![]()
কমলগঞ্জ পৌরসভাকে নান্দনিক, নাগরিকবান্ধব ও অত্যাধুনিক হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও কমলগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর সৈয়দ আমিরুল ইসলাম কয়ছর। মৌলভীবাজারের সমৃদ্ধ পর্যটন অঞ্চলের এই পৌরসভাকে বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে একটি মডেল পৌরসভায় রূপান্তর করতে চান তিনি।
সাম্প্রতিক রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কমলগঞ্জ উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় সৈয়দ আমিরুল ইসলাম কয়ছরকে দলের মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর মৌলভীবাজার জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মো. ইয়ামীর আলী।
![]()
এ সময় পাঁচজন কাউন্সিলর প্রার্থীর নামও ঘোষণা করা হয়। তাঁরা হলেন—১ নম্বর ওয়ার্ডে মাওলানা নুরুল ইসলাম হায়দার, ২ নম্বর ওয়ার্ডে জাবের আহমদ মিন্টু, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আবু তালেব, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আরমান হোসেন দুলন এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে মিলাদ তরফদার।
বিশেষ সভায় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের জেলা সেক্রেটারি আলাউদ্দিন শাহ্, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস নোমান, কমলগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মো. মাসুক মিয়া, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি মো. মনসুর আলী প্রমুখ।
কেন্দ্রের নির্দেশনার আলোকে স্থানীয় নির্বাচনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও মহিলা মেম্বার এবং পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলর পদে প্রার্থী দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মো. ইয়ামীর আলী। তিনি প্রার্থীদের দ্রুত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশের উন্মুক্ত রাজনৈতিক ময়দানে জনগণ প্রতিটি স্তরে নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায় রয়েছে। আমরা বারবার জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারলে শেষ পর্যন্ত তারা আমাদের নেতৃত্ব গ্রহণ করবে, ইনশাআল্লাহ।
দলীয় প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন কমলগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর সৈয়দ আমিরুল ইসলাম কয়ছর। এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি নিজের অতীত আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি।
কয়ছর বলেন, কমলগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন সমস্যা সমাধান এবং সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে একটি অত্যাধুনিক মডেল পৌরসভা গড়ার লক্ষ্যই তাঁকে এ পথে আসতে বাধ্য করেছে। অতীতে যারা দায়িত্বে এসেছেন, তাঁদের উদ্যোগে নতুনত্বের কিছু ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, কমলগঞ্জের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে রাজপথে লড়েছেন, এখনও লড়ছেন এবং ভবিষ্যতেও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে লড়বেন। কমলগঞ্জ পৌরসভাকে পৌরসভায় উন্নীত করার ক্ষেত্রেও তিনি বিভিন্নভাবে ভূমিকা রেখেছেন। মানুষের সুখে-দুঃখে সাধ্যমতো পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।
সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কমলগঞ্জ পৌরসভা এগোতে পারেনি বলে দাবি করেন সৈয়দ কয়ছর। তাঁর ভাষ্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে বিভিন্ন সময়ে উন্নয়নবৈষম্যের শিকার হয়েছে পৌরসভাটি। ফলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি এবং পৌরবাসীকে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এখনও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ ও অবৈধ স্থাপনা, অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ভাঙাচোরা সড়ক, ফুটপাত দখল, অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং মশা ও রোগবাহিত জীবাণু নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতাসহ বেশ কিছু সমস্যা বিদ্যমান বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সৈয়দ কয়ছর জানান, নির্বাচিত হলে পৌরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কমলগঞ্জকে মডেল পৌরসভায় রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করবেন। তাঁর পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে মানসম্মত রাস্তাঘাট নির্মাণ, ড্রেনেজ ও যোগাযোগব্যবস্থার অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা। শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে ডাস্টবিন স্থাপন ও নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা করবেন। পাশাপাশি পরিকল্পিত সড়কব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
নাগরিক সেবা সহজ ও দ্রুত করতে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স প্রদানসহ অন্যান্য সেবা অনলাইনে দেওয়ার মাধ্যমে পৌরসভাকে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল পৌরসভায় রূপান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। এ ছাড়া পৌরসভার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, তরুণদের খেলাধুলা ও গঠনমূলক কাজে সম্পৃক্ত করতে খেলার মাঠ ও পার্কের উন্নয়ন এবং আইনশৃঙ্খলা জোরদার করে মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
পৌরসভার নিজস্ব আয় বাড়াতে মার্কেট নির্মাণ ও আয়ের অন্যান্য উৎস তৈরির মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধি এবং প্রবাসীবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের কথাও জানান জামায়াতের এই মেয়র প্রার্থী।









