অনেক কিছুই বলতে চাই, কিন্তু এখন আমিও ভিতু! ভোট প্রসঙ্গে বললেন পপ তারকা ঊষা উত্থুপ

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
মুক্তিবাণী অনলাইন ডেক্স

ঊষা উত্থুপ: আউচ! এ প্রশ্নের উত্তর দেব?
উরিবাবা!

তাঁরাও ভোটার। তবে তাঁদের ভাবনাচিন্তা অনেককে দিশা দেখায়। রাজ্যে বিধানসভা ভোটের মরসুমে তেমনই কয়েক জন তারকা ভোটারের কাছে ১৩টি প্রশ্ন নিয়ে হাজির গণমাধ্যম ডট কম। এ দফায় উত্তর দিলেন পপ তারকা ঊষা উত্থুপ।

ঊষা: আমি আমার দেশের উন্নতির কথা ভেবে ভোট
দিই। তবে তার জন্য নিজের ‘ঘর’টাকে তো সবার আগে ভাল রাখতে হবে। তাই ভোট দেওয়ার
আগে ভাবি নিজের ‘ঘর’টা ভাল থাকবে কী করে? সেটা বুঝেই ভোট দিই।

ঊষা: প্রশ্নটা করতে অনেক দেরি হয়ে গেল না? নদী
দিয়ে তো অনেক পানি বয়ে গিয়েছে! আসলে পুরোটাই নির্ভর করে প্রার্থী মানুষটির বিবেকের
উপর। তিনি কি কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল বোঝেন? তিনি কি সৎ? যদি সৎ না হন, তবে
পরীক্ষা দিয়ে কী হবে?

ঊষা: আমি সোজাসাপটা কথা বলি। অনেক কিছু বলতেও
চাই। কিন্তু আমিও এখন ভয় পাই। স্বাধীন হয়ে কী হল বলুন, যদি ভয়ই পাই। তাই বদলাতে
কিছু চাই না। বিধায়ক হতে চাই না। বড়জোর প্রাণ ভরে ভালবাসতে পারি আর গান গাইতে
পারি। যদি কোনও বদল আনার হয়, সে বার্তা আমার গানেই থাকবে।

ঊষা: আমার মনে হয় না! একটা সময় ছিল। আমার
গানকে অপসংস্কৃতি বলেছিল ওরা। তখন আমি
গেয়েছিলাম, ‘আমি শিল্পী… চাই শিল্পীর সম্মান’। তার পরে আমার আর কোনও সমস্যার
কথা মনে হয়নি।

ঊষা: দুর্নীতি তো স্কুলের সময় থেকেই শিখি।
পরীক্ষার সময়ে ভগবানকে ঘুষ দিই পুজো দেব বলি। মা-বাবারাও বলেন, ভাল নম্বর পেলে
চকোলেট কিনে দেব। কিন্তু যখন বড় হই, তখন বুঝতে শিখি যে, সেটা ভুল ছিল। সেই ভাবনা
থেকে বেরিয়ে আসি। কিন্তু কেউ কেউ বেরিয়ে আসতে পারেন না। তাঁদের অন্তরে সেটা থেকে যায়। দুর্নীতি তা থেকেই হয়। এটা বাইরে থেকে
বদলানো সম্ভব নয়।

ঊষা: হা হা হা! না। একেবারেই না। কী বলছেন!
ওদের কাউকে শাস্তি দিও না! কেনই বা দেবে! যা খুশি করুক।

ঊষা: আমি মনে করি এটা ক্ষমার অযোগ্য। কেন
খারাপ কথা বলব, ভেদাভেদ কেন করব। ৩০০ বছর আগে লালন লিখেছিলেন, ‘কেও মালা কেও তসবিহ
গলে/ তাইতে কি জাত ভিন্ন বলে/ আসা কিংবা যাওয়ার কালে/ জাতের চিহ্ন রয় কারে’! আমি এটাই বলতে চাই।

ঊষা: আমার মনে হয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল
দেশের শান্তি আর ঐক্য। সেটা যদি দেশজ সংস্কৃতির কথা বলে হয়, ভাল। যদি সমান
অধিকারের কথা বলে হয়, তা হলেও ভাল। তবে উন্নয়নের মাধ্যমে হলে সবচেয়ে ভাল।

ঊষা: আমি ভাতা-র সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে। মনে করি,
এটা মানুষকে অলস হতে সাহায্য করে। তা ছাড়া, কাকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে, সেটা বাছবে কে? বাছা হবে কী
করে? সঠিক জায়গায় যাচ্ছে কি না, বুঝবে কী করে?

ঊষা: অবশ্যই বিরোধীরা থাকবে। দুটো মানুষের
ভাবনা না মিললে তাঁরা পরষ্পরের শত্রু হয়ে যায় না। বিরোধীরা বলবে। তবে সমস্যা তৈরি
করাটা যেন তাঁদের উদ্দেশ্য না হয়। সমাধান খোঁজাটাই যেন লক্ষ্য হয়
বিরোধীদের।

ঊষা: পুরোপুরি তেমনটাই হয়, ঠিক তা বলব না।
হয়তো পশ্চিমবঙ্গে তেমনটা হয়।

ঊষা: যাদেরই ভাল ভেবেছিলাম… যাক। শশী তরুরকে
ভাল লাগে। কারণ উনি খুব
সংযত, যেটুকু বলা দরকার সেটুকু বলেন। জ্যোতিবাবুকেও ভাল লাগত। সোমনাথ
চট্টোপাধ্যায়কে ভাল লাগত। কমবয়সি রাজনীতিবিদদের মধ্যে ভাল লাগে জ্যোতিরাদিত্য
সিন্ধিয়া, রাঘব চাড্ডা, কে আন্না মালাইকে। এ ছাড়া ইন্দিরা গান্ধী,
সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ, কৃষ্ণ মেনন এঁরাও পছন্দের।

সুত্র আনন্দবাজার

মুক্তিবাণী

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও