গাজীপুরের কালিয়াকৈরে রেলওয়ের জমি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ বসতি ও বাণিজ্যের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
গণমাধ্যমতে মঙ্গলবার (৫ মে) অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের মাত্র একদিনের মাথায় আজ (বুধবার) সকাল থেকে উপজেলার মাটিকাটা রেলগেট থেকে রতনপুর রেলগেট বটতলা পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে রেললাইনের পাশজুড়ে গড়ে ওঠা শতাধিক টিনশেড ঘর, দোকানপাট ও অন্যান্য অবৈধ স্থাপনা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে দীর্ঘদিন ধরে দখল হয়ে থাকা সরকারি জমি অনেকাংশে দখলমুক্ত হয় এবং এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রেলওয়ের জনবল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে একযোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) কাইয়ুম, রেলের খালাসী নিসা রহমান, সিনিয়র সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার রুবিনা আক্তার এবং সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অভিযান চলাকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের সম্পত্তি কেউ দখল করে রাখতে পারবে না—এটা আমরা কোনোভাবেই সহ্য করব না। নির্দিষ্ট খাতে লাইসেন্স থাকলেও সেখানে বসতঘর নির্মাণের কোনো সুযোগ নেই। উচ্ছেদ করার পরও যদি কেউ পুনরায় দখল করে, সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে রেলের জমি দখল করে ঘর নির্মাণ ও ভাড়া দেওয়ার কার্যক্রম চলছিল। তবে গণমাধ্যমতে সংবাদ প্রকাশের পরপরই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং বিভিন্ন মহলে প্রশংসা কুড়াচ্ছে এই উদ্যোগ।
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালালেই হবে না—এই দখল বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে কিছুদিন পর আবারও একই চিত্র ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।









