একদিকে বেতন বাড়ানোর আলোচনা, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

এস এম মেহেদী হাসান

রান্নার গ্যাসের বাজারে নৈরাজ্য, শিল্পে অনিশ্চয়তা, চাকরি হারানোর ভয় আর চাঁদাবাজির চাপ—মানুষের এই সংকট উপেক্ষা করলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে

দেশের অর্থনীতির বাস্তবতা এখন বড় এক বৈপরীত্যের সামনে দাঁড়িয়ে। একদিকে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর আলোচনা চলছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জীবনে বাড়ছে টিকে থাকার লড়াই। নিত্যপণ্যের দাম, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে বহু পরিবার। কোথাও মানুষ চাকরি হারাচ্ছে, কোথাও মাসের পর মাস বেতন পাচ্ছে না। শিল্পকারখানা বন্ধ হচ্ছে বা উৎপাদন কমাচ্ছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা টিকে থাকার পথ খুঁজছেন। নিম্ন আয়ের মানুষ আরও অসহায় হয়ে পড়ছেন। এর সঙ্গে চাঁদাবাজি, অবৈধ দখল এবং সরকারি সম্পদ লুটের অভিযোগ যুক্ত হলে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে।

ফাইল ছবি

এই বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠছে, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের দুর্দশা কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে? সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য বেতন ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কিন্তু একই সঙ্গে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী যখন আয় কমে যাওয়া, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং লাগামহীন ব্যয়ের চাপে রয়েছে, তখন তাদের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্নও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

ফাইল ছবি

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোকে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ হিসেবে দেখার কারণ নেই। তাঁরাও বাজারদরের চাপে পড়েন, তাঁদেরও সংসার চালাতে হয়। কিন্তু রাষ্ট্রের নীতিতে ভারসাম্য থাকা জরুরি। এক শ্রেণির মানুষের আয় বাড়ানোর উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের কর্মীদের চাকরি ও বেতন নিশ্চিত করা, নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।

রান্নার গ্যাসের বাজারেই সংকটের স্পষ্ট ছবি

সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বোঝার জন্য রান্নার গ্যাসের বাজারের দিকে তাকালেই হয়। তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি এখন দেশের বহু পরিবারের রান্নার প্রধান জ্বালানি। কিন্তু এই প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই মানুষকে নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা হলেও বাজারে তা ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ, একটি সিলিন্ডার কিনতেই ভোক্তাকে নির্ধারিত দামের তুলনায় প্রায় ৪৬৩ থেকে ৬৬৩ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে এই বাড়তি টাকা সামান্য নয়। যে পরিবার হিসাব করে মাসের বাজার করে, তাদের জন্য রান্নার গ্যাসের বাড়তি দাম মানে অন্য কোনো প্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে দেওয়া।

এর মধ্যেই ব্যবসায়ীরা আবার দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। ২৯ অক্টোবর এ বিষয়ে গণশুনানির কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি, জাহাজভাড়া, বিমা, ডলারের বিনিময় হার ও অন্যান্য খরচের যুক্তি তুলে ধরে ব্যবসায়ীরা দাম সমন্বয়ের দাবি জানাচ্ছেন। এসব ব্যয় বাস্তব হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, নির্ধারিত দাম কার্যকর না থাকলে নতুন করে দাম বাড়িয়ে ভোক্তার কী উপকার হবে?

যে পণ্য এখনই সরকারি নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না, তার দাম আরও বাড়ানোর আগে বাজারের অনিয়ম, সরবরাহের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত মুনাফার অভিযোগ তদন্ত করা জরুরি। দাম নির্ধারণ আর বাজারে সেই দাম কার্যকর করা এক বিষয় নয়। কাগজে দাম ঠিক করে দিলেই ভোক্তার সুরক্ষা নিশ্চিত হয় না।

সংকট আছে, নাকি সংকটকে কাজে লাগানো হচ্ছে?

এলপিজি বাজারের তথ্য বলছে, দেশে আমদানি ও সরবরাহব্যবস্থায় নানা সমস্যা রয়েছে। কিছু কোম্পানি নিয়মিত আমদানি করছে না। ব্যাংকঋণ, ঋণপত্র খোলা, আর্থিক দায় এবং ব্যবসায়িক জটিলতার কারণে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান বাজারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক সিলিন্ডার অব্যবহৃত পড়ে থাকার কথাও উঠে এসেছে। ফলে সরবরাহব্যবস্থায় ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং অনেক পরিবেশক প্রয়োজনমতো গ্যাস পাচ্ছেন না।

অন্যদিকে, ভোক্তা অধিকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, কিছু ব্যবসায়ী মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন এবং বাড়তি দামে গ্যাস বিক্রি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এই অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তে যাচাই করা দরকার। তবে অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু ব্যবসায়িক অনিয়ম নয়; এটি সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বকে কাজে লাগিয়ে মুনাফা করার গুরুতর ঘটনা।

যে পরিবার রান্নার জন্য একটি সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য, সে পরিবার বাজারের দর-কষাকষিতে শক্তিশালী অবস্থানে নেই। দোকানে গ্যাস না থাকলে বা বেশি দাম চাইলে অনেক সময় বেশি টাকা দিয়েই কিনতে হয়। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কেউ অতিরিক্ত মুনাফা করলে তাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, জ্বালানি বিভাগ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দায়িত্ব এখানেই। আমদানি হচ্ছে কি না, কতটা গ্যাস বাজারে আসছে, কোন পর্যায়ে সরবরাহ আটকে যাচ্ছে এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়া হচ্ছে কেন—এসব বিষয়ে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করা দরকার। শুধু শুনানি করে নতুন দাম ঘোষণা নয়, বাজারে সেই দাম কার্যকর হচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

সরকারি বেতন বাড়লেই কি দেশের অর্থনীতি ভালো হবে?

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। দীর্ঘদিন মূল্যস্ফীতির চাপ থাকলে তাঁদের প্রকৃত আয় কমে যায়। তাই বেতন কাঠামো পর্যালোচনা করা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু একটি দেশের অর্থনৈতিক সুস্থতা শুধু সরকারি কর্মচারীদের বেতন দিয়ে বিচার করা যায় না। দেশের অধিকাংশ মানুষ সরকারি চাকরিতে নেই। তাঁরা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, দোকানপাট, পরিবহন, কৃষি, নির্মাণ ও অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

এই মানুষগুলোর আয় যদি না বাড়ে, বরং চাকরি হারাতে হয় কিংবা মাসের পর মাস বেতন আটকে থাকে, তাহলে তাঁদের কাছে বেতন বৃদ্ধির আলোচনা খুব বেশি স্বস্তি নিয়ে আসে না। বিশেষ করে যাঁদের আয় নির্দিষ্ট, কিন্তু বাজারদর বাড়ছে, তাঁদের ক্রয়ক্ষমতা প্রতিদিন কমে যাচ্ছে।

অর্থনীতির এই বৈষম্য দীর্ঘদিন চলতে থাকলে সামাজিক চাপ বাড়বে। একদিকে কিছু মানুষের আয় বাড়বে, অন্যদিকে বড় একটি জনগোষ্ঠী প্রয়োজনীয় খাবার, জ্বালানি, চিকিৎসা ও শিক্ষার খরচ কমাতে বাধ্য হবে। তখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান থাকলেও মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তার সুফল পৌঁছাবে না।

সরকারের তাই শুধু বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নয়, কর্মসংস্থান ও আয় সুরক্ষার সামগ্রিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। বেসরকারি খাতে বেতন পরিশোধের নিয়ম কার্যকর করা, শ্রমিক ছাঁটাইয়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বন্ধ কারখানার কারণ চিহ্নিত করা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য বাস্তবসম্মত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

শিল্পকারখানা বন্ধ হলে ক্ষতিটা শুধু মালিকের নয়

একটি শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়া মানে শুধু একজন উদ্যোক্তার ব্যবসা বন্ধ হওয়া নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বহু শ্রমিকের সংসার, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, পরিবহনকর্মী, দোকানদার এবং স্থানীয় অর্থনীতির অসংখ্য মানুষ। কারখানার উৎপাদন কমলে শ্রমিকের আয় কমে, বেতন আটকে গেলে পরিবার ঋণগ্রস্ত হয়, আর চাকরি চলে গেলে সন্তানের পড়াশোনা থেকে শুরু করে চিকিৎসা পর্যন্ত অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

কোনো কারখানা কেন বন্ধ হচ্ছে, তা আলাদা করে খতিয়ে দেখা জরুরি। উৎপাদন খরচ, জ্বালানির সংকট, অর্থায়নের সমস্যা, বাজারে চাহিদার ঘাটতি, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা কিংবা ব্যবসায়িক অনিয়ম—বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। সব সমস্যার দায় এক পক্ষের ওপর চাপালে সমাধান হবে না। কিন্তু সরকার যদি আগেভাগে ঝুঁকিতে থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা শনাক্ত করতে পারে, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান রক্ষা করা সম্ভব।

শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ, বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যাচাই, নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি এবং উৎপাদন খরচের চাপ কমানোর জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ কর্মসংস্থান হারানো মানুষ শুধু আয় হারান না; তাঁরা বাজারের ক্রেতা হিসেবেও দুর্বল হয়ে পড়েন। এর প্রভাব পড়ে অন্য ব্যবসা ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে।

চাঁদাবাজি ও সরকারি সম্পদ লুটের অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থা চাই

অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে চাঁদাবাজি ও অবৈধ দখলের মতো অপরাধ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। কোনো ব্যবসায়ীকে যদি নিয়মিত চাঁদা দিতে হয়, সেই খরচ শেষ পর্যন্ত পণ্যের দাম, কর্মসংস্থান কিংবা ব্যবসার টিকে থাকার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ছোট দোকানদার ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট মানুষদের জন্য এ ধরনের চাপ বিশেষভাবে বিপজ্জনক।

একইভাবে সরকারি সম্পদ লুট, সরকারি মালামাল আত্মসাৎ কিংবা প্রকল্পের সম্পদ অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটলে ক্ষতি হয় জনগণের। এসব সম্পদ জনগণের করের টাকা দিয়ে কেনা বা তৈরি করা। তাই সরকারি সম্পদের অপব্যবহার কোনো সাধারণ অনিয়ম নয়; এটি জনস্বার্থের ক্ষতি।

তবে অভিযোগ উঠলেই কাউকে অপরাধী ধরে নেওয়া যাবে না। প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণ সংগ্রহ এবং আইনি ব্যবস্থা। অপরাধে যে-ই জড়িত থাকুক, তার রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব যেন বিচারের পথে বাধা না হয়। সরকারকে এমন বার্তা দিতে হবে যে চাঁদাবাজি, দখলদারি ও সরকারি সম্পদ আত্মসাতের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সক্রিয়তা, সরকারি ক্রয় ও সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ হবে। শুধু অভিযান চালিয়ে সাময়িক ফল পাওয়ার বদলে অপরাধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার পথ বন্ধ করতে হবে।

এখনই ব্যবস্থা না নিলে সংকট আরও গভীর হবে

সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চাপ কমানো এবং অর্থনীতির ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনা। এলপিজির বাজারে সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে নজরদারি, বন্ধ কারখানা ও চাকরিহারা শ্রমিকদের পরিস্থিতি পর্যালোচনা, বকেয়া বেতন পরিশোধে কার্যকর উদ্যোগ এবং চাঁদাবাজি দমনে দৃশ্যমান পদক্ষেপ—এসবকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

একই সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার আর্থিক প্রভাব ও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখতে হবে। তবে বেতন বাড়ানো হবে কি হবে না, এই বিতর্কের আড়ালে সাধারণ মানুষের সংকট যেন চাপা না পড়ে। সরকারি কর্মচারী ও বেসরকারি শ্রমিক—উভয়েই এই দেশের মানুষ। একজনের ন্যায্য আয় নিশ্চিত করতে গিয়ে অন্যজনের দুর্দশাকে উপেক্ষা করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি সরকারি বেতন বৃদ্ধি বন্ধ রাখলেই সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান হবে—এমন ধারণাও সঠিক নয়।

প্রয়োজন এমন অর্থনৈতিক নীতি, যার সুফল মানুষের বৃহত্তর অংশের কাছে পৌঁছায়। দরিদ্র পরিবার যেন ন্যূনতম খাবার ও জ্বালানি কিনতে পারে, শ্রমিক যেন কাজ করে সময়মতো বেতন পান, ব্যবসায়ী যেন চাঁদাবাজির ভয় ছাড়া ব্যবসা করতে পারেন এবং সরকারি সম্পদ যেন লুটেরাদের হাতে না যায়—এই লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।

সরকারের উচিত এখনই দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া। কারণ মানুষের সহ্যক্ষমতারও সীমা আছে। আয় কমে গেলে, চাকরি চলে গেলে, বেতন আটকে থাকলে এবং প্রতিটি প্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য বাড়তি টাকা দিতে হলে মানুষের হতাশা বাড়ে। সেই হতাশা দীর্ঘস্থায়ী হলে অর্থনীতি ও সমাজ—দুই ক্ষেত্রেই বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

দেশ পরিচালনার সাফল্য শুধু বেতন কাঠামো, বাজেট কিংবা প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানে মাপা যায় না। সাফল্য বোঝা যায় সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারছেন, শ্রমিক সময়মতো বেতন পাচ্ছেন কি না, ব্যবসায়ী নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারছেন কি না এবং দরিদ্র পরিবার ন্যূনতম প্রয়োজন মেটাতে পারছে কি না—এসব দিয়ে।

আজ মানুষের সবচেয়ে বড় চাওয়া বিলাসিতা নয়; ন্যায্য দামে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা, কাজ করে বেতন পাওয়া, চাকরি ধরে রাখা এবং চাঁদাবাজি ও অনিয়ম থেকে মুক্ত থাকা। সরকার যদি এই বাস্তবতাকে এখনই গুরুত্ব না দেয়, তাহলে আগামী দিনে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তাই সময় নষ্ট না করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা, কর্মসংস্থান রক্ষা এবং বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ এখনই নিতে হবে।

লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক

monir
Admin

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও