কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে বিজিবি:

জুড়ী প্রতিনিধি :

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী ফুলতলা এলাকায় প্রাক-মৌসুমী বৃষ্টি বলয় ‘ঝুমুল’ এবং প্রবল কালবৈশাখী ঝড়ের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

ছবি মুক্তিবাণী

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিজিবির বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের বিরইনতলা ও ফুলতলা বস্তি এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় পরিবারের মাঝে বিভিন্ন ধরনের ত্রাণসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ আতাউর রহমান সুজন সরাসরি উপস্থিত থেকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মাহফুজার রহমান উপস্থিত ছিলেন।

ছবি মুক্তিবাণী

উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংঘটিত প্রবল কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে ফুলতলা এলাকার অধিকাংশ ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়াও বহু ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাটের উপর গাছপালা ভেঙে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ প্রেক্ষিতে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি) এর উদ্যোগে অধীনস্থ ফুলতলা বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বিতরণকৃত ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে- ৪ কেজি চাউল, ২ কেজি আলু, ৫০০ গ্রাম মুড়ি, ৫০০ গ্রাম চিড়া, ২ লিটার বিশুদ্ধ পানি, ৫০০ গ্রাম লবণ এবং ৫ প্যাকেট খাবার স্যালাইন। পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয়, যা তাদের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে সহায়ক হবে।

ছবি মুক্তিবাণী

ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর এ মানবিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা জানান, দুর্যোগের পর যখন তারা চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছিলেন, তখন বিজিবির এই সহায়তা তাদের জন্য এক প্রাণের শক্তি হয়ে এসেছে। বিশেষ করে শিশু ও নারীদের মাঝে স্যালাইন ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ অসুস্থতা প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

ছবি মুক্তিবাণী

এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ আতাউর রহমান সুজন জানান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনও জরুরী পরিস্থিতি ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সবসময়ই জনগণের পাশে থেকে মানবিক সহায়তা প্রদান করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। বিজিবির এ মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রকৃতপক্ষে, প্রকৃতির অসহায় দাপটের মুখে যেখানে সাধারণ মানুষের একমাত্র সম্বল ছিল চোখের জল আর ধ্বংসস্তূপের নিচে হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির ঠিকানা, সেখানে সীমান্তরক্ষী বিজিবি সেনানী ও কর্মকর্তারা প্রমাণ করলেন, তারা শুধু দেশের সীমানার প্রহরী নন, বরং বিপদের রাতে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো বিশ্বস্ত বন্ধুও। লেঃ কর্নেল মোঃ আতাউর রহমান সুজনের নেতৃত্বে ৫২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের এ উদ্যোগ সীমান্তের মানুষদের মনে ফিরিয়ে দিয়েছে জরুরি মুহূর্তে সরকারি বাহিনীর উপর আস্থা ও ভরসা। শুধু চাল, ডাল বা নগদ অর্থ নয়; বরং স্যালাইন ও বিশুদ্ধ পানির ছোট প্যাকেটগুলো যেন এক একটি বাঁচার বার্তা বহন করে এনেছে—একটি শিশুর পেটের পীড়া থেকে শুরু করে একজন বৃদ্ধার পানিশূন্যতা রোধ পর্যন্ত। ফুলতলার ক্ষতিগ্রস্ত ৪৫ পরিবার আজ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও এই ত্রাণ কার্যক্রমের প্রভাব কেবল পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বিজিবি ও স্থানীয় জনতার মাঝে এক অনন্য সেতুর নাম। প্রশ্ন উঠতে পারে, এই সামান্য ত্রাণ কী বিপুল ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারে? উত্তর হলো, প্রকৃতপক্ষে তা পারে না—তবে এটি প্রমাণ করে, যন্ত্রণার গভীর রাতেও বিজিবির হাত কেউ ফাঁকা রাখেনি, বরং সাহস আর ভালোবাসার মশাল জ্বালিয়ে তারা দেখিয়ে দিয়েছে, “আমরা আছি, সবসময় আছি।” এলাকার কৃতজ্ঞ মানুষ আজ আনন্দাশ্রুতে ভেজা চোখে আর দৃপ্ত কণ্ঠে বলছেন, “বিজিবি আমাদের আত্মীয়ের চেয়েও বেশি, তারা আমাদের দুর্যোগের বন্ধু।” ভবিষ্যতেও যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সর্বপ্রথম জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে লেঃ কর্নেল আতাউর রহমান সুজন নিঃসন্দেহে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সীমান্তের এই প্রত্যন্ত জনপদে আজ বিজিবির হাতে বাঁচার খোঁজ পাওয়া মানুষগুলো এখন স্বপ্ন দেখছে—আগামী দিনে নতুন করে ঘর তুলবেন, ক্ষেত সাজাবেন, আর সেই সংগ্রামে তাঁদের পাশে থাকবে এই বীর সেনানীরা। দুর্যোগের গতিপথ যেমন অনিশ্চিত, তেমনি অনিশ্চিত এই প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রা—কিন্তু এটুকু নিশ্চিত যে, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আজীবন প্রমাণ করে যাবে, দেশের সীমান্ত যেমন তাদের দায়িত্ব, সাধারণ মানুষের হাসিও তেমনই তাদের অঙ্গীকার।

মুক্তিবাণী

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও