মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কনকপুর ইউনিয়নের বাঘামারা এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সন্ত্রাসী হামলায় দুই ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনের মাথায় ও হাতে মারাত্মক আঘাত পেয়ে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার (৫ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বাঘামারা এলাকার রকিব মিয়ার রাইস মিলের পাশে নির্জন ইট সলিং রাস্তার ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এমাদ মিয়া (১৯) বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩/৪ জনকে বিবাদী করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
![]()
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদী ও বিবাদীরা একই গ্রামের বাসিন্দা। জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ ও মনোমালিন্য চলে আসছিল। ঘটনার দিন বাদীর ভাই ও ঘটনার ১নং সাক্ষী ছাত্রদের প্রাইভেট পড়ানো শেষে বাইসাইকেল যোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে রকিব মিয়ার রাইস মিলের পাশে নির্জন স্থানে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিবাদীরা দলবদ্ধ হয়ে রড, পাঠি, লোহার পাইপ ও দা নিয়ে তার পথরোধ করে।
![]()
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১নং বিবাদী ফখরুল ইসলামের নির্দেশে সব বিবাদী মিলে এলোপাতাড়ি আঘাত শুরু করে। ২নং বিবাদী বদরুল ইসলামের ছোঁড়া লোহার রডের আঘাত হত্যার উদ্দেশ্যে করা হলে ১নং সাক্ষী বাম হাত দিয়ে তা প্রতিহত করলে তাঁর বাম হাতের ফজির (কব্জি) উপরে আঘাত লেগে হাড় ভেঙে যায় এবং তিনি গুরুতর জখম হন। এরপর ১নং বিবাদী ফখরুল ইসলাম লোহার পাইপ দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বাম হাতের কনুইয়ের নিচে লেগে হাড় গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৩নং বিবাদী আমিরুল ইসলাম লোহার পাইপ দিয়ে ডান পায়ের হাঁটুতে আঘাত করলে হাড় ফেটে যায়। মাটিতে পড়ে গেলে ৪নং বিবাদী শফিউল ইসলাম রড দিয়ে বাম পায়ের গুল (গোড়ালি) ফাটিয়ে দেয়। এদিকে ৫নং বিবাদী নজরুল ইসলাম দা দিয়ে ২নং সাক্ষী রাব্বিন আহমদের মাথায় হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করলে তা উপরের ঠোঁটে লেগে কাটা ও রক্তাক্ত জখম হয়। ৬ ও ৭নং বিবাদী ফজলু মিয়া ও জুনেদ মিয়াসহ অন্যান্য বিবাদীরা উভয়কে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে।
![]()
আহতদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে বিবাদীরা প্রাণে হত্যার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে আহতদের মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ১নং সাক্ষীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বাদী এমাদ মিয়া জানান, পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে কিছুটা বিলম্বে হলেও আইনি ব্যবস্থা নিতে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তিনি সকল বিবাদীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জমি সংক্রান্ত পুরনো বিরোধ রক্তপাতের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। নিরীহ ছাত্রদের ওপর এ ধরনের নৃশংস হামলা সমাজের বুকে কালো অধ্যায় সৃষ্টি করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জোর দাবি, যেন জড়িত সকল আসামিকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। একইসঙ্গে সাধারণ জনগণের প্রতি অনুরোধ, কোনো বিরোধ আইনের আশ্রয়ে সমাধান করুন; নিজে হাতে মারপিট করে আইন নিজেদের হাতে তুলে নেবেন না—এতে অপরাধ আরও জটিল আকার ধারণ করে। ভুক্তভোগী বা প্রত্যক্ষদর্শীরা যেন নির্দ্বিধায় থানায় অভিযোগ জানান। আইন আপনার পাশে আছে। ন্যায়বিচার পেতে কারও কাছে নতজানু হতে হবে না। সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই হবে—নইলে আগামী দিনে এ ধরনের ঘটনা থামবে না।










পাঠকের মন্তব্য