শ্রীমঙ্গলে টমটম চুরির গডফাদার ধরা, গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

মো: জহিরুল ইসলাম

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায়  বিগত কয়েক বছর ধরে  ইজিবাইক বা টমটম চুরি হচ্ছে  প্রতিদিনের উপার্জনের একমাত্র সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন সাধারণ চালকেরা।

ছবি মুক্তিবাণী

এক  পরিসংখ্যানে দেখা যায়, উপজেলায় গড়ে প্রতি মাসে অন্তত ১০ থেকে ৩০টি টমটম কিংবা গাড়িগুলোর মূল্যবান ব্যাটারি চুরির ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে চুরির পর পুরো গাড়ির সন্ধান মেলে না, আবার কখনো বডি বা বডি অংশবিশেষ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায়  পাওয়া গেলেও উধাও হয়ে যায় মূল্যবান ব্যাটারিগুলো।

ছবি মুক্তিবাণী

টমটম চোরদের গড ফাদার দুজনকে  আটকের বিষয়ে নিশ্চিত করেন শ্রীমঙ্গল থানার ওসি সরকার আব্দুল্লা আল মামুন।

ছবি মুক্তিবাণী

ভৈরব বাজার, ইমামবাজার ও আশপাশের এলাকায় সৈয়দ মহিন আলীর আরও কয়েকটি কারখানা ও গুদাম থাকতে পারে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে তারা চুরিকৃত  টমটম ও এর যন্ত্রাংশের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এএসআই আবু তালেব ও এএসআই সুমনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি থেকে তিনটি টমটম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা টমটমগুলোর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় এগুলো চোরাই কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি বিভিন্ন টমটমের খোলা যন্ত্রাংশও উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে,প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক সৈয়দ মহিন আলীর বিরুদ্ধে পুরোনো ও সন্দেহজনক টমটম এবং অন্যান্য গাড়ি কেনার পর সেগুলোর যন্ত্রাংশ খুলে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। পরে এক গাড়ির যন্ত্রাংশ অন্য গাড়িতে সংযোজন করে সম্পূর্ণ টমটম তৈরি করে তা বিক্রি করা হতো বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

পুলিশ জানায়, একটি টমটম চুরির ঘটনায় আটক রিপন মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভৈরবগঞ্জ বাজারের ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রহিম মিয়া নামে আরও একজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে রহিম মিয়া বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

এ বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, স্থানীয় জনতা গনপিটুনি দিয়ে তাদের খবর দিলে আমরা গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে কয়েক টমটম উদ্ধার করে নিয়ে থানায় আনছি আসামী দুজন সহ।  এবিষয়ে  তদন্ত এখনো চলমান।

চোর চক্রের গডফাদার  মূল হোতাসহ ২ জনকে হাতেনাতে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে কাছে  সোপর্দ করেছে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ কয়েকটি চুরি হওয়া কয়েকটি  টমটম উদ্ধার করে।

যেভাবে উদ্ধার হলো চুরি হওয়া টমটম:

২৯ সেপ্টেম্বর  মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে ভৈরববাজার এলাকার ‘মদিনা অটো অ্যান্ড পার্টস’ দোকানে এক ভুক্তভোগী নারী তাঁর সম্প্রতি চুরি হয়ে যাওয়া টমটম গাড়িটি দেখতে পান। অনুসন্ধান ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যে জানা যায়, চক্রটি চুরি যাওয়া টমটম ও ব্যাটারি কম দামে কিনে । এরপর ওই দোকানের গ্যারেজ বা শো-রুমে নিয়ে রাতারাতি গাড়িগুলো পার্টস বাই পার্টস খোলে  ফেলাে এতে টমটম গাড়ি গুলো শনাক্তের  উপায় না রেখে অন্য জায়গায় বিক্রি করে দিত। ওই নারীর গাড়ির সূত্র ধরেই তাদের মূল আস্তানার সন্ধান মেলে।

আটককৃত চক্রের মূল হোতা: স্থানীয়দের মতে, পুরো উপজেলায় সংগঠিত প্রায় সব টমটম চুরির ঘটনার মূল ডিলার ও নিয়ন্ত্রক এই চক্রটি। গণপিটুনি দিয়ে জনতা তাদের কে  পুলিশের কাছে  সোপর্দ করা দুজন কে তারা হলেন  মৌলভীবাজার সদরের গিয়াস নগর ইউনিয়নের কালিয়ার গাঁও এলাকার  সৈয়দ তালেব আলীর  এর ছেলে ১. সৈয়দ মহির আলী (৩৭), শ্রীমঙ্গল উপজেলাধীন  মুসলিমবাঘ এলাকার মো: হেলাল মিয়ার ছেলে ২. রিপন মিয়া (১৮)।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ১৫ মিনিটে ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের গণপিটুনি দেয় এবং পরবর্তীতে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের হাতে তাদের তুলে দেয়। থানার ভুক্তভোগী অনেকেই ভিড় জমায় তাদের টমটম চুরি হওয়ার গাড়ির ডকুমেন্টস নিয়ে, তাদের দাবী তাদের দুজনকে চালান করলে সাজা কেটে জেল হতে বের হবে কিন্ত আমাদের ক্ষতিপূরণ পাবো না।

ঘটনার সতত্যা নিশ্চিত করে শ্রীমঙ্গল থানার  (ওসি)  সরকার আব্দুল্লা আল মামুন জানান, “আটককৃত দুজন ব্যাটারি ও টমটম চুরি চক্রের সাথে জড়িত। কয়েকটি টমটম উদ্ধার করা হয়েছে।  তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মুক্তিবাণী

পাঠকের মন্তব্য

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও