মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ইসরায়েল-এর বিভিন্ন অঞ্চলে ইরান ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে রাজধানী জেরুজালেমসহ মধ্য ও দক্ষিণ ইসরায়েলের একাধিক এলাকায় জরুরি সতর্কসংকেত জারি করা হয়।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের ঝুঁকি বিবেচনায় এসব অঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি সেবা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
দেশটির বিভিন্ন স্থান থেকে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই হামলায় ‘ক্লাস্টার’ বা গুচ্ছ-বোমা ব্যবহার করা হতে পারে। এ ধরনের অস্ত্র থেকে একাধিক ছোট বোমা ছড়িয়ে পড়ে, যা বিস্তৃত এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম।
ইসরায়েলের অন্তত আটটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বা বিস্ফোরক পড়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ঘটনার বিভিন্ন ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে বিস্ফোরণের পরবর্তী পরিস্থিতি ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দেখা যাচ্ছে।
এর আগে উত্তর ইসরায়েলের অনেক এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে তা তুলে নেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের তখন শেল্টার থেকে বের হয়ে আসার অনুমতিও দেওয়া হয়।
গত রোববার থেকে এই হামলার ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে প্রায়ই সতর্কসংকেত শোনা যাচ্ছে, যা সেখানকার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর ইসরায়েল এখন দ্বিমুখী হুমকির মুখে পড়েছে। একদিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, অন্যদিকে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ-এর নিয়মিত আক্রমণ—দুটি মিলিয়ে অঞ্চলটি ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। চলমান এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা এখনো অনিশ্চিত—তবে ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনা বিশ্বজুড়েই উদ্বেগ তৈরি করছে। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা









