আবারও পিছিয়েছে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন

আবারও পিছিয়েছে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন
আবারও পিছিয়েছে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন
মুক্তিবাণী অনলাইন ডেক্স

আবারও পিছিয়েছে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ আবারও পিছিয়েছে। এ নিয়ে প্রায় ১৩০ বারের মতো মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছানো হলো। আগামী ৫ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত নতুন এ তারিখ নির্ধারণ করেন।

তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেননি কর্মকর্তা

এদিন সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। পরে আদালত আগামী ৫ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন নির্ধারণ করেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় আসামি ৮ জন

আলোচিত এ হত্যা মামলায় রুনির বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আটজন আসামি রয়েছেন। অন্য আসামিরা হলেন—বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুণ, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদ।

আসামিদের কয়েকজনকে একাধিকবার রিমান্ডে নেওয়া হলেও তাদের কেউই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি।

২০১২ সালে নিজ বাসায় খুন হন সাগর-রুনি

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। শুরুতে থানার এক এসআই মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন। চার দিন পর মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দুই মাসের বেশি সময় তদন্ত করেও রহস্য উদঘাটন করতে না পারায় পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলাটির তদন্তভার র্যাবের কাছে দেওয়া হয়।

উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন

মামলাটির দীর্ঘ তদন্তের পর গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া মামলার তদন্ত থেকে র্যাবকে (বর্তমান নাম এসআরবি) সরিয়ে দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব নির্দেশ দেন।

পরে ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে টাস্কফোর্স গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়।

তবে এরপরও নির্ধারিত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়ে আগামী ৫ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

মুক্তিবাণী

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও