অন্যের ভুলে ব্যস্ত জাতি, নিজের হিসাবটা কোথায়?

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
মনিরুজ্জামান মনির

নিজের ভুলের চেয়ে অন্যের ভুল নিয়েই বেশি ব্যস্ত আমরা; মনীষীদের ভাষায় এটাই অহংকারের প্রথম সিঁড়ি।

হারিয়ে যাওয়া আমলের তালিকায় এখন শীর্ষে আত্মোউপলব্ধি। নিজের ভুল, গুনাহ ও দুর্বলতা উপলব্ধি করে তা সংশোধনের চেষ্টা– এই সহজ অথচ কার্যকর ইবাদতটা দিন দিন যেন অবহেলিত হচ্ছে। বরং আজকের যান্ত্রিক ব্যস্ত জীবনে আমরা উল্টো পথে হাঁটছি: অন্যের ত্রুটি খোঁজা, সমালোচনা করা ও ‘সংশোধন’-এর নামে বিচার-বিশ্লেষণে মেতে থাকা যেন আমাদের নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

অথচ নিজের হিসাব নেওয়ার সময়টুকু আমরা কোথায় ফেলছি? সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে রাতে শুতে যাওয়া– কত ভুল, গাফিলতি, কঠোরতা, অন্যায় যে আমাদের অজান্তেই হয়ে যায়, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই নেই। ফলে নিজের দোষ চোখে পড়ে না, পড়ে শুধু অন্যের দোষ।

বিশুদ্ধ আত্মোউপলব্ধির জায়গাটি যখন শূন্য হতে থাকে, তখন জন্ম নেয় অহংকার। অহংকারী মানুষ নিজেকে বড় মনে করে, নিজের সংশোধনের প্রয়োজনবোধ হারায়। অথচ কোরআন ও সুন্নাহর দৃষ্টিতে সেই-ই সফল, যে নিজের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করতে পারে এবং আল্লাহর কাছে উপস্থিত হতে পারে এক পাক-পবিত্র হৃদয় নিয়ে।

কাজেই নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: শেষবার কবে নিজের দুর্বলতা উপলব্ধি করে তওবা করেছেন? কবে অন্তর থেকে ময়লা সরাতে বসেছেন? পবিত্র কুরআনের ঘোষণা– “নিশ্চয় সফল সে যে নিজেকে পবিত্র করে” (সূরা আশ-শামস, আয়াত: ৯)। আর ব্যার্থ সে, যে নিজেকে গোটা করে।’

এখনই হোন আত্মোপলব্ধির যাত্রা শুরু। প্রতিদিন মাত্র কয়েক মিনিট নিজের গুনাহ ও ত্রুটি নিয়ে ভাবুন। গোপনে তওবা করুন। আন্তরিকভাবে নিজেকে বদলান। তাহলেই না পাওয়া যাবে মন-প্রাণের প্রশান্তি?

তথ্যসূত্র: ব্যক্তিগত আত্মবিশ্লেষণ, ইসলামী চিন্তাবিদদের মতামত ও কুরআন-সুন্নাহ।

মুক্তিবাণী

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও