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। নিয়মিত আমদানি সিডিউল বিপর্যয় এবং বিকল্প উৎস খুঁজে পাওয়ার ঝামেলার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে বাজারে তেলের সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিতেও নানা পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। যদিও দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, তবুও পাম্পে অনিয়মিত সরবরাহ, মানুষের আতঙ্কিত কেনাকাটা ও অবৈধ মজুদপ্রবণতা বাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি করছে। যার প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে সামষ্টিক অর্থনীতি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। কৃষি, শিল্প ও সেবা খাত এরই মধ্যে নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়েছে; পাশাপাশি পেট্রোলপাম্পগুলোয় তেল নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার সংঘর্ষের মতো সামাজিক অস্থিরতাও দেখা দিচ্ছে।

সরকার ইতোমধ্যে তেল বিপণন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তেলের লাইভ মনিটরিং, অবৈধ মজুদ রোধ ও কৃষকদের ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে এ সময়ে প্রায় চার লাখ লিটার ডিজেল মজুদদারদের কাছ থেকে জব্দ করেছে। দেওয়া হচ্ছে জেল, জরিমানা, অর্থদ-। জ্বালানি বিভাগ জানাচ্ছে, বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহে কোনো প্রকৃত সংকট নেই, তবে মানুষের সাশ্রয়ী ব্যবহার ও তেলের মজুদ কমানো এখন মূল চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে দাম বাড়ার আশঙ্কায় তেল মজুদের মানসিক সমস্যায় এই সঙ্কট আরো বাড়তে পারে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের জ্বালানি তেলের বিপণন ব্যবস্থার সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু) এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং জ্বালানি সচিব সাইফুল ইসলাম পদ্মা, মেঘনা, যমুনা তিনটি তেল বিপণন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাদের নির্দেশ দিয়েছেন আরো কঠোর হতে। এ ছাড়া এমডিদের বলা হয়েছে, কৃষকদের ডিজেল সরবরাহে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নিতে।

সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী জ্বালানি তেলের চাহিদা ও আমদানির বিষয়ে তিনি বলেন, ডিজেলের চাহিদা গড়ে বছরে প্রায় ৪৪ লাখ মেট্রিক টন। আর অকটেন ও পেট্রল এ দুটি আমাদের মাসে দরকার হয় প্রায় ৭০ হাজার টন। দৈনিক হিসাবে পেট্রল-অকটেন প্রায় এক হাজার ২০০ টন এবং ডিজেল এক হাজার ৪০০ টন লাগে। অন্যান্য সময়ের মতোই স্বাভাবিক জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের মানসিক সমস্যার কারণে দাম বাড়ার আশঙ্কায় জ্বালানি মজুদ করা হচ্ছে। মানুষের মধ্যে এখনও প্যানিক বায়িং (আতঙ্কিত হয়ে কেনা) বন্ধ হয়নি। এর ফলে সরবরাহ চেইনে মাঝে মাঝে বিঘœ ঘটছে। তিনি বলেন, সড়কে গাড়ী কম। অথচ ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের ভিড়। গাড়ীতে এক লিটার তেল কমলে অন্য ফিলিং স্টেশনে ভিড় করছে ওই এক লিটার নেওয়ার জন্য। অধিকাংশ গাড়ীর টেঙ্কি ভরা। দাম বাড়ার আশঙ্কায় টেঙ্কি ফুল করে রাখছে সবাই। এছাড়া অনেকেই বাসায় মজুদ করে রাখছেন, ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য।

মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, আমরা হিসাব করে দেখেছি আমাদের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। কোনো সংকট নেই। ডিজেলের ক্ষেত্রেও কোনো সমস্যা নেই। মাসভিত্তিক পরিকল্পনা অনুযায়ী আমদানি করছি। এপ্রিল মাস পুরোপুরি নিরাপদ। বর্তমান মজুদ এবং ইনকামিং শিপ সব অনটাইম আছে। ফলে কোনো অসুবিধা হবে না। মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, পাম্পে তেল না পাওয়ার বিষয়ে পাম্প কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে। আমাদের পক্ষ থেকে নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে। অবৈধ মজুদ ও শাস্তির বিষয়ে মনির হোসেন বলেন, মন্ত্রী ইতোমধ্যে কঠোরবার্তা দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সারাদেশে বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা ডিজেল পাচ্ছেন না এ অভিযোগের বিষয়ে জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র এই যুগ্ম সচিব বলেন, বিদ্যুৎমন্ত্রী তিন তেল বিপণন কোম্পানির এমডিকে নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছেন এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সভা করা হয়েছে। আমাদের ক্লিয়ার ইন্সট্রাকশন হচ্ছে কৃষকদের সার ও ডিজেলপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। জ্বালানি সংকট না থাকলেও এই মুহূর্তে সবার জায়গা থেকে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন মনির হোসেন চৌধুরী।

এদিকে কয়লা, এলএনজি, এলপিজি, পরিশোধিত এবং অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় ৮০ শতাংশ কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়ে বেশি আমদানিনির্ভর। আমদানিনির্ভর দেশ আর্থিক এবং আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় গভীর সংকটে পড়তে যাচ্ছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এক হিসাবে বলছে, চলতি বছরের মার্চ থেকে ডিসেম্বর ১০ মাসে বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন খরচ এবং বিক্রয় দামের মধ্যে যে পার্থক্য সে কারণে প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকির মধ্যে পড়বে। সেই হিসাবও স্থির থাকবে না যদি ডলারের দাম বাড়ে বা জ্বালানি পণ্যের দাম আরো বেড়ে যায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ তেল গ্যাস খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্রে জানা গেছে, যুদ্ধের কারণে কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। স্বাভাবিক হিসাবের চেয়ে আগামী তিন মাসে এলএনজি আমদানি করতে অতিরিক্ত খরচ বাড়বে ২০ হাজার কোটি টাকা। যদি এলএনজির দাম আরও বাড়ে সেই খরচ বা ভর্তুকির হিসাব আরও বাড়বে। অর্থাৎ এই যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানি করতে এক গভীর সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশ।

এদিকে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে বিপাকে পড়েছেন চট্টগ্রামের ফিশিং বোট মালিক ও জেলেরা। চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল না পাওয়ায় ভরা মৌসুমেও অনেক ট্রলার সাগরে যেতে পারছে না। ফলে কর্ণফুলী নদীর বিভিন্ন ঘাট ও ফিশারি ঘাটে অলস পড়ে আছে শত শত ট্রলার। আর হাজারো জেলে কাটাচ্ছেন কর্মহীন সময়। রহিম মিয়া নামে এক মাঝি বলেন, একদিকে জ্বালানির কারণে সাগরে যেতে পারতেছি না, অন্যদিকে সামনে নিষেধাজ্ঞা। আমরা পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচব?

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সামুদ্রিক মৎস্য আহরণকারী বোট মালিক সমিতির সভাপতি নুর হোসাইন বলেন, চাহিদার তুলনায় তারা অনেক কম জ্বালানি পাচ্ছেন। এক লাখ লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৪০ হাজার লিটার বা তারও কম। অগ্রিম টাকা জমা দেওয়ার পরও প্রয়োজনীয় তেল মিলছে না। স্বাভাবিক সময়ে একটি ট্রলার ২৫ থেকে ২৮ দিন সাগরে থাকতে পারলেও বর্তমানে যে পরিমাণ তেল পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়ে ১০ থেকে ১২ দিনের বেশি থাকা সম্ভব হচ্ছে না। এতে খরচ ওঠানো কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে অনেক মালিক ট্রলার সাগরে পাঠাচ্ছেন না।

জেলেরা বলছেন, তারা দিনমজুরের মতো আয় করেন। কয়েকদিন কাজ বন্ধ থাকলেই পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। অনেকের মাসিক কিস্তি রয়েছে। ফলে আয় বন্ধ থাকায় তারা আর্থিক সংকটে পড়ছেন। এক জেলে জানান, আগে একবার তেল নিয়ে গেলে প্রায় এক মাস সাগরে থাকতে পারতেন। এখন ১০ থেকে ১২ দিনের বেশি থাকা যাচ্ছে না। এতে লাভের বদলে লোকসান হচ্ছে। এদিকে সামনে এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের জন্য প্রতিবছর বিভিন্ন সময়ে মোট প্রায় ১৪৮ দিন মাছ ধরা বন্ধ রাখতে হয়। ফলে বছরের সীমিত সময়েই জেলেরা আয় করতে পারেন। এর মধ্যেও যদি জ্বালানি-সংকটের কারণে মাছ ধরতে না পারেন, তাহলে তাদের জীবিকা মারাত্মক ঝুঁঁকির মুখে পড়বে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে বছরে প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত আমদানি ব্যয় বা ভর্তুকি দিতে হতে পারে- যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১ দশমিক ১ শতাংশের সমান। এর ফলে চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়ার ঝুঁঁকি রয়েছে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক এই অস্থিরতার কারণে জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি সরকারকে আগাম বিবেচনায় নিতে হবে এবং প্রয়োজন হলে বাজেটের আগেই তা সমন্বয় করার উদ্যোগ নিতে হবে।#

মুক্তিবাণী

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও