পবিত্র রমজান মাস ইসলাম ধর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়।

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
মুক্তিবাণী ইসলামিক ডেক্সঃ

পবিত্র রমজান মাস ইসলাম ধর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। এই মাসে রোজা রাখা, কোরআন তিলাওয়াত করা, দান-সদকা করা এবং ইবাদত-বন্দেগিতে মনোনিবেশ করার মাধ্যমে মুসলমানরা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করেন। নিচে কিছু সহি হাদিস এবং রমজান মাসে প্রাসঙ্গিক কোরআনের আয়াতের বাংলা তরজমা দেওয়া হলো:

হাদিস নং ১: 

বর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)

হাদিস:  রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “রমজান মাসে যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় রোজা রাখে, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।” (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৯০১)

হাদিস নং ২:

বর্ণনাকারী:  আবু হুরায়রা (রা.)

হাদিস:  রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যখন রমজান মাস আসে, তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়।” (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৮৯৯)

হাদিস নং ৩:

বর্ণনাকারী: আবু হুরায়রা (রা.)

হাদিস: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি রমজান মাসে একটি নফল ইবাদত করল, সে যেন অন্য মাসে একটি ফরজ ইবাদত করল। আর যে ব্যক্তি এই মাসে একটি ফরজ ইবাদত করল, সে যেন অন্য মাসে সত্তরটি ফরজ ইবাদত করল।” (সহিহ ইবনে খুজাইমা, হাদিস নং ১৮৮৭)

কোরআনের আয়াত ও বাংলা তরজমা:

সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৮৫:

আয়াত:  شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَىٰ وَالْفُرْقَانِ ۚ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ ۖ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۗ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

বাংলা তরজমা: “রমজান মাস হলো সেই মাস, যাতে কোরআন নাযিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হিদায়াত এবং সত্য পথের সুস্পষ্ট নিদর্শন ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই মাস পাবে, সে যেন রোজা রাখে। আর যে ব্যক্তি অসুস্থ বা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনে সংখ্যা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান এবং কঠিন করতে চান না, যাতে তোমরা সংখ্যা পূরণ করো এবং আল্লাহর মহত্ত্ব বর্ণনা করো এই জন্য যে, তিনি তোমাদের হিদায়াত দিয়েছেন এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো।”

সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৮৩:

আয়াত:  يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

বাংলা তরজমা:  “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।”

সূরা আল-কদর, আয়াত ১-৫:

আয়াত: إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ ﴿١﴾ وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ ﴿٢﴾ لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ ﴿٣﴾ تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍ ﴿٤﴾ سَلَامٌ هِيَ حَتَّىٰ مَطْلَعِ الْفَجْرِ ﴿٥﴾

বাংলা তরজমা:  “নিশ্চয়ই আমরা এটি (কোরআন) নাযিল করেছি কদরের রাতে। (১) তুমি কি জানো কদরের রাত কি? (২) কদরের রাত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। (৩) সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রূহ (জিবরাইল) তাদের রবের অনুমতিক্রমে সকল বিষয়ে অবতরণ করেন। (৪) সে রাত শান্তিময়, ফজরের উদয় পর্যন্ত। (৫)”

এই হাদিস এবং আয়াতগুলো রমজান মাসের গুরুত্ব, রোজার ফজিলত এবং এই মাসে ইবাদতের মর্যাদা সম্পর্কে আমাদের সচেতন করে। রমজান মাসে বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও ইস্তেগফার করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা উচিত।

মুক্তিবাণী

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও