![]()
রাজধানী ঢাকায় আবারও গভীর রাতে আতঙ্ক ও নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার মধ্যরাত পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে অগ্নিসংযোগ এবং কুরিয়ার ভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সাধারণ পথচারী ও নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, পরাজিত ফ্যাসিবাদের দোসর ও পতিত আওয়ামী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং জনমনে ভীতি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এসব নাশকতা চালাচ্ছে। রাজপথের এই অপশক্তি এবং তাদের নেপথ্যের কারিগরদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জন্য ঢাকাজুড়ে চিরুনি অভিযান চালানোর জোরালো দাবি উঠেছে।
![]()
শনিবার দিবাগত রাত ১টার পর যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা মোড়ে পরপর তিন থেকে চারটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। যাত্রাবাড়ী থানার এসআই সালাউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।
এর আগের দিন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) এক রাতেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অন্তত আটটি ককটেল বিস্ফোরণ ও একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আদাবর, শাহবাগ, বিমানবন্দর, খিলগাঁও ও মিরপুরের কালশী এলাকায় এসব বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হেলমেট পরিহিত দুর্বৃত্তরা নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেলে এসে আকস্মিকভাবে ককটেল নিক্ষেপ করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করছে।
শুক্রবার রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে শাহবাগ থানার আইবি গেটের সামনে পুলিশের ডিউটি গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর রাত ১২টা ১ মিনিটে জুলাই চত্বরের পাশে আরেকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয় বলে জানান শাহবাগ থানার এসআই আব্দুল খালেক।
এর আগে সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটের দিকে খিলগাঁওয়ে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরের ভেতরে অজ্ঞাত স্থান বা ছাদ থেকে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খিলগাঁও থানার ওসি সাইফুল ইসলাম।
এদিন রাত ৯টা ৫ মিনিটে আদাবর থানার সামনে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। রাত পৌনে ১২টার দিকে বিমানবন্দর গোলচত্বরের উড়ালসড়ক থেকেও দুটি ককটেল ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। অন্যদিকে, মিরপুরের কালশী মোড়ে নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেলে এসে ককটেল নিক্ষেপের দৃশ্য ইতোমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে।
শুক্রবার গণপরিবহন ও কুরিয়ার ভ্যানেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। প্রগতি সরণির কোকাকোলা ক্রসিংয়ে সাভার-নতুন বাজার রুটে চলাচলকারী ‘বৈশাখী পরিবহন’-এর একটি বাসে সরাসরি আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া রায়েরবাজার কাঁচাবাজারের সামনে এ জে আর কুরিয়ার সার্ভিসের একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেওয়া হয়। এতে ভেতরে থাকা অধিকাংশ মালামাল ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঢাকার বাইরে মানিকগঞ্জ, ধামরাই ও খাগড়াছড়িতেও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজধানীজুড়ে কড়া নজরদারি ও পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
তবে সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি বিড়ি বা সিগারেটের আগুন থেকে সৃষ্ট দুর্ঘটনা বলে জানিয়েছেন রমনা থানার ওসি মো. ইয়াছিন মিয়া।
রাজধানীতে রাতের আঁধারে ধারাবাহিক এসব হামলার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নেটিজেনরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলছেন, বিগত ১৬ বছর ধরে দেশজুড়ে সহিংসতা চালানো আওয়ামী সন্ত্রাসীরাই আবারও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে।
নেটিজেনদের মতে, রাতের আঁধারে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদর দপ্তর, জুলাই চত্বর এবং গণপরিবহন লক্ষ্য করে হামলা চালানো সরাসরি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ওপর আঘাত। সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, সিসিটিভি ক্যামেরা ও আধুনিক প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও চিহ্নিত মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা কীভাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে?
সচেতন নাগরিকেরা রাজধানীর অলিগলি এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীদের আস্তানাগুলোতে সাঁড়াশি ও চিরুনি অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও ককটেল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। কালশী, শাহবাগ ও যাত্রাবাড়ীর সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্টভাবে দেখা যাওয়া মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি, মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে রাতে নিয়মিত তল্লাশিচৌকি বসিয়ে নম্বরপ্লেটবিহীন মোটরসাইকেল চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবি জানানো হয়েছে।
দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার কোনো ষড়যন্ত্রই সাধারণ জনগণ মেনে নেবে না বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকেরা। রাজপথে আবারও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টায় জড়িত ব্যক্তি ও তাদের নেপথ্যের মদদদাতাদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান ও কঠোর চিরুনি অভিযানের বিকল্প নেই বলেও তাঁরা মনে করছেন।










