শ্রীমঙ্গলে কিশোরীকে আটকে গণধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

শ্রীমঙ্গলে কিশোরীকে আটকে গণধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩
শ্রীমঙ্গলে কিশোরীকে আটকে গণধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩
মো: জহিরুল ইসলাম

শ্রীমঙ্গলে কিশোরীকে আটকে গণধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৯(৩) ধারায় মামলা (মামলা নং-৪১) দায়ের করেছেন।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মামলা দায়েরের পরপরই অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—দুলাল মিয়া (৩১), পিতা-সাদেক মিয়া, সাং-ইছবপুর, থানা-শ্রীমঙ্গল, জেলা-মৌলভীবাজার; মো. জুয়েল মিয়া ওরফে সোহেল (২৬), পিতা-মো. তাউল মিয়া, সাং-চানপুর, থানা-হবিগঞ্জ সদর, জেলা-হবিগঞ্জ; বর্তমানে মিশন রোডে (জাকির মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া), থানা-শ্রীমঙ্গল, জেলা-মৌলভীবাজার; এবং আল আমিন ইসলাম (২০), পিতা-মো. মমিনুল ইসলাম, সাং-রিচি, থানা-হবিগঞ্জ সদর, জেলা-হবিগঞ্জ; বর্তমানে সোনার বাংলা রোড, থানা-শ্রীমঙ্গল, জেলা-মৌলভীবাজার।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের ইছবপুর এলাকায় আসামি দুলাল মিয়ার ভাড়া বাসায় ভুক্তভোগীকে আটকে রাখা হয়। সেখানে আসামিরা সারারাত তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টার দিকে আসামিরা দুলাল মিয়ার বাসা থেকে ভুক্তভোগীকে অটোরিকশায় করে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে নিয়ে রেখে যায়। সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে পরিবারের সদস্যরা রেলস্টেশনে গিয়ে তাকে আহত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগীর বাবা থানায় মামলা দায়ের করলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুর রাজ্জাক বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. জুয়েল মিয়া ওরফে সোহেল দোষ স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, আসামিরা কিশোরীকে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের ইছবপুর এলাকায় অভিযুক্ত দুলাল মিয়ার ভাড়া বাসায় আটকে রাখে। সেখানে ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে পরদিন রোববার সকাল ৭টা পর্যন্ত তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। পরে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে ফেলে রেখে চলে যায় তারা।

খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা রেলস্টেশন থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কিশোরীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে পাঠান। ভুক্তভোগী বর্তমানে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘গণধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরেই তাদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’

মুক্তিবাণী

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও