ঈদের যাত্রায় দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ আনতে গিয়ে সরকারকে হুশিয়ারি বিরোধীদলীয় নেতার

বিশেষ প্রতিবেদক

ঈদুল ফিতরের যাত্রায় টিকেট সংকট, বিশৃঙ্খলা ও চাঁদাবাজির তীব্র সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, ঈদের সময় যাত্রীরা টিকেট কিনতে গিয়ে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন। আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করে সেমাই খাওয়ার আনন্দ যেন এখানেই মাটি হয়ে গেছে।

ছবি মুক্তিবাণী

সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নের নিজ এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বাড়িতে প্রবেশের আগে তিনি নিজ গ্রামের কবরস্থানে গিয়ে জিয়ারত করেন। বিশাল মোটরসাইকেল বহর নিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। আজ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় চার হাজার মানুষ তাঁর সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন।

ছবি মুক্তিবাণী

জনগণের সঙ্গে প্রতারণা চলছে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মন্ত্রী বলেছেন অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত দেয়া হবে। এত মানুষ ঢাকা ছেড়েছে, তাদের টাকা ফেরত দিতে গিয়ে তাদের পাবেন কীভাবে?’ তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এটি কতটা বাস্তবসম্মত, জনগণ তা দেখছে।

ছবি মুক্তিবাণী

‘নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন,নির্বাচন শেষ হয়েছে। অনিয়ম হলেও আমরা তা মেনে নিয়েছি। দেশটা অচল না হোক। আপনারা যদি সঠিক ধারায় ফিরে না আসেন তাহলে সারাদেশের মানুষ কিন্তু জুলাই যোদ্ধা। এই মানুষগুলো আপনাদের ক্ষমা করবে না।’

ছবি মুক্তিবাণী

বিরোধীদলীয় নেতাকে সরকার যে বাড়ি দিয়েছে, সেখানে না থাকার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার বিরোধীদলীয় নেতাকে যে বাড়ি দিয়েছে সেই বাড়িতে আমি থাকবো না। এটি ব্যবহার করবো দেশের প্রয়োজনে। সেখানে বিদেশি মেহমানদের নিয়ে কথা বলব। শুধু রাষ্ট্রের কাজে এটি ব্যবহার করা হবে।’

ছবি মুক্তিবাণী

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারে থেকে চাঁদাবাজি করতে হয় না। আমরা সরকারের কণ্ঠে শুনতে চাই, আর বাংলাদেশে চাঁদাবাজি হবে না, মানুষের ওপর জুলুম হবে না। সরকার যদি তা করে, আমরা তাদের সব ইতিবাচক কাজে সহযোগিতা করবো, সমর্থন করবো। কিন্তু যে পদক্ষেপ জনস্বার্থের বিপক্ষে যাবে, আমরা তার প্রতিবাদ করবো, না মানলে প্রতিহত করবো।’

ছবি মুক্তিবাণী

প্রাণবন্ত এ শুভেচ্ছা বিনিময়ে আরও উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও সিলেট মহানগরী নায়েবে আমীর হাফেজ মাওলানা আনোয়ার হোসাইন খাঁন, কেন্দ্রীয় মজলিসের শূরা সদস্য ও সাবেক জেলা আমির মো. আব্দুল মান্নান, সিলেট মহানগরী মজলিশে শুরা সদস্য আব্দুস সালাম আল মাদানী, জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি মো. ইয়ামির আলী, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমেদ, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ আল হোসাইন, সাবেক জেলা সেক্রেটারি খন্দকার আব্দুস সোবহান ও আব্দুল হামিদ খান, উপজেলা নায়েবে আমির জাকির আহমেদ, সেক্রেটারি বেলাল আহমদ চৌধুরী, উপজেলা শূরা সদস্য রাজানুর রহিম ইফতেখার, জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মো. ফরিদ উদ্দিন, শহর সভাপতি কাজী দাইয়ান আহমেদ প্রমুখ।

ছবি মুক্তিবাণী

নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ঈদের প্রচণ্ড ব্যস্ততার মধ্যেও নিজ এলাকায় আসায় জনগণের মাঝে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।

ছবি মুক্তিবাণী

বিরোধীদলীয় নেতার এই হুশিয়ারি এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনগণ ভোগান্তির চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে, আর প্রশাসনের ‘অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত’ জাতীয় ঘোষণা যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। জনগণ আর প্রতিশ্রুতির ফাঁকি দেখতে চায় না, বরং তাদের দুর্ভোগ লাঘবের বাস্তব সমাধান দেখতে চায়। ‘জুলাই যোদ্ধা’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করে বিরোধীদলীয় নেতা যে বার্তা দিলেন, তা কেবল রাজনৈতিক বিশ্লেষণ নয়, বরং আগামী দিনের গণজাগরণের ইঙ্গিত বহন করে। জনস্বার্থের প্রশ্নে প্রতিহত করার এ হুশিয়ারি সরকারের জন্য না হয় সতর্কবার্তা হোক—অন্যথায়, গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস এই দেশে নতুন নয়, আর তাতে ক্ষমার সুযোগ বড়জোর সীমিত।

ছবি মুক্তিবাণী

মুক্তিবাণী

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও