১৪০তম মে দিবসে‘গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন পূরণ হয়নি, বেকারত্ব ও নিপীড়নে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ’

শহর প্রতিনিধিঃ

১ মে: ১৪০তম মহান মে দিবস উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট মৌলভীবাজার জেলা শাখার বর্ণাঢ্য মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে জেলা কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষ হয় মৌলভীবাজার চৌমুহনায়। সেখানে সকাল সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠিত হয় কেন্দ্রীয় সমাবেশ।

বি মুক্তিবাণী

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট জেলা কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবুল হাসানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব দীপংকর ঘোষের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ জেলা সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট মঈনুর রহমান মগনু, বাসদ নেতা উজ্জ্বল রায়, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বিপ্লব মাদ্রাজি পাশী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

বি মুক্তিবাণী

বক্তারা বলেন, আজ থেকে ১৪০ বছর আগে আমেরিকার শিকাগোর হে মার্কেটে আট ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের তাজা রক্তে বিশ্বে শ্রমিক অধিকার আদায়ের নতুন ইতিহাস রচিত হয়। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার ও কাজের নিশ্চয়তার দাবিতে প্রতিবছর ১ মে বিশ্বব্যাপী শ্রমিক সংহতি দিবস পালিত হচ্ছে।

বি মুক্তিবাণী

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে হাসিনা সরকারের পতনের কথা উল্লেখ করে নেতারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, ‘সেই অভ্যুত্থানের নাম ছিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন। কিন্তু আমরা দেখলাম, অধ্যাপক ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে ভূমিকা না রেখে বরং বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলনকারী শ্রমিকদের ওপর পুলিশ ও যৌথবাহিনী দিয়ে নির্যাতন চালায়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলনে তিনজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন, আর কলকারখানা বন্ধ করে হাজার হাজার শ্রমিককে বেকার করা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের সেই বৈষম্যবিরোধী বক্তব্য বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ হয়েছে।’

বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সমালোচনা করে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘আজ যখন আমরা মে দিবস পালন করছি, দেশে নতুন এক রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায়, কিন্তু সংসদ কিংবা অন্য কোথাও তাদের আলোচনায় শ্রমিক স্বার্থ নিয়ে কোনো বক্তব্য নেই। বন্ধ কারখানা চালু করার কোনো সিদ্ধান্ত নেই। বিশেষ করে দেশের বড় শিল্প চাবাগানে নিয়োজিত শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও ভূমির অধিকার নিয়ে আলোচনা প্রায় নেই বললেই চলে।’

বক্তারা আরও তীব্র প্রতিবাদ জানান সম্প্রতি আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের একপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গে। তারা বলেন, ‘গতকাল মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য সাড়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই বিপুল অর্থ দিয়ে দেশের বন্ধ অসংখ্য কারখানা চালু করা যেত, জনগণের মৌলিক প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করা যেত। কিন্তু এই চুক্তি থেকে এককভাবে লাভবান হবে আমেরিকা, আর বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে ছাড়া লাভের কোনো আশা নেই। এই গোলামির চুক্তি বাতিলের দাবি আমরা সর্বাত্মকভাবে বলে যাচ্ছি।’

মহান মে দিবসের এই দিনে আমরা দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা করছি—শ্রমিকদের কাজ, ন্যায্য মজুরি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করতে একটি গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন করতে হবে। বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় বন্ধ কারখানা চালু, বকেয়া বেতন পরিশোধ, চা শ্রমিকদের ভূমি অধিকার ও ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। আমেরিকার সাথে করা ধ্বংসাত্মক বোয়িং চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। সতর্ক করে দিচ্ছি, শ্রমিকদের অধিকার কোনো সংবিধিবদ্ধ লাল ফিতার বন্দি থাকবে না—প্রয়োজনে আমরা আবারও রাস্তায় নামব, শিকাগোর চেতনাকে বুকে ধারণ করে শ্রেণি বৈষম্যের প্রাচীর ভেঙে চুরমার করে দেব। জয় হোক আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতির! মে দিবসের চেতনা চির অমর থাকুক!

মুক্তিবাণী

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও