বিএনপির মহাসমাবেশে জনতার ঢল জনগণকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান মির্জা ফখরুলের

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত
মুক্তিবাণী অনলাইন ডেক্স :

সরকার পতনের এক দফা দাবিতে রাজধানীতে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছিল রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। কর্মসূচিটি ঘিরে আগের দিন থেকেই উত্তাপ-উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নেতাকর্মীরা শুক্রবার বিকেল হতেই জড়ো হতে থাকেন সমাবেশস্থল নয়াপল্টনে। অনেকই খোলা রাস্তা, ফুটপাথের ওপর রাত্রিযাপনও করেন। সমাবেশের দিন সকাল থেকেই দলে দলে নেতাকর্মীরা ছুটতে থাকেন নয়াপল্টনে। তাদের কারো হাতে জাতীয় পতাকা, কারো হাতে দলীয় পতাকা, আবার কারো হাতে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত প্লেকার্ড। ছাত্র-তরুণ, যুবক-বৃদ্ধ দলে দলে ছুটতে থাকেন সমাবেশের দিকে। রাজধানী ও রাজধানীর বাইরে থেকে আসা দলের নেতাকর্মীরা খ- খ- মিছিল নিয়ে এগুতে থাকেন নয়াপল্টনে। সকাল ৯টার মধ্যে সমাবেশস্থলকে কেন্দ্র করে একদিকে কাকরাইল ছাড়িয়ে শান্তিনগর-বিজয়নগর, অন্যদিকে ফকিরাপুল ছাড়িয়ে আরামবাগ, দৈনিক বাংলা পৌঁছে যায়। নয়াপল্টনের মিছিলের উৎসবে যোগ দেন লাখ লাখ মানুষ।

সময় বাড়ার সঙ্গে সড়ে বাড়তে থাকে মানুষের সমাগম। বেলা সাড়ে ১১টায় ফকিরাপুল, নয়াপল্টন, কাকরাইল, শান্তিনগর, বিজয়নগর সেগুনবাগিচা এলাকার অলিগলিতে শুধু মানুষ আর মানুষ। কোথাও তিল ধারণের জায়গা ছিল না। এসময় দেখা যায়, ট্রাকে করে কেউ বিতরণ করছেন পানি, কেউ দিচ্ছেন কলা-রুটি, কেউ দিচ্ছেন প্যাকেট খাবার। কেউ আবার সড়কে প্লাস্টিকের শিট বিছিয়ে মহাসমাবেশের বক্তব্য শুনছেন। কেউ আবার সরকারবিরোধী নানা স্লোগানে স্লোগানে মাতিয়ে রাখছেন। সমাবেশ শুরুর আগেই জনসমুদ্রে পরিণত হয় নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকা। মানুষের ঢল পূর্বদিকে আরামাবাগ, ফকিরাপুল থেকে শুরু হয়েছে, সেটা পশ্চিম দিকে নয়াপল্টন, কাকরাইল পার হয়ে মালিবাগ মোড়ে গিয়ে ঠেকে। দক্ষিণ দিকে বিজয়নগর উপচে পুরানা পল্টনে গিয়ে ছাড়ায়। যেদিকেই চোখ পড়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মিছিলের ঢল। মানুষের ভিড়ের কারণে চৌধুরীপাড়া থেকে ফ্লাইওভার পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেয়। মতিঝিল, আরামাবাগ, ফকিরারপুল নয়াপল্টন, বিজয়নগর, কাকরাইল, মালিবাগ পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ ছিল।

এরই মধ্যে সমাবেশ মঙ্গে বক্তব্য দিতে থাকেন দলের নেতারা। তবে ১২টার সময় কাকরাইলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। পরবর্তীতে তা বিজয়নগর, ফকিরাপুল, নয়াপল্টন এলাকায় ছড়িয়ে পরে। এসময় সিনিয়র নেতারা বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করে সমাবেশ শেষ করেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ রোববার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেন, আজকে সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগ সরকার ও পুলিশ বাহিনী আমাদের শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশকে প- করার লক্ষ্যে একের পর এক গুলি করেছে, সাউন্ড গ্রেনেড ফাটিয়েছে। তারা আমাদের সমাবেশকে প- করার জন্য এটি করেছে, সমাবেশ নষ্ট করে দিয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি হরতালের কর্মসূচি দিয়ে জনগণকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনগণকে অনুরোধ জানাবো এই অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই সরকার ভোট চোর, শেখ হাসিনা ভোট চোর। এই ভোট চোরদের ধরতে হবে। গোলাগুলি করে, মানুষ খুন করে, গ্রেফতার করে, মিথ্যা মামলা দিয়ে তারা চোররা রেহাই পাবে না। শান্তিপূর্ণ জনসভায় গোলাগুলি করে বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক, সাংবিধানিক অধিকার তারা কেড়ে নিতে চায়। এরা কারা? এরা ভোট চোরদের অংশীদার। এদের ছাড় দেয়া যাবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ রাস্তায় নেমেছে তারা কেউ ফিরে যাবে না। ভোট চোরদের মোকাবেলা করতে হবে।

মহাসমাবেশে ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক ও দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব লিটন মাহমুদের পরিচালনায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। তবে সমাবেশ বিকেল ৫টায় শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সংঘর্ষের কারণে বেলা ৩টার আগেই শেষ হয়ে যায়।

মুক্তিবাণী

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও