একজন মুক্তিযোদ্ধার কবর নিয়েও রাজনীতি, তাহলে ক্ষমতায় গেলে কী হবে?

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি
এস এম মেহেদী হাসান

মৃত্যুর পরও একজন মানুষের শেষ ঠিকানা নিয়ে বিরোধ, শোকাহত পরিবারের উৎকণ্ঠা এবং রাজনৈতিক দলের আচরণ—এসব প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই

মানুষ মারা গেলে তাঁর প্রতি শত্রুতাও থেমে যাবে—এমন মানবিক প্রত্যাশা আমাদের সমাজে বহুদিনের। ধর্ম, রাজনৈতিক মত কিংবা ব্যক্তিগত বিরোধ যা-ই থাকুক, মৃত্যুর পর একজন মানুষের মর্যাদা রক্ষা করা এবং তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোকে আমরা সামাজিক দায়িত্ব বলে মনে করি। গ্রামের কেউ মারা গেলে খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। কেউ কবর খোঁড়েন, কেউ দাফনের ব্যবস্থা করেন, কেউ শোকাহত পরিবারের পাশে বসেন। এই মানবিক রীতিই আমাদের সমাজের শক্তি।

ফাইল ছবি

কিন্তু পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তাঁর দাফনকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে সংবাদে উঠে এসেছে, তা আমাদের সেই সামাজিক মূল্যবোধকে কঠিন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ৮৭ বছর বয়সী এই মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ নিজ এলাকার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা-কর্মীদের আপত্তি ও বাধার অভিযোগ উঠেছে। তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মান বা ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে শনিবার রাতে পুলিশি পাহারায় চিতলিয়া গ্রামে নিজ বাড়ির কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয় বলে সংবাদে বলা হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে চিকিৎসক ও তরুণ রাজনীতিক তাসনিম জারা প্রশ্ন তুলেছেন, বিরোধী দলে থাকতেই যদি একজন মানুষকে নিজের বসতভিটায় দাফন করতে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা হাতে গেলে কী করা হবে? তাঁর প্রশ্নটি শুধু একটি রাজনৈতিক দলের উদ্দেশে করা নয়; এটি ক্ষমতা, সহনশীলতা এবং নাগরিক অধিকারের সঙ্গে জড়িত একটি বড় প্রশ্ন।

একজন মানুষের শেষ ঠিকানা কি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হবে?

মানিক পশারীকে নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে তাঁর মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা এবং একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়টি। সংবাদে বলা হয়েছে, এ ঘটনার জের ধরে তাঁকে পিরোজপুরে দাফন না করার দাবি জানান জামায়াতের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।

এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে: কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক বা ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে আপত্তি থাকলেই কি তাঁর পরিবারের শেষকৃত্য বাধাগ্রস্ত করা যায়? একজন মৃত ব্যক্তির সঙ্গে কারও মতবিরোধ থাকতে পারে। তাঁর বক্তব্য, কর্মকাণ্ড কিংবা অতীত নিয়ে বিতর্কও থাকতে পারে। কিন্তু সেই বিরোধের কারণে তাঁর পরিবারকে দাফন নিয়ে উৎকণ্ঠার মধ্যে রাখা কতটা গ্রহণযোগ্য?

কোনো ব্যক্তির পরিচয় বা অতীত নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আলোচনা করা যায়। প্রয়োজন হলে আইন ও যথাযথ প্রক্রিয়ার আশ্রয় নেওয়া যায়। কিন্তু জনতার চাপ সৃষ্টি করে কিংবা রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে কে কোথায় দাফন হবেন, তা নির্ধারণের চেষ্টা কোনো সুস্থ সমাজের লক্ষণ হতে পারে না।

পারিবারিক কবরস্থানে স্বজনকে দাফন করার বিষয়টি যদি আইনগতভাবে বৈধ হয়, তাহলে রাজনৈতিক পরিচয় বা মতবিরোধের কারণে সেখানে বাধা দেওয়ার অধিকার কারও থাকার কথা নয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে পরিবারের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো বেআইনি বাধা সৃষ্টি হলে তা নিরপেক্ষভাবে মোকাবিলা করা।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে মতভেদ, কিন্তু মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার অধিকার নেই

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস কোনো সাধারণ রাজনৈতিক বিতর্ক নয়। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার বিরোধিতা এবং সেই সময়ের অপরাধ নিয়ে দেশের মানুষের গভীর আবেগ ও ঐতিহাসিক স্মৃতি রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী দল হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল—এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা বিচার করতে হলে তথ্য-প্রমাণ ও ইতিহাসের ভিত্তিতেই তা করতে হবে।

মানিক পশারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর দাফন নিয়ে আপত্তির ঘটনা তাই শুধু একটি পরিবারের ব্যক্তিগত দুর্ভোগের বিষয় হয়ে থাকেনি; এটি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও স্বাধীনতার ইতিহাসকে ঘিরে বৃহত্তর প্রশ্নও সামনে এনেছে। তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি হলো, ইতিহাসের বিতর্ককে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অজুহাত হতে না দেওয়া।

একটি রাজনৈতিক দল যদি মনে করে কোনো ব্যক্তির পরিচয় বা ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তবে তার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু কাউকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সম্মান দেওয়া হবে কি না, কিংবা তাঁর মরদেহ কোথায় দাফন করা যাবে—এসব বিষয়ে রাজনৈতিক কর্মীদের চাপই যদি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে, তাহলে নাগরিক অধিকার ও আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে।

রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ও যোগ্যতার প্রশ্ন থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কোনো রাজনৈতিক দল বা স্থানীয় গোষ্ঠীর একক সিদ্ধান্তে এমন বিষয় নির্ধারিত হতে পারে না। একইভাবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আপত্তি থাকলেও তাঁর পরিবারের আইনসম্মত অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না।

ইনসাফের কথা বললে আচরণেও তার প্রমাণ দিতে হবে

জামায়াতে ইসলামী তাদের রাজনৈতিক বক্তব্যে ন্যায়বিচার, ইনসাফ, মানবিক মর্যাদা এবং সুশাসনের কথা বলে। এসব দাবি যেকোনো রাজনৈতিক দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ন্যায়বিচারের কথা বলা আর বাস্তবে ভিন্নমতের মানুষের অধিকার মেনে নেওয়া এক বিষয় নয়। একটি দলের প্রকৃত রাজনৈতিক চরিত্র বোঝা যায়, তারা নিজেদের সমর্থকদের সঙ্গে কেমন আচরণ করে শুধু তা দিয়ে নয়; বিরোধী মতের মানুষদের অধিকার কতটা সম্মান করে, তা দিয়েও।

পিরোজপুরের ঘটনায় স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সত্য হলে তা জামায়াতের জন্য গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। কারণ একজন মৃত ব্যক্তির মর্যাদা এবং তাঁর পরিবারের শোক পালনের অধিকারকে রাজনৈতিক বিরোধের ঊর্ধ্বে রাখার কথা। এ ক্ষেত্রে কোনো দল যদি নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানকে মানুষের মৌলিক অধিকার নির্ধারণের ভিত্তি বানায়, তাহলে তাদের ইনসাফের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।

তবে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার পূর্ণ বিবরণ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করাও জরুরি। জামায়াতের স্থানীয় নেতৃত্বের বক্তব্য কী, তাঁরা কেন দাফনে আপত্তি জানিয়েছিলেন, প্রশাসন কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে—এসব বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার। রাজনৈতিক সমালোচনা যত কঠোরই হোক, তা তথ্যের ওপর দাঁড়ানো উচিত। একই সঙ্গে কোনো দলের বক্তব্য শোনার অর্থ এই নয় যে অভিযোগের গুরুত্ব কমিয়ে দেখা হবে।

দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেরও দায়িত্ব রয়েছে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের আচরণ সম্পর্কে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া। কোনো অন্যায় হয়ে থাকলে তা অস্বীকার না করে তদন্ত ও জবাবদিহির ব্যবস্থা করা উচিত। কারণ একটি দলের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা শুধু তার বক্তৃতায় নয়, তার কর্মীদের আচরণেও প্রকাশ পায়।

বিরোধী দলে থাকতেই এমন আচরণ হলে উদ্বেগ বাড়ে

তাসনিম জারার প্রশ্নের তাৎপর্য এখানেই। কোনো দল ক্ষমতায় গেলে তার হাতে প্রশাসনিক ক্ষমতা, আইন প্রয়োগের প্রতিষ্ঠান এবং নীতিনির্ধারণের সুযোগ থাকে। তাই ক্ষমতায় যাওয়ার আগে দলটির গণতান্ত্রিক মানসিকতা, ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা এবং নাগরিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা নিয়ে প্রশ্ন তোলা স্বাভাবিক।

কোনো রাজনৈতিক দল বিরোধী দলে থেকেও যদি স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, জনসমাগমের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চায় কিংবা সামাজিকভাবে কাউকে কোণঠাসা করে, তাহলে মানুষ তার ভবিষ্যৎ আচরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে পারে। অবশ্য একটি ঘটনার ভিত্তিতে পুরো দলের ভবিষ্যৎ আচরণ নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। কিন্তু ঘটনাটি যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে দলটির নেতৃত্বের কাছে জবাব চাওয়ার যথেষ্ট কারণ থাকে।

গণতন্ত্রের মূল কথা হলো, ক্ষমতা কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও কোনো দল মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। যে অধিকার নিজের সমর্থকদের জন্য দাবি করা হয়, তা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ক্ষেত্রেও মানতে হয়। অন্যথায় ন্যায়বিচার ও সমতার প্রতিশ্রুতি কেবল নির্বাচনী বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থেকে যায়।

বাংলাদেশের মানুষ অতীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, দলীয় বিভাজন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বহু অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। তাই নতুন বা পুরোনো—কোনো রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেই অন্ধ আনুগত্যের বদলে জবাবদিহি দাবি করা জরুরি। যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায়, তাদের আগেই দেখাতে হবে যে তারা ভিন্নমতের মানুষের অধিকারকে সম্মান করতে প্রস্তুত।

শরিক দলের নীরবতাও প্রশ্নের বাইরে নয়

পিরোজপুরের ঘটনার পর জামায়াতের রাজনৈতিক শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের। তাঁর অভিযোগ, এমন একটি ঘটনার পর এনসিপির পক্ষ থেকে প্রকাশ্য প্রতিবাদ বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেখা যায়নি।

এই অভিযোগের পূর্ণ প্রেক্ষাপট যাচাই করা প্রয়োজন। তবে নীতিগত প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ: কোনো রাজনৈতিক দল যদি মুক্তিযুদ্ধ, মানবিক মর্যাদা ও নাগরিক অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার দাবি করে, তাহলে শরিক দলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে তার প্রতিক্রিয়া কী হবে? রাজনৈতিক জোট কি নীতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠে, নাকি ক্ষমতা ও নির্বাচনী হিসাবের কারণে দলগুলো অনেক বিষয়ে নীরব থাকে?

জোট রাজনীতিতে মতভেদ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু মানবিক মর্যাদা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠলে নীরবতা জনমনে সন্দেহ তৈরি করতে পারে। শরিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা আর তার প্রতিটি কাজকে সমর্থন করা এক বিষয় নয়। নীতিগত অবস্থান থাকলে প্রয়োজনের সময় তা স্পষ্ট করাও রাজনৈতিক সততার অংশ।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি মানবিকতার

মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু ঘটনাটি যে প্রশ্ন রেখে গেছে, তার উত্তর শুধু একটি পরিবারের কাছে নয়, রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও প্রত্যাশিত। একজন মানুষের মৃত্যু যেন রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের উপলক্ষ না হয়। শোকাহত পরিবারকে যেন শেষ মুহূর্তে মরদেহ কোথায় দাফন করবে, তা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে না হয়। আর কোনো নাগরিকের অধিকার যেন স্থানীয় কোনো গোষ্ঠীর অনুমতির ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়ে।

জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার। দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উচিত ঘটনার বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া এবং অন্যায় প্রমাণিত হলে জবাবদিহি নিশ্চিত করা। প্রশাসনকেও ব্যাখ্যা করতে হবে, কেন একটি পরিবারের দাফনের মতো মৌলিক বিষয়ে উত্তেজনা তৈরি হলো এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজনীতিতে মতভেদ থাকবে, ইতিহাস নিয়ে আলোচনা হবে, দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতাও থাকবে। কিন্তু এসবের কোনো কিছুই মানুষের মর্যাদা ও আইনসম্মত অধিকার কেড়ে নেওয়ার অনুমতি দেয় না। যে দল ন্যায়বিচারের কথা বলে, তাকে নিজের আচরণেও ন্যায়বিচারের প্রমাণ দিতে হবে। আর যে দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায়, তাকে দেখাতে হবে—ক্ষমতা পেলেও সে ভিন্নমতের মানুষের অধিকার রক্ষা করবে।

একজন মুক্তিযোদ্ধার কবর নিয়ে বিতর্ক তাই শুধু অতীতের স্মৃতি কিংবা একটি দলের রাজনৈতিক অবস্থানের প্রশ্ন নয়। এটি আমাদের বর্তমানেরও পরীক্ষা: আমরা কি এমন একটি দেশ চাই, যেখানে মানুষের শেষ বিদায়টুকুও রাজনৈতিক পরিচয়ের কাছে জিম্মি হবে, নাকি এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে মতভেদ থাকলেও মানবিক মর্যাদা সবার জন্য সমান থাকবে?

লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক

monir
Admin

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও