শ্রীমঙ্গলে শাবানা হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, ২ জনের কারাদণ্ড ও ৫ জন খালাস (ভিডিও সহ)

শহর প্রতিনিধিঃ

শ্রীমঙ্গলে শাবানা হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, ২ জনের কারাদণ্ড ও ৫ জন খালাস

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শাবানা বেগমকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় আদালত কঠোর রায় দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আনোয়ারুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে চারজনকে মৃত্যুদণ্ড, দুজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—পূর্ব লইয়ারকুল গ্রামের ফারুক মিয়ার ছেলে নাসির মিয়া (২৬) ও গিয়াস মিয়া (২৫), এবং মৃত মতন মিয়ার ছেলে বিল্লাল মিয়া (৩০) ও দুলাল মিয়া (২৬)। আদালত তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দিয়েছেন এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রযোজ্য হবে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৭ এপ্রিল শ্রীমঙ্গল উপজেলার পূর্ব লইয়ারকুল গ্রামে বাড়ির পানি নিষ্কাশন নিয়ে বিরোধের জেরে সৎভাই ও তার স্বজনরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাবানা বেগমকে কুপিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই হেলাল মিয়া ১৪ জনকে আসামি করে শ্রীমঙ্গল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত এ রায় দেন। অপর দুই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মধ্যে মহিবুর রহমান ওরফে অমৃত মিয়াকে (৫০) সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে; জয়নাল আবেদীনকে (৫৫) এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের পূর্ববর্তী হাজতবাসের সময় সাজা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

শ্রীমঙ্গলে শাবানা হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, ২ জনের কারাদণ্ড ও ৫ জন খালাস

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় জাবেদ মিয়া, হাসি বেগম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাসার মিয়া, আলী ইসলাম ও নাজমিন বেগমকে খালাস দেওয়া হয়েছে। মামলার বিচার চলাকালে বিভিন্ন সময়ে আরও তিন আসামি মারা গেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মৌলভীবাজার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এপিপি আব্দুল ওয়াহিদ। প্রায় এক দশক আগের এ হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত রায়ে পৌঁছেছে, তবে মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের অনুমোদন প্রক্রিয়া এখনো বাকি।

এ রায় কেবল একটি মামলার নিষ্পত্তি নয়—এটি প্রমাণ করে, জমি-জমা বা পারিবারিক বিরোধের জেরে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার দীর্ঘ সময় নিলেও আইনের আওতা থেকে কেউ রক্ষা পায় না। শাবানা বেগমের পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে; আর এ রায় সমাজে স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, অপরাধ যতই নিকট আত্মীয় বা স্বজনদের দ্বারা সংঘটিত হোক, শাস্তি অনিবার্য।

monir
Admin

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও