সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী, সিলেটের কৃতী সন্তান ও বিএনপির প্রবীণ নেতা মরহুম এম. সাইফুর রহমানের ১৭তম শাহাদাতবার্ষিকী শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) মৌলভীবাজারে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে পারিবারিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ের নেতারা একত্রিত হন।
![]()
দুপুরে পারিবারিক উদ্যোগে তার কবর জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তার রুহের মাগফিরাত ও দেশের শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন স্থানীয় আলেমরা। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন শতশত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
দোয়া মাহফিলে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন—
· আলহাজ জি. কে. গউছ (হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ),
· এম. নাসের রহমান (মৌলভীবাজার-৩ আসনের এমপি),
· মিজানুর রহমান মিজান (জেলা পরিষদের প্রশাসক),
· মো. মনিরুল ইসলাম (পুলিশ সুপার, মৌলভীবাজার)।
বক্তারা বলেন, “মানুষ মারা গেলেও তার কর্ম ও আদর্শ অমর হয়ে থাকে। এম. সাইফুর রহমান শুধু একজন মন্ত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন জাতির অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করার কারিগর। তার পরিকল্পনায় দেশের উন্নয়নের অনেক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে, যা আগামী প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।” তারা তার অকালপ্রয়াণকে দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে অভিহিত করেন।
পরে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে নীরবে শ্রদ্ধা জানান। অনেকের চোখে ছিল আবেগ, আর মুখে ছিল সেই নেতার অবদানের স্মৃতিচারণ।
শেষ বিকেলে যখন সকল অনুষ্ঠান শেষ হয়, উপস্থিত সব বয়সী মানুষের মাঝে এক অদৃশ্য প্রতিজ্ঞা তৈরি হয়— “সাইফুর রহমানের স্বপ্নের উন্নত-সুস্থায়ী বাংলাদেশ গড়তে তার দেখানো পথেই হাঁটব।” রাজনৈতিক মত-পথ নির্বিশেষে সেদিন মৌলভীবাজারের সেই কবরপ্রাঙ্গণ প্রমাণ করলো, সত্যিকারের মহান ব্যক্তিত্ব মৃত্যুকে পরাজিত করে বেঁচে থাকেন মানুষের হৃদয়ে, ইতিহাসের পাতায়। তার ১৭তম শাহাদাতবার্ষিকী তাই ছিল শোকের চেয়ে বেশি—অনুপ্রেরণার উৎস, নতুন প্রজন্মের কাছে এক অনন্য শিক্ষার দিন।










পাঠকের মন্তব্য