প্রধানমন্ত্রী দেশেবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন

মুক্তিবাণী অনলাইন ডেক্স :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল অন্ধকার ও বাধা বিপত্তি দূর করে আগামী বছরগুলোতে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার কামনা করেছেন। তিনি বলেন, এই শুভ নববর্ষের প্রাক্কালে আমাদের প্রার্থনা এই যে, আমরা যেন সমস্ত অন্ধকার ও বাধা বিপত্তি দূর করে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে পারি।

বৃহস্পতিবার বাংলা নববর্ষ-১৪৩০ (পহেলা বৈশাখ) উপলক্ষে সন্ধ্যা থেকে দেশবাসীর উদ্দেশে দেশের সব গণমাধ্যমে প্রচারিতব্য এক সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, নানা ধরনের বাধা বিপত্তি ও প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে দেশ আরও একটি বছর পার করেছে। দেশ-বিদেশে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, “শুভ নববর্ষ”।

এদিকে শুভ বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। আজ শুক্রবার সকাল ৭ টায় রাজধানীর বাহাদুর শাহ পার্ক থেকে এই শোভাযাত্রা শুরু হবে। এতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেবেন।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আজ সকাল ৭টায় পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের সামনে এক আলোচনা সভা ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুরুল আমিন রুহুল এমপির সভাপতিত্বে আলোচনা সভা সঞ্চালনা করবেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির। শোভাযাত্রা টি বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমানে এসে শেষ হবে।
এদিকে সৃজনশীল কর্ম হিসেবে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মেধাস্বত্বের স্বত্বাধিকারীর স্বীকৃতি পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আশ্রয়ণ: অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে শেখ হাসিনা মডেল’কে সৃজনশীল মেধা কর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেন, আশ্রয়ণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর যে ধারণা, এ ধারণা কিন্তু টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আটটি ধাপ অতিক্রম করেছে। একটি ঘর দেওয়ার ফলে যারা বসতি আছে তাদের জীবিকা হচ্ছে, নারীর জন্য জমির মালিকানা নিশ্চিত হচ্ছে, ঘরের মালিকানা নিশ্চিত হচ্ছে। তার (শেখ হাসিনা) এই ধারণাটি আমাদের একটি মৌলিক ধারণা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

১৯৯৭ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী সারা দেশে আশ্রয়ণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন বলে জানিয়ে মুখ্য সচিব বলেন, এ আশ্রয়ণের মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষের দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং জীবনমানের উন্নয়ন। আশ্রয়ের মাধ্যমে মানুষের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। ১৯৯৭ সাল থেকে ২০২৩ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অধীন আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে তিনি ২৮ লাখ মানুষকে পুনর্বাসিত করেছেন। তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী নানাবিধ উদ্যোগ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং সংস্থার সহযোগিতায় এই পর্যন্ত ৩৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে আশ্রয় পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই দূরদর্শী কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের যারা দরিদ্র অথবা দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছেন, তাদের জীবনমানের ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন এসেছে। মুখ্য সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী আশ্রয়ণের কারণে আমরা মনে করি সর্বশেষ যে রাষ্ট্রীয় সমীক্ষা, যেখানে চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে জনসংখ্যা শতকরা দশ ভাগ থেকে পাঁচ দশমিক আটে নেমে এসেছে, এটি মূলত আশ্রয়ণের নানামুখী উদ্যোগের কারণে। তিনি বলেন, আশ্রয়ণ শুধু একটি ঘর নয়, মানুষ যেমনি নিজের ঠাঁই পেয়েছে, একই সঙ্গে দুই রুমের পাশাপাশি তিনি কিন্তু স্বাস্থ্য পরিষেবা পাচ্ছে, স্যানিটেশন পাচ্ছে, তাকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে, তাকে সুপ্রিয় পানির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন।

মুক্তিবাণী

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও