প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র এবং প্রধানন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ এবং হত্যাচেষ্টার মামলায় সাংবাদিক শফিক রেহমান ও ‘আমারদেশ’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ ৫ জনকে ৭ বছর সশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চীফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূরের আদালত দন্ডবিধির ৩০৭ এবং ১২০-বি ধারায় এ কারাদন্ড দেন। দÐপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন, জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সহসভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুন, তার পুত্র রিজভী আহাম্মেদ ওরফে সিজার এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ভূঁইয়া।
এর আগে মামলার তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২২ ফেব্রæয়ারি চার্জশিট দেয় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। রায়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ করে হত্যাচেষ্টা ষড়যন্ত্রের নির্দেশদাতা হিসেবে শফিক রেহমান ও মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আসামি মোহাম্মদ উল্লাহর বিরুদ্ধে পরামর্শ প্রদানের অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। মোহাম্মদ উল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের কাছ থেকে সজীব ওয়াজেদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে অন্য আসামিদের কাছে সেই তথ্য সরবরাহ করেন। অর্থায়ন ও পরামর্শদাতার অভিযোগ আনা হয়েছে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে।
প্রসঙ্গত: সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যা চেষ্টা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে ডিবির পরিদর্শক ফজলুর রহমান ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট পল্টন থানায় মামলা করেন। দন্ডবিধির ৩০৭ এবং ১২০-বি ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের আগে যেকোনো সময়ে জাসাস নেতা মোহাম্মদ উল্লাহসহ বিএনপি ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত দলের উচ্চপর্যায়ের নেতারা ঢাকা শহরের পল্টনের জাসাস কার্যালয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহর ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় আসামিরা একত্র হয়ে বৈঠকে অংশ নেন। তারা সজীব ওয়াজেদ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। অপরাধ ঘটানোর দায়িত্ব দেয়া হয় রিজভী আহাম্মদকে।
২০১৬ সালের ১৬ এপ্রিল এ মামলায় সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন।
উল্লেখ্য, সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনা হয়েছিল নিউইয়র্কে। সেখানে এই মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। মামলার রায়ে সেখানকার বিএনপি নেতার পুত্র রিজভী আহমেদ সিজারের ৪২ মাসের কারাদন্ড হয়। এ ছাড়া ঘুষ লেনদেনের জন্য এক এফবিআই এজেন্টের বন্ধুর ৩০ মাসের কারাদÐ হয়।










পাঠকের মন্তব্য