শ্রীমঙ্গলে সচেতনতা তৈরিতে নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্য সেবায় ১১ নারী সম্মাননা

মো: জহিরুল ইসলাম

শ্রীমঙ্গলে সচেতনতা তৈরিতে নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্য সেবায় ১১ নারী সম্মাননা

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চা-বাগান এলাকার নারী ও কিশোরীদের মাসিক স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য অধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখায় ১১ জন স্থানীয় নারী প্রশিক্ষককে সনদ ও সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) শহরের ভানুগাছ সড়কের মহসিন অডিটোরিয়ামের চতুর্থ তলার হলরুমে গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের সম্মাননা দেওয়া হয়।

গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের ‘উঠান পেরিয়ে দুই পা ২.০’ কর্মসূচির আওতায় শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান এলাকায় ১০৫টি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকের মাধ্যমে ১ হাজার ৫৮০ জন নারী ও কিশোরীর কাছে মাসিক স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, সামাজিক কুসংস্কার ও ভুল ধারণা বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কর্মসূচির আওতায় ১৭ জন পুরুষ কমিউনিটি সদস্য এবং কালিঘাট চা-বাগান উচ্চবিদ্যালয়ের ৫৮ জন ছাত্রীও অংশ নেয়।

শ্রীমঙ্গলে সচেতনতা তৈরিতে নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্য সেবায় ১১ নারী সম্মাননা

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সিনথিয়া তাসনিম।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুর নাহার পারভিন, আলোর দিশারীর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি পরিতোষ তাঁতী এবং গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সভাপতি আহমেদ ফাউমি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শারিফা সাম্মি ঐশি।

বক্তারা বলেন, চা-বাগান এলাকার নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতন করতে স্থানীয় নারী প্রশিক্ষকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাঁদের নেতৃত্বে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে নারীদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা, সামাজিক সংকোচ এবং প্রচলিত ভুল ধারণা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।

শ্রীমঙ্গলে সচেতনতা তৈরিতে নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্য সেবায় ১১ নারী সম্মাননা

আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচির শুরুতে পরিচালিত জরিপে অংশ নেওয়া নারী চা-শ্রমিকদের ৯৩ শতাংশ মাসিকের সময় অস্বাস্থ্যকর ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অনুসরণ করতেন। মাসিকজনিত বিভিন্ন সমস্যার কারণে তাঁদের কর্মদিবস হারানোর পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিরও মুখোমুখি হতে হতো।

গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার বর্ষা আহমেদ বলেন, কালিঘাট চা-বাগানের নারীদের নিয়ে আমাদের এ উদ্যোগ বাংলাদেশের প্রান্তিক নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলমান কার্যক্রমের একটি অংশ। গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সব নারীর জন্য মাসিক সমতা নিশ্চিত করতে চায়।

শ্রীমঙ্গলে সচেতনতা তৈরিতে নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্য সেবায় ১১ নারী সম্মাননা

প্রধান অতিথি সিনথিয়া তাসনিম বলেন, তারুণ্যনির্ভর গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের কাজটি সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে একটি সুস্থ ও সচেতন নারী জনগোষ্ঠী গড়ে উঠবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগে স্থানীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুর নাহার পারভিন বলেন, মাসিকসংক্রান্ত সমস্যার কারণে নারী চা-শ্রমিকেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। একই কারণে অনেক নারী শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ে। তাই এ ধরনের উদ্যোগ দেশের সব বিদ্যালয় ও চা-বাগানে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।

শ্রীমঙ্গলে সচেতনতা তৈরিতে নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্য সেবায় ১১ নারী সম্মাননা

অনুষ্ঠানে উঠান পেরিয়ে দুই পা ২.০’ কর্মসূচির বিভিন্ন পর্যায়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভিডিও প্রদর্শন, উন্মুক্ত আলোচনা ও ছবি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এ সময় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ১১ জন স্থানীয় নারী প্রশিক্ষককে সনদ ও সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে রিজিক রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মাইনুল ইসলাম সানি, সরকারি কর্মকর্তা এবং চা-বাগানের স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিটির আর্থিক অংশীদার ছিল শ্রীমঙ্গলের রিজিক রেস্টুরেন্ট। আয়োজকেরা জানান, চা-বাগান জনগোষ্ঠীর নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য অধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি এবং স্থানীয় পর্যায়ে নারী নেতৃত্বকে উৎসাহিত করাই ‘উঠান পেরিয়ে দুই পা ২.০’ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

শ্রীমঙ্গলে সচেতনতা তৈরিতে নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্য সেবায় ১১ নারী সম্মাননা

মুক্তিবাণী

ফেসবুকে

সর্বশেষ আপডেট

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


ভিডিও