গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীন সম্পদ বিভাগের যু্গ্ম সচিব মোস্তফা মোরশেদ বলেছেন, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। বই মানুষের ভেতরের অন্ধকার দূর করে আলোর পথ দেখায়। বর্তমান ডিজিটাল যুগে যখন আমাদের তরুণ প্রজন্ম তথ্যপ্রযুক্তির অতি-ব্যবহার বা স্ক্রিন অ্যাডিকশনে ভুগছে, তখন এই মফস্বল বা গ্রামাঞ্চলে বইপড়ার এমন আন্দোলন সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। সংবেদনশীল মানুষ হতে হলে বই পড়তে হবে। বইপড়ার এই কর্মশালার মাধ্যমে আমাদের তরুণ ও কিশোর পাঠকেরা বইয়ের গভীরে ডুব দেওয়ার এবং মননশীলতার চর্চা করার নতুন উদ্দীপনা পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
শনিবার (১ আগষ্ট) হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার মুক্তাহার গ্রামে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী রবীন্দ্র চন্দ্র দাস গ্রন্থাগার’ আয়োজিত বইপড়া বিষয়ক কর্মশালা, পুরুষ্কার বিতরণী ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীন সম্পদ বিভাগের যু্গ্ম সচিব মোস্তফা মোরশেদ উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
গ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি রত্নদীপ দাস রাজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ডেপুটি কমান্ডার ও জগন্নাথপুর উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রসরাজ বৈদ্য। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লংলা আধুনিক ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও পদক্ষেপ গণপাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ মাজহারুল ইসলাম রুবেল।
পাঠক ফোরামের সভাপতি রামু চন্দ্র দাশের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে হবিগঞ্জ জেলা ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার এস এম মিজানুর রহমান, পদক্ষেপ গণপাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও জে কে এন্ড এইচ কে হাই স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক নিপা খান, পদক্ষেপ গণপাঠাগারের নির্বাহী সদস্য হুমায়ুন কবির চৌধুরী, নির্বাহী সদস্য আয়ারল্যান্ড প্রবাসী সাজেদুল ইসলাম, জগন্নাথপুর উপজেলার ১নং কলকলিয়া ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক রূপক রাজ বৈদ্য, মেম্বার বিকাশ দত্ত রায়, পল্লী চিকিৎসক বিশ্বজিৎ দাশ নারায়ণ, গ্রন্থাগার পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সাগর দাশ জনি, জনি দাশ, পাঠক ফোরামের সহ-সভাপতি সজীব দাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক তীর্থ দাশ, প্রান্ত দাশ, জিৎগোপাল দাশ, দীপ শেখর দাশ, পাঠক-শিক্ষার্থীদের পক্ষে ঐশী দাশ দিঘি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। মানপত্র পাঠ করেন নীলিমা দাশ ন্যান্সি।
সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা ডেপুটি কমান্ডার ও জগন্নাথপুর উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রসরাজ বৈদ্য বলেন, সহযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র চন্দ্র দাস-এঁর নামে প্রতিষ্ঠিত এই গ্রন্থাগার শুধু একটি বইয়ের ভাণ্ডার নয়। এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জ্ঞানচর্চা ও দেশপ্রেমের এক আলোকবর্তিকা। নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস, মানবিক মূল্যবোধ ও শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার এই মহৎ উদ্যোগ দীর্ঘজীবী হোক। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি মহান এই বীরকে, যাঁর আত্মত্যাগ আমাদের স্বাধীনতার অনুপ্রেরণা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লংলা আধুনিক ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও পদক্ষেপ গণপাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ মাজহারুল ইসলাম রুবেল বলেন, একটি আদর্শ ও প্রগতিশীল সমাজ বিনির্মাণের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন লেখকের বইপড়া ও বইয়ের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে গ্রন্থাগারে নিয়মিত অনুশীলন একজন শিক্ষার্থীকে অনন্য করে তুলে। আমি নিজে শিক্ষকতা পেশার সাথে যুক্ত থাকার পাশাপাশি ‘পদক্ষেপ গণপাঠাগার’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বই ও পাঠাগার আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে আছি। সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই বলতে চাই, বই মানুষের ভেতরের অন্ধকার দূর করে আলোর পথ দেখায়, আর বৃক্ষ আমাদের বাইরের পরিবেশকে সজীব ও বাসযোগ্য রাখে। একটি মানুষের মননশীলতা গঠনে বই যেমন জরুরি, তেমনি আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে প্রকৃতির সুষম সুরক্ষা বা বৃক্ষরোপণ সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বীর মুক্তিযোদ্ধা রবীন্দ্র চন্দ্র দাসের স্মরণে একমিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আয়োজিত আলী যাকের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থপাঠে অংশগ্রহণকারী ২৪জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদপত্র ও পুরুষ্কার বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করা হয়।










পাঠকের মন্তব্য