‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে ট্রাম্পের বিদ্রূপ: ধর্মীয় মর্যাদায় আঘাত, ভোটেই হোক প্রতিবাদ

‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে ট্রাম্পের বিদ্রূপ
‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে ট্রাম্পের বিদ্রূপ
এস এম মেহেদী হাসান

একজন রাষ্ট্রপ্রধানের মুখে ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে ঠাট্টা কেবল রুচির প্রশ্ন নয়; এটি মানুষের বিশ্বাস, আত্মমর্যাদা ও সমান অধিকারের প্রতি অসম্মান। মুসলমানদের কাছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নাম গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতীক। সেই নামকে রাজনৈতিক সমাবেশে বিদ্রূপের উপকরণ বানানো তাই গুরুতর অন্যায়।

রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করা, ব্যঙ্গ করা কিংবা বক্তব্যের সমালোচনা করা নতুন কিছু নয়। কিন্তু রাজনৈতিক বক্তব্যেরও একটি সীমা আছে। সেই সীমা অতিক্রম করে যখন কোনো নেতা মানুষের ধর্মীয় পরিচয়, বিশ্বাস কিংবা পবিত্রতার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিষয় নিয়ে বিদ্রূপ করেন, তখন সেটি আর সাধারণ রাজনৈতিক রসিকতা থাকে না। তা হয়ে ওঠে একটি ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর মর্যাদার প্রতি অসম্মান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্য সেই প্রশ্নই সামনে এনেছে। গত ১৬ অক্টোবর জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডাল্টনে এক নির্বাচনী সমাবেশে ইরানের রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি মুসলমানদের মধ্যে ‘মোহাম্মদ’ নামের জনপ্রিয়তা নিয়ে ঠাট্টা করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো ব্যক্তির নাম মনে না থাকলে তাঁকে ‘মোহাম্মদ’ বলে ডাকলেই নাকি সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এরপর তিনি কাল্পনিকভাবে একাধিক ‘মোহাম্মদ’কে সম্বোধন করে বক্তব্যটি আরও বিদ্রূপাত্মক করে তোলেন।

ট্রাম্পের কাছে এটি হয়তো সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকদের হাসানোর একটি কৌশল। কিন্তু একজন রাষ্ট্রপ্রধানের বক্তব্যের মূল্যায়ন শুধু তাঁর উদ্দেশ্য দিয়ে করা যায় না; দেখতে হয়, সেই বক্তব্য সংশ্লিষ্ট মানুষের মর্যাদা ও অনুভূতির ওপর কী প্রভাব ফেলে। মুসলমানদের কাছে ‘মোহাম্মদ’ বা ‘মুহাম্মদ’ কেবল একটি প্রচলিত নাম নয়। এটি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নামের সঙ্গে যুক্ত ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতীক। সেই নামকে একটি জনগোষ্ঠীকে এক ছাঁচে ফেলে উপহাস করার উপকরণ বানানো নিঃসন্দেহে অসম্মানজনক।

একটি নাম নিয়ে ঠাট্টা, নাকি একটি জনগোষ্ঠীকে খাটো করা?

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘মোহাম্মদ’ নামের নানা বানান ও উচ্চারণ প্রচলিত। মুসলিম পরিবারগুলো মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা থেকে সন্তানদের এই নাম রাখেন। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ধর্মীয় ঐতিহ্য, পারিবারিক মূল্যবোধ এবং ব্যক্তিগত বিশ্বাস।

কোনো নামের জনপ্রিয়তা নিয়ে পরিসংখ্যানভিত্তিক আলোচনা হতে পারে। কোনো অঞ্চলে একটি নাম কেন বেশি প্রচলিত, তার সামাজিক ও ঐতিহাসিক ব্যাখ্যাও দেওয়া যায়। কিন্তু কোনো নামের ব্যাপক প্রচলনকে ব্যবহার করে একটি ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর মানুষকে নির্বিশেষে একই পরিচয়ে চিহ্নিত করা কিংবা তাদের নিয়ে হাস্যরস তৈরি করা ভিন্ন বিষয়।

ট্রাম্পের বক্তব্যের সমস্যাটি এখানেই। তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট বা দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমালোচনা করতে চাইলে তা করার যথেষ্ট সুযোগ ছিল। ইরানের সরকার, রাজনৈতিক ব্যবস্থা কিংবা পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করা যায়। কিন্তু সেই সমালোচনার সঙ্গে মুসলমানদের একটি বহুল প্রচলিত নামকে জুড়ে দিয়ে বিদ্রূপ করার কোনো প্রয়োজন ছিল না।

কোনো দেশের সরকারকে সমালোচনা করা আর সেই দেশের মানুষের ধর্মীয় পরিচয়কে খাটো করা এক বিষয় নয়। ইরানের সরকারের নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে, কিন্তু তার জন্য বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের কাছে সম্মানিত একটি নামকে উপহাসের বিষয় বানানোর যৌক্তিকতা নেই।

এখানে একটি মৌলিক নীতির প্রশ্ন রয়েছে: রাজনৈতিক ক্ষমতা যত বড়ই হোক, তা কাউকে অন্যের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে অসম্মানজনক আচরণের অধিকার দেয় না।

ট্রাম্পের কথার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও

ডোনাল্ড ট্রাম্প শুধু যুক্তরাষ্ট্রের একজন রাজনীতিক নন; তিনি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে তাঁর কথার প্রভাবও স্থানীয় রাজনৈতিক সমাবেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।

বিশ্বের মুসলমানদের কাছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মর্যাদা অত্যন্ত গভীর। তাঁর নাম ও স্মৃতির সঙ্গে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতি, নৈতিক আদর্শ এবং আত্মপরিচয় জড়িয়ে আছে। তাই সেই নামকে বিদ্রূপের উপকরণ বানানো হলে বহু মানুষ যে গভীরভাবে আহত হবেন, তা সহজেই অনুমেয়।

এখানে সব মুসলমানের প্রতিক্রিয়া এক রকম হবে, এমন দাবি করার প্রয়োজন নেই। তবে মুসলিম সমাজের বড় একটি অংশের কাছে এ ধরনের বক্তব্য যে অসম্মানজনক ও কষ্টদায়ক, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো মানে সমালোচনার অধিকার ত্যাগ করা নয়। বরং একটি বহুত্ববাদী সমাজে মানুষ যেন নিজের বিশ্বাস বজায় রেখেও অন্যের বিশ্বাসকে সম্মান করতে পারে, সেটিই সভ্যতার পরিচয়। এই নীতি মুসলমানদের জন্য যেমন প্রযোজ্য, তেমনি খ্রিষ্টান, ইহুদি, হিন্দু, বৌদ্ধ ও অন্য সব ধর্মের অনুসারীর ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।

ট্রাম্পের বক্তব্যকে অন্যায় বলার কারণও এটাই। একজন রাষ্ট্রপ্রধানের কাছ থেকে প্রত্যাশা করা হয়, তিনি রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সব নাগরিকের মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব বুঝবেন। অথচ ধর্মীয় পরিচয়কে বিদ্রূপের উপকরণ বানানো সেই দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

রাজনৈতিক বিদ্রূপ যখন বিদ্বেষকে স্বাভাবিক করে

ট্রাম্পের মুসলিম ও অভিবাসীদের নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য নতুন নয়। মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন সংগঠন তাঁর বক্তব্য ও নীতির সমালোচনা করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, মুসলিম পরিচয় এবং ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন নিয়ে তাঁর প্রশাসনের অবস্থানও ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামিক রিলেশনসের (সিএআইআর) প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমবিদ্বেষ ও বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ ও উদ্বেগের প্রতিটি বিষয়কে পৃথকভাবে তথ্যের ভিত্তিতে বিচার করা প্রয়োজন। তবে বৃহত্তর প্রশ্নটি উপেক্ষা করা যায় না: রাজনৈতিক নেতারা যখন বারবার কোনো ধর্মীয় বা জাতিগত গোষ্ঠীকে বিদ্রূপ করেন, তখন সমাজে সেই গোষ্ঠীকে নিয়ে নেতিবাচক ধারণা আরও স্বাভাবিক হয়ে ওঠার ঝুঁকি তৈরি হয়।

একটি বিদ্রূপাত্মক বক্তব্য একাই কোনো সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি করে না। কিন্তু ক্ষমতাবান ব্যক্তির মুখে একই ধরনের বক্তব্য বারবার শোনা গেলে তার সামাজিক প্রভাব তৈরি হতে পারে। সমর্থকেরা তখন অন্যদেরও একইভাবে দেখার বা কথা বলার উৎসাহ পেতে পারেন। এর ফলে মুসলিম নাগরিক, অভিবাসী কিংবা ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নিজেদের আরও অনিরাপদ বা অবাঞ্ছিত মনে করতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মতো বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় দেশে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির মুসলমানেরা শুধু অভিবাসী নন; তাঁদের অনেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সেখানে বসবাস করছেন। তাঁরা কর দেন, ব্যবসা করেন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন পেশায় অবদান রাখেন এবং দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। তাঁদের ধর্মীয় পরিচয়কে বিদ্রূপ করা মানে দেশেরই এক অংশের নাগরিককে অসম্মানের ঝুঁকিতে ফেলা।

একজন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব হওয়া উচিত নাগরিকদের মধ্যে আস্থা ও ঐক্য তৈরি করা, বিভাজনকে উসকে দেওয়া নয়।

বাক্‌স্বাধীনতা আছে, কিন্তু জবাবদিহিও থাকতে হবে

ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করলেই কেউ তাঁর বাক্‌স্বাধীনতা অস্বীকার করছেন, এমন নয়। গণতান্ত্রিক সমাজে মানুষ কী বলতে পারবেন, তার আইনি সীমা এক বিষয়; আর একজন নেতার বক্তব্য নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য কি না, তা আরেক বিষয়।

কোনো বক্তব্য আইনত নিষিদ্ধ না হলেও তা দায়িত্বজ্ঞানহীন, অসম্মানজনক কিংবা বৈষম্যমূলক হতে পারে। বিশেষ করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে ভাষার ক্ষেত্রে সংযম ও দায়িত্বশীলতা প্রত্যাশিত।

একই সঙ্গে ধর্মীয় অনুভূতির অজুহাতে ভিন্নমত দমন, সহিংসতা কিংবা প্রতিশোধকে সমর্থন করারও সুযোগ নেই। ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিবাদ হওয়া উচিত শান্তিপূর্ণ, যুক্তিনির্ভর ও গণতান্ত্রিক পথে। তাঁর বক্তব্যের অন্যায় দিকটি তুলে ধরা, রাজনৈতিক জবাবদিহি দাবি করা এবং ভোটের মাধ্যমে মত প্রকাশ করাই হতে পারে কার্যকর প্রতিক্রিয়া।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে প্রতিবাদের সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের আসন বণ্টনের বিষয় নয়। এটি ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ও তাঁর দলের নীতি, বক্তব্য এবং রাজনৈতিক আচরণের প্রতি ভোটারদের সমর্থন বা অসন্তোষ প্রকাশেরও একটি সুযোগ।

ট্রাম্পের বক্তব্যে যাঁরা আহত হয়েছেন, তাঁদের অনুভূতির প্রতি যাঁরা শ্রদ্ধাশীল এবং ধর্মীয় বিদ্বেষ ও বৈষম্যের বিরোধী, তাঁদের কাছে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে: ভোট দেওয়ার সময় নেতাদের বক্তব্য ও আচরণকেও বিবেচনায় নিতে হবে।

তাই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের প্রতি আহ্বান—ট্রাম্পের এ ধরনের অসম্মানজনক বক্তব্যকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেবেন না। তাঁর রাজনৈতিক আচরণ ও নীতিকে সমর্থনযোগ্য মনে না হলে ভোটের মাধ্যমে তা প্রত্যাখ্যান করুন। বিশেষ করে যাঁরা মুসলমানদের মর্যাদা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সব নাগরিকের সমান অধিকারে বিশ্বাস করেন, তাঁরা ট্রাম্প ও তাঁর অবস্থানকে সমর্থনকারী প্রার্থীদের ভোট না দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।

এটি কোনো ধর্মের মানুষের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের আহ্বান নয়। বরং রাজনৈতিক নেতাদের মনে করিয়ে দেওয়ার আহ্বান যে, তাঁদের কথাবার্তারও জবাবদিহি আছে। গণতন্ত্রে ভোটাররা কোনো নেতাকে চিরস্থায়ী সমর্থন দিতে বাধ্য নন। কোনো বক্তব্য তাঁদের মূল্যবোধের পরিপন্থী হলে তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে সেই নেতাকে প্রত্যাখ্যান করতে পারেন।

তবে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের সামগ্রিক নীতি, কাজ ও অবস্থান বিবেচনা করাও জরুরি। কোনো নেতার বক্তব্যের প্রতিবাদ করতে গিয়ে অন্য কোনো জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো উচিত নয়। যে নীতির ভিত্তিতে ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করা হচ্ছে, সেই একই নীতি সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া দরকার।

ধর্মীয় মর্যাদা কোনো রাজনৈতিক কৌতুকের বিষয় নয়

বিশ্বের মানুষ আজ নানা রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মতপার্থক্যের মধ্যে বসবাস করছে। এ অবস্থায় পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একজন রাজনীতিকের বক্তব্য যদি মানুষকে একে অপরের কাছাকাছি আনার বদলে পরিচয়ের ভিত্তিতে দূরে ঠেলে দেয়, তবে তার পরিণতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মোহাম্মদ’ নাম নিয়ে বিদ্রূপ সেই প্রশ্নই সামনে এনেছে। তিনি ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমালোচনা করতে পারতেন, নিজের নীতির পক্ষে যুক্তি দিতে পারতেন। কিন্তু তার বদলে মুসলমানদের মধ্যে বহুল প্রচলিত একটি নামকে ঠাট্টার বিষয় বানানো ছিল অপ্রয়োজনীয় ও অসম্মানজনক। একজন রাষ্ট্রপ্রধানের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়।

মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিকে সম্মান করা মানে তাঁদের সঙ্গে সব বিষয়ে একমত হওয়া নয়। এর অর্থ হলো, মতপার্থক্য থাকলেও তাঁদের বিশ্বাস, পরিচয় ও মানবিক মর্যাদাকে খাটো না করা। একই সম্মান বিশ্বের প্রতিটি ধর্ম ও জনগোষ্ঠীর প্রাপ্য।

ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিবাদ তাই শুধু মুসলমানদের আবেগের প্রশ্ন নয়; এটি সমান মর্যাদা, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রশ্নও। যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের সামনে এখন সুযোগ রয়েছে, তাঁরা এমন রাজনৈতিক ভাষাকে সমর্থন করবেন, নাকি ভোটের মাধ্যমে জানিয়ে দেবেন যে ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিদ্রূপ গ্রহণযোগ্য নয়।

কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের পদ তাঁকে অন্যের ধর্মীয় মর্যাদায় আঘাত করার অধিকার দেয় না। ক্ষমতা সাময়িক, কিন্তু মানুষের বিশ্বাস ও আত্মমর্যাদার প্রশ্নটি গভীর। সেই সত্য মনে রেখেই ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানো এবং আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে জবাবদিহি দাবি করা প্রয়োজন।

লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাংবাদিক

monir
Admin

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও