![]()
প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করায় অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ পার্টি। দলটির দাবি, জ্ঞানেশ কুমারকে তাঁর পদ থেকে বহিষ্কার করতে হবে।
ককরোচ পার্টির এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার রাত থেকেই ধরপাকড় শুরু হয়। গতকাল ও আজ দেশটির বিভিন্ন রাজ্য থেকে দিল্লিগামী ৬১টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়। পাশাপাশি বন্ধ করে দেওয়া হয় বাস চলাচল। দিল্লিতে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীরা যাতে যন্তরমন্তরে পৌঁছাতে না পারেন, সে জন্য ওই এলাকার মেট্রো সেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
![]()
দিনের শুরুতেই উত্তেজনা দেখা দেয় অভিজিৎ মুম্বাই থেকে বিমানে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর। তাঁকে বহনকারী বিমানটি অবতরণের সঙ্গে সঙ্গেই এর ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ। পরে অভিজিৎকে বিমান থেকে নামিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
সকাল থেকেই বিক্ষোভকারীরা যন্তরমন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর পুলিশ নতুন করে ধরপাকড় শুরু করে। এ সময় যাঁরাই যন্তরমন্তরের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেছেন, তাঁদের আটক করে পুলিশ ভ্যান বা বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভে সমর্থন জানানোয় চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে আটকের ঘটনাও ঘটে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কেজরিওয়ালকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে মমতা এখনো পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
![]()
বিবিসির এক সাংবাদিক যন্তরমন্তর থেকে সরাসরি জানান, সেখানে কোনো বিক্ষোভকারীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এলাকাটিতে শত শত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে স্থাপন করা হয় শক্তিশালী লোহার ব্যারিকেড। সেগুলো অতিক্রম করে বিক্ষোভস্থলে পৌঁছানো তাঁদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। এদিকে ককরোচ পার্টির পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, পুলিশ যেখানে বাধা দেবে, সেখানেই যেন তাঁরা অবস্থান নেন।
দিল্লির পাশাপাশি মুম্বাইসহ অন্যান্য স্থানেও বিক্ষোভ হয়েছে। এসব স্থান থেকেও বিক্ষোভকারীদের আটক করেছে পুলিশ।
![]()
পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের উত্তেজনার মধ্যেই খবর আসে, অভিজিতের দাদি মারা গেছেন। এ খবর আন্দোলনকারীদের জন্য শোকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিজিৎকে তাঁর দাদির মৃত্যুর খবর সঙ্গে সঙ্গেই জানানো হয়েছে। তবে ককরোচ পার্টির দাবি, গত ১০ ঘণ্টা ধরে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। দলের পক্ষ থেকে অভিজিৎকে তাঁর মৃত দাদির কাছে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছেন ভারতের তরুণেরা। এ দাবিতে তাঁরা বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছেন। সর্বশেষ যন্তরমন্তরে সমবেত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন তাঁরা। তবে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করায় তাঁকে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ককরোচ পার্টির নেতারা।
অভিজিৎ দ্বীপকেসহ দলের শীর্ষ তিন নেতা আটক হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব পেয়েছেন অজিঙ্কা সিন্ধে।
আটক হওয়ার আগেই রেকর্ড করা একটি ভিডিওতে অভিজিৎ অজিঙ্কার নাম ঘোষণা করেন। তিনি জানান, যন্তরমন্তরের আন্দোলনের দায়িত্বে থাকবেন অজিঙ্কা।
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ নিশ্চিত করার দাবি এবং তরুণ বিক্ষোভকারীদের আটকের প্রতিবাদে আগামী সোমবার বড় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডিয়া’ জোট।
প্রধান বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, গত এক যুগে মোদি ও তাঁর দলের লোকজন ভারতের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন। তবে এ ধরনের ঘটনা আর হতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি তরুণদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান রাহুল।
রাজধানী দিল্লিতে দিনভর উত্তেজনা চললেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মোদিকে সুবিধা পাইয়ে দিতে জ্ঞানেন্দ্র কুমার ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি ভোটারের নাম বাদ দিয়েছেন।









